আগরতলা, ১০ জানুয়ারি : ত্রিপুরায় এই প্রথমবার ৫০০ জন মহিলা কনস্টেবল নিয়োগ করা হচ্ছে। টিপিএসসি ছাড়াও প্রায় ২৮০০ পুলিশ কর্মী নিয়োগ করছে সরকার। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। তাঁর কথায়, পুলিশ সপ্তাহ কর্মসূচি থেকে শুরু করে আগামী পুলিশ সপ্তাহ কর্মসূচি পর্যন্ত এক বছরের জন্য অন্তত একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তার সফল বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। নিষিদ্ধ নেশাদ্রব্যের স্বমূলে উৎখাত ও যুব সম্প্রদায়কে এর অশুভ সংস্পর্শ মুক্ত রাখতে সবার অঙ্গীকারবদ্ধ প্রয়াস নিতে হবে। যা অন্যান্য অপরাধ প্রবণতা হ্রাসেও সহায়ক ভূমিকা নেবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন ও কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন। তারপর স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির ও রাষ্ট্রীয় একতা দিবস ও মোটর সাইকেল র্যালি শীর্ষক ফটো গ্যালারির উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন। রাজ্য পুলিশ বিভাগে ২০২১ সালে যারা কর্মক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছেন এবং শ্রেষ্ঠ থানা, জেলা ও অন্যান্য বিভাগে সার্বিক সাফল্যপূর্ণ কৃতি জ্য পুলিশকে গৌরবান্বিত করেছেন তাদের পুরস্কৃত দ্বারা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য থেকে ঐক্য ও সংহতির বার্তাবাহী ২৫টি বাইকে চড়ে পুলিশ ও টিএসআর জওয়ানগণ গুজরাতের কাপাডিয়ায় সম্পন্ন হওয়া সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিবসে অংশগ্রহণকারীদের সাথেও মতবিনিময় করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, ত্রিপুরার অগ্রগতিতে এবং সমৃদ্ধশালী রাজ্য নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে পুলিশের। নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় ড্রাগমুক্ত প্রথম রাজ্য হিসেবে ত্রিপুরাকে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধভাবে কাজ করছে রাজ্য সরকার। এর সাথে কোনোভাবেই আপোস করবে না সরকার। অসুরক্ষিত পন্থায় নেশাদ্রব্য গ্রহণের ফলে এইচআইভি আক্রান্ত হচ্ছে যুব সমাজ। এদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে অভিভাবক সহ সব অংশের মানুষের। এই ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণের ফলে সমাজে চুরি, ছিনতাই, মহিলা সংক্রান্ত অপরাধ সহ অন্যান্য অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অবৈধ নেশা কারবারের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের কোনোভাবেই ছাড়া হবে না। অন্যায়ভাবে বাহ্যিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে ত্রিপুরার মাটি থেকে এই ধরনের নেশা দ্রব্যের ব্যবহার মুছে ফেলতে দৃঢ়তার সাথে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশ, টিএসআর, এসপি ও মহিলা পুলিশ মিলিয়ে সম্প্রতি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন নিযুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার পাশাপাশি মহিলাদের সম্মানজনক অংশীদারিত্ব সুনিশ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় এই প্রথমবার ৫০০ জন মহিলা কনস্টেবল নিয়োগ করা হচ্ছে। টিপিএসসি ছাড়াও প্রায় ২৮০০ পুলিশ কর্মী নিয়োগ করছে সরকার। বিগত দিনে টিএসআর-র মতো বাহিনীতে যোগদানে অনাগ্রহী মহিলারাই বর্তমানে এক নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাহিনীতে যোগদানে এগিয়ে এসেছেন। বিগত দিনের অপরিকল্পিত নিয়োগ নীতি থেকে বেরিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন পদে প্রতিবছর নিয়োগের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়গুলিও সরকারের আন্তরিক বিবেচনায় রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাজ্য পুলিশ৷ আগামীদিনেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। সম্ভাব্য কোভিড পরিস্থিতিতে তিনি জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠান থেকে সংকল্প নিয়ে কোনও একটি বিষয়ে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করা প্রয়োজন। আগামীদিনে রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন সম্মানজনক পুরস্কার প্রাপকের তালিকায় মনোনীত হতে রাজ্য পুলিশের সমস্ত বিভাগ ও ব্যক্তির মধ্যে নিষ্ঠাপূর্বক কার্যসম্পাদন প্রচেষ্টা ও স্বাস্থ্যকর ইতিবাচক প্রতিযোগিতা জারি থাকবে বলে আশাব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক ভি এস যাদব বলেন, মহিলা সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা হ্রাস, জনজাগরণমূলক একাধিক কর্মসূচি সহ সাফল্যের সাথে কাজ করছে ত্রিপুরা পুলিশ। পুলিশ ও ট্রাফিকি ব্যবস্থায় আনা হয়েছে বিভিন্ন আধুনিকীকরণ। ই-চালান সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটাইজেশন যুক্ত করা হচ্ছে। নেশার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠতার সাথে কাজ করছে ত্রিপুরা পুলিশ। বিভিন্ন অবৈধ নেশাজাতীয় সামগ্রী উদ্ধার, মামলা গ্রহণ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সহ বিভিন্ন সাফল এসেছে। টিএসআর বাহিনীতে স্পেশাল অপারেশনাল দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশি সহায়তা প্রদানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী হেল্পলাইন সহ অন্যান্য টোল ফ্রি নম্বরগুলি। সদ্য সম্পন্ন নগর নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন সম্পন্ন করতে যথার্থ ভূমিকা নিয়েছে রাজ্য পুলিশ। নির্ধারিত পদগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলছে। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া পদোন্নতির ফলে বিভিন্ন পদের শূন্যতা পূরণ হচ্ছে। কর্তব্য পালনের পাশাপাশি সামাজিক কর্মসূচিতেও নিয়োজিত রয়েছে পুলিশ বাহিনী। আগামীদিনের রূপরেখা তৈরি করে কাজ চলছে। এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এডিজি পুনীত রস্তোগী প্রমুখ। বিভিন্ন পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে চারটি ব্যান্ড প্ল্যাটুন সহ মোট ১২টি প্ল্যাটুন অংশগ্রহণ করে। এগুলি হলো যথাক্রমে টিএসআর প্রথম বাহিনী, টিএসআর দ্বিতীয় বাহিনী, টিএসআর সপ্তম বাহিনী, টিএসআর দশম বাহিনী, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পুলিশ প্ল্যাটুন, মহিলা পুলিশ প্ল্যাটুন, ট্রাফিক পুলিশ প্ল্যাটুন, হোমগার্ড প্ল্যাটুন। চারটি ব্যান্ড প্ল্যাটুন হলো যথাক্রমে কেটিডি সিং পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি- ব্যান্ড প্ল্যাটুন, টিএসআর প্রথম বাহিনী ব্যান্ড প্ল্যাটুন, টিএসআর দ্বিতীয় বাহিনী ব্যান্ড প্ল্যাটুন ও হোমগার্ড ব্যান্ড প্ল্যাটুন। তারপর রাজ্য থেকে মোটরসাইকেল র্যালি করে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসে অংশগ্রহণকারীরাও মুখ্যমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান।

