নিলামবাজার (অসম), ১৪ এপ্রিল (হি.স.) : দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা এলাকার নিলামবাজারে অগ্নিনির্বাপক কেন্দ্রের নির্মাণকাজে ব্যাপক দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ভবনটির বিভিন্ন স্থানে বিশাল বিশাল ফাটল ধরেছে। কাজের কোনও তথ্য ফলকও লাগানো হয়নি। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অগ্নিনির্বাপক কেন্দ্রটি চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের হাতে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা নিয়েছেন ঠিকাদার। কিন্তু উদ্বোধনের ঠিক আগেই নবনির্মিত ভবনের নিম্নমানের কাজের চূড়ান্ত নমুনা প্রকাশ্যে এসেছে।
নবনির্মিত অগ্নিনির্বাপক কেন্দ্রের দ্বারোদ্ঘাটনের আগেই খসে পড়তে শুরু করেছে বাউন্ডারি দেওয়ালও। উত্তর সীমানার দেওয়াল যে কোনও সময় ধসে পড়ে লাগোয়া বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দমকলের ইঞ্জিন রাখার জন্য নির্মিত গ্যারেজের দেওয়াল সহ সমস্ত ভবনে অসংখ্য বড় ফাটল ধরা পড়েছে। নিম্নমানের কাজ লুকোতে তড়িঘড়ি রং লাগিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বহু বড় বড় ফাটল। বাউন্ডারি দেওয়ালের উপরে লাগানো লোহার সুরক্ষা বলয়ও ক্রমাগত খসে পড়ছে। অগ্নিনির্বাপক কেন্দ্রটির অত্যন্ত নিম্নমানের কাজে নমুনা সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিজেপির প্রদেশ কমিটির সদস্য শিপ্রা গুণ। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে কাজের গুণগত মান পরীক্ষা না করে উদ্বোধন করতে দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিপ্রা।
এ বিষয়ে জেলাশাসককে অবগত করানোর পাশাপাশি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনবেন বলে জানান শিপ্রা গুণ। বিজেপি সরকারের আমলে কোনও ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। কর্তৃপক্ষ ও বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারের উদ্দেশ্যে এভাবেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি নেত্রী।
২০১৯-২০ অর্থবর্ষে নিলামবাজারের যাত্রাপুরে অবস্থিত পশু হাসপাতাল ক্যাম্পাসে সরকারি জমিতে স্হায়ী অগ্নিনির্বাপক কেন্দ্র স্হাপনের জন্য রাজ্য সরকার প্রায় দেড় কোটি টাকা মঞ্জুর করে। কাজের বরাত পেয়েছেন বহির্জেলা হাইলাকান্দির ফারুক আহমদ মজুমদার। চলতি মাসেই নবনির্মিত অগ্নিনির্বাপক কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক দ্বারোদ্ঘাটনের খবর রয়েছে। কিন্তু তার আগেই কেন্দ্রটির নির্মাণকাজের গুনগত মান সহ নানা অসঙ্গতি ও দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আর এতে দ্বার উদ্ঘাটন পর্ব নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিজেপি নেত্রী শিপ্রা গুণ নির্মীয়মাণ অগ্নিনির্বাপক কেন্দ্রের কাজ পরিদর্শন করে নির্মাণকাজে সংগঠিত নানা অসঙ্গতি ও দুর্নীতি সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। বলেন, এমন নড়েবড়ে ভবনে স্হায়ী ফায়ার স্টেশন চালু করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তাই বিশেষ তদন্তের মাধ্যমে কাজের অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে নড়বড়ে নির্মাণ ভেঙে পূর্ণ সংস্কার না করা পর্যন্ত উদ্বোধন করতে দেবেন না তাঁরা।
প্রসঙ্গক্রমে শিপ্রা বলেন, আমি কোনও ইঞ্জিনিয়ার নই, তবুও নির্মাণকাজের বাস্তব নমুনা দেখেই অনুমান করা যাচ্ছে, ব্যাপক দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছে। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনও ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে সঠিক তদন্ত করালেই ‘দুধ কা দুধ অউর পানি কা পানি হো যায়েগা’। পুরো কাজটাই বাতিল করা হবে বলে মন্তব্য করে ম্যাজিস্টেট পর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে নড়েবড়ে নির্মাণকাজ পুনঃসংস্কারের পাশাপাশি দুর্নীতিগ্রস্ত ঠিকাদার ফারুক আহমেদ মজুমদারের লাইসেন্স ব্ল্যাক লিস্টেড করার দাবি তুলেন শিপ্রা গুণ।

