নয়াদিল্লি, ১০ জানুয়ারি (হি.স.) : হঠাৎ অস্থির হয়ে ওঠা মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম দেশ কাজাখস্তানে অশান্তি অব্যাহত। গত এক সপ্তাহের দাঙ্গায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি। হিংসায় অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিককেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রবিবার জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই মারাত্মক হিংসার কারণে প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, ১০০টিরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকে হামলা ও লুটপাট এবং প্রায় ৪০০ যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কাজাখস্তানের প্রধান শহর আলমাটিতে ১০৩ জন মারা গেছে, যেখানে সবচেয়ে ভয়াবহ হিংসাত্বক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
সোমবার কাজাখ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এরলান তুরগুমবায়েভ বলেন, আজ দেশের সব অঞ্চলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। দেশে শৃঙ্খলা ফেরাতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছে। ১২৫টি পৃথক তদন্তের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোট ৫,১৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রায় ১৯ মিলিয়ন মানুষের জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশটি এক সপ্তাহের সহিংসতায় কেঁপে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ ‘দেখা মাত্র গুলি’ করার আদেশ জারি করেন। এক সপ্তাহ আগে পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রাদেশিক এলাকায় জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়। এ ফলে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। দেশটির স্বাধীনতার ৩০ বছরের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ হিংসা, যে ঘটনায় পুলিশ সরাসরি গুলি চালায়।
এদিকে, টোকায়েভের আমন্ত্রণে কাজাখস্তানের এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া । শুক্রবারই সেখানে পৌঁছে গিয়েছে ২৫০০ রুশ সেনা। অশান্ত এলাকাগুলিতে রীতিমতো ঘাঁটি গেড়ে বসেছে পুতিনের সেনাবাহিনী। আর তা নিয়েই প্রশ্ন তুলল আমেরিকা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশসচিব ব্লিঙ্কেন কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ”সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, একবার রাশিয়াকে যদি নিজের ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়, তো সেখান থেকে তাদের বের করা খুবই কঠিন। এই অবস্থার কথা মাথায় রাখতে হবে ।

