আগরতলা, ২১ ডিসেম্বর (হি.স.) : লম্ফ-ঝম্ফই সার। ত্রিপুরা জনজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের (টিটিএএডিসি) নিজস্ব পুলিশ বাহিনী গঠনের স্বপ্ন আপাতত হিমঘরে ঠাঁই পেয়েছে। কারণ, ১০ দিনের বিশেষ অধিবেশন ছাড়া পুলিশ বিল কার্যকর সম্ভব নয়, বুঝতে পেরে বর্তমান জেলা পরিষদ এখনই অধিবেশনে ভোটাভুটির জন্য প্রস্তাবিত বিল পেশ করার বদলে পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে এডিসি-র নিজস্ব পুলিশ বাহিনী গঠনের প্রয়াসকে ঘিরে অর্থের ব্যবস্থা কোথা থেকে হবে, প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। তাছাড়া, অর্থ দফতরের মঞ্জুরি ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর সম্ভব নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার এডিসি-র অধিবেশনের অন্তিম দিনে পুলিশ বিল ভোটাভুটির জন্য পেশ করার সূচি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এখনই পুলিশ বিল ভোটাভুটির জন্য পেশ করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন এডিসি-র চেয়ারম্যান জগদীশ দেববর্মা। তিনি বলেন, পুলিশ সার্ভিস বিল এ মুহূর্তে ভোটাভুটির জন্য অধিবেশনে পেশ করা হচ্ছে না। কারণ, ওই বিল পাশ হওয়ার ক্ষেত্রে ১০ দিনের বিশেষ অধিবেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। ওই অধিবেশনে পুলিশ বিল নিয়ে বিস্তারিত হবে। এর পরই ভোটাভুটি সম্ভব বলে জানান তিনি।
তাঁর কথায়, ১৯৯৭ সালে জেলা পরিষদের পুলিশ সার্ভিস বিল অনুমোদনের সাপেক্ষে রাজ্যপাল ১০ দিনের বিশেষ অধিবেশন রুলস তৈরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই বিশেষ অধিবেশনে রুলস তৈরি না হলে এডিসি পুলিশ বিল পাশ করাতে পারবে না। ফলে, আজ অধিবেশনের অন্তিম দিনে ভোটাভুটির জন্য ওই বিল পেশ করা হবে না।
এ-বিষয়ে আলোচনায় নির্বাহী সদস্য চিত্তরঞ্জন দেববর্মা বলেন, রাজ্যপালের অনুমোদনের পর বিল আইনে পরিণত হয়ে যায়। তবে, সংবিধান মোতাবেক নতুন আইন প্রণয়নে আর্থিক প্রয়োজনীয়তা থাকছেই। তাঁর কথায়, বিল অনুসারে ১,২০০ কনস্টেবল এবং হেড কনস্টেবল এডিসি-র সম্পত্তি রক্ষায় নিয়োগ করা হবে। সাথে তাঁরা ছোটখাট অপরাধও মোকাবিলা করবে। তাছাড়া, ইনস্পেক্টর, সব-জোনাল অফিসার, অতিরিক্ত মুখ্য পুলিশ আধিকারিক এবং মুখ্য পুলিশ আধিকারিক অধস্তন পুলিশ কর্মীদের পরিচালনা করবেন। তাঁদের রাজ্য পুলিশ বাহিনী থেকে ডেপুটেশনে নিযুক্তি দেওয়া হবে। তাঁদের বেতন কাঠামো রাজ্য পুলিশ সার্ভিসের আদলেই নির্ধারিত হবে।
এদিকে, নিজস্ব পুলিশ গঠন নিয়ে এডিসি প্রশাসনের তরফে লিখিতভাবে কিছুই জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। সাথে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, অর্থের যোগান না করে এডিসি নিজস্ব পুলিশ বাহিনী কীভাবে গঠন করতে চাইছে? তাঁর কটাক্ষ, প্রশাসন পরিচালনা এবং রাজনৈতিক দল চালানোর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে।
তাঁর কথায়, এভাবে কখনও আইন কার্যকর সম্ভব নয়। রুলস কী তৈরি হয়েছে, এডিসি পুলিশ বাহিনী গঠনে কী পরিকল্পনা নিয়েছে এবং বাহিনী কীভাবে কাজ করবে, ত্রিপুরা সরকারকে এ-বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। এডিসি-র পুলিশ বিল নিয়ে রাজ্যপালের সম্মতি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, হয়তো ওই বিল ১৯৯৭ কিংবা ১৯৯৮ সালে অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু ওই বিল কার্যকরে খরচের ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি। অর্থ দফতরের মঞ্জুরি ছাড়া কখনও কোনও সিদ্ধান্ত কার্যকর সম্ভব নয়।
ফলে, টিটিএএডিসি-তে নিজস্ব পুলিশ বাহিনী গঠন আপাতত স্বপ্নেই সীমাবদ্ধ থাকছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ, সংবিধান প্রদত্ত নিয়ম লঙ্ঘন করে কখনও আইন প্রণয়ন সম্ভব নয়। পুলিশ বিলের নির্যাস থেকে স্পষ্ট, নিরস্ত্র পুলিশ বাহিনী গঠনের চিন্তাধারা করছে এডিসি প্রশাসন। তবুও, ত্রিপুরা সরকারের অর্থ দফতরের মঞ্জুরি ছাড়া ওই উদ্যোগ আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়াও বিশেষ অধিবেশনে আলোচনা এবং রুলস প্রণয়নেও নানা জটিলতা রয়েছে। তাই, এডিসি-র নিজস্ব পুলিশ বাহিনী গঠনের প্রস্তাব কার্যত হিমঘরে ঠাঁই নিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

