মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে রিপোর্ট কার্ড নিয়ে মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

আগরতলা, ২ জানুয়ারি (হি.স.) : ত্রিপুরায় পা রেখেই বিজেপি এবং রাজ্য সরকারকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মাত্র তিন মাসে ত্রিপুরায় তৃণমূল প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে। এখন লক্ষ্য ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচন। তিনি বিপ্লব কুমার দেবকে রিপোর্ট কার্ড নিয়ে মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।আজ রবিবার আগরতলায় এসেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্দশ দেবতার মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। পুজো শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ত্রিপুরায় দুয়ারে গুণ্ডা-মডেল কাজ করছে। বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলের অফিস ভাঙচুর করছেন, কর্মীদের মারছেন। কিন্তু এভাবে তৃণমূলকে দমানো যাবে না। তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় বিজেপির জন্য এক ছটাক জমিও ছাড়বে না তৃণমূল।

অভিষেক বলেন, ত্রিপুরার অবস্থা বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট ভেঙে পড়েছে। শুধু অরাজকতা কায়েম করে রেখেছে সরকার। তাঁর কটাক্ষ, ত্রিপুরা সরকার সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মানছে না। শুধু বিরোধীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, মারধর, ভাঙচুর করে তৃণমূলের মনোবল ভাঙা যাবে না।এদিন তিনি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুন, পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরার মধ্যে পার্থক্য বেরিয়ে আসবে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১০ বছরের শাসনের সাথে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাত বছরের শাসনের তুলনা করুন। পার্থক্য সহজেই বোঝা যাবে।

তিনি জোর গলায় বলেন, একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই বিজেপির মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে গোয়া হয়ে ত্রিপুরা, সর্বত্রই আমরা সক্রিয়। আমরা বিজেপির শক্তি এবং তদন্তকারী সংস্থা ব্যবহারে ভীত নই। আজ অভিষেক প্রবল আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, ত্রিপুরায় বিপ্লব কুমার দেবের শেষের শুরু হয়ে গেছে। তিন মাসে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে তাঁর দল। তাঁর কটাক্ষ, মাত্র তিনমাসে ২৩ শতাংশ ভোট দখলের প্রবণতা দেশের অন্য কোনও রাজ্যে দেখা যায়নি।তাঁর আবেদন, ত্রিপুরার জনগণ স্বৈরাচারের অবসান ঘটাতে ব্যালট বাক্সের সহায়তা নিন। অভিষেকের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস এই ক্ষমতায় এলে রাজ্যে শিক্ষা ও শাসনের উন্নতি হবে। নতুন বছর ত্রিপুরা এবং রাজ্যের জনগণের জন্য নতুন আশার সূচনা করবে।