করিমগঞ্জের ছন্তরবাজারে নবনির্মিত এমইউ ভবন এবং বৈদ্যুতিক ট্র্যান্সফর্মারের অর্থ আত্মসাৎ, সিবিআই তদন্ত চেয়ে প্ৰধানমন্ত্ৰীক চিঠি

করিমগঞ্জ (অসম), ৮ জানুয়ারি (হি.স.) : করিমগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ছন্তর বাজারের নবনির্মিত মাল্টি ইউটিলিটি ভবনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। ভবন নির্মাণের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ট্র্যান্সফর্মার বসানোর নামে বিশাল পরিমাণের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকেই শহরবাসী সহ ছন্তর বাজারের ব্যবসায়ীরা এ সম্পর্কে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কাজের-কাজ কিছুই হচ্ছিল না। এবার মাল্টি ইউটিলিটি ভবন নির্মাণ ও ট্র্যা ন্সফর্মার বসানো নিয়ে সংগঠিত দুর্নীতির সিবিআই তদন্ত দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছে ছন্তর বাজার ডেভেলপমেন্ট কমিটি।

কমিটির তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্মারকপত্র পাঠিয়ে সংগঠিত দুর্নীতির সিবিআই তদন্ত দাবি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত করা হয়েছে পুরসভাকে। স্মারকপত্রে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে ছন্তরবাজারে মাল্টি ইউটিলিটি ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এখানে পুরনো শেড ভেঙে নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়। ব্যবসায়ীরা ভবনের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরসভার তরফে তাঁদেরকে পাত্তা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভবন একটি নির্মাণ হলেও এখানে কেউই ব্যবসা করতে আগ্রহী নন। কয়েক বছর ধরে এমনিতে পড়ে রয়েছে ভবনটি। বরং রাতের অন্ধকারে এখানে মদের আড্ডা জমে ওঠে বলেও স্মারকপত্রে অভিযোগ করেছে কমিটি।

স্মারকপত্ৰে তাঁরা লিখেছেন, এই ভবনে ব্যবসায়ীরা না গিয়ে রাস্তার কাছে পসরা নিয়ে বসছেন। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এর পরও পুরসভা ব্যরবসায়ীদের ওই ভবনে নিয়ে যেতে ব্যর্থ। কংগ্রেসের বোর্ড থাকাকালীন নির্মিত মাল্টি ইউটিলিটি এই ভবনের জন্য ট্র্যান্সফর্মার ক্রয় করতে ১৬ লক্ষ টাকা মঞ্জুর হয়। কিন্তু কংগ্রেস বা বিজেপি বোর্ড কেউই ট্রান্সফর্মার বসানোর উদ্যোগ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেছে ডেভেলপমেন্ট কমিটি।

স্মারকপত্রে অভিযোগ করে কমিটির তরফে বলা হয়েছে, তাঁরা খবর নিয়ে জানতে পেরেছেন, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মারের পুরো অর্থ নাকি খরচ হয়ে গেছে। ট্রান্সফর্মার না বসিয়ে ষোলো লক্ষ টাকা হাপিসের অভিযোগ তুলে এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক নেতার নাম জড়িত থাকার কথাও স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ছন্তরবাজার ডেভেলপমেন্ট কমিটির সভাপতি সন্তোষ দে, সম্পাদক বিষ্ণুপদ দে সহ আরও অনেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রেরিত স্মারকপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।