দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন গন্ডাছড়ার সুধন

গন্ডাছড়া, ১৮ ডিসেম্বর : দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে গন্ডাছড়া ডিগ্রি কলেজের থার্ড ইয়ারের ছাত্র সুধন বাবু চাকমা এগিয়ে চলেছে। দারিদ্রতা তাকে হার মানাতে পারেনি। সংসারে উপার্জনশীল কেউ নেই। বাবা ছিলেন একজন মৎস্যজীবী। ডুম্বুর জলাশয়ে মাছ ধরে যা পেতেন তা দিয়ে সংসার চলত। ভাই বোন মা সহ চারজনের সংসার। বাবা মারা গিয়েছেন দীর্ঘ সাত বছর হবে। শুধন চাকমার বাড়ি নাক্কাছড়া ভিলেজের যাত্রাধন পাড়ায়।
সুধন মাধ্যমিকের গণ্ডিতে পাড়া রাখা অবস্থায় বাবা মারা যান। উপার্জনের একমাত্র মা ছিলেন। মা পাড়ার মানুষের বাড়িতে কাজ করে গন্ডাছড়া ডিগ্রী কলেজের বর্তমানে ছেলেকে থার্ড ইয়ারে পড়াশোনা করিয়েছেন। চার মাস হয়েছে মাও মারা যান। সংসারে ছিল একমাত্র বড় বোন। মা থাকাকালিন বোনের বিবাহ হয়েছিল। ভগ্নিপতি মা থাকাকালীন তাদের মধ্যে দারিদ্রতা নিয়ে সংসারী ঝামেলা হতো বলে বোনকে ছেড়ে দেন। বোন তার দুই ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতে এসে পড়েছে। সুজন দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন, আমি নিজের দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে এক বেলা এক মুঠো অন্ন জোগাড় করতে পারছিনা। তার উপর বোন দুই সন্তানকে নিয়ে হাজির হয়েছেন। নিজের লেখাপড়া তার উপর বোনের ছেলেদের লেখাপড়া। তাও হার মানেনি দারিদ্রতার সাথে। লড়াই করে চারজনের ভরণপোষণ লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।
২৪ বছরের যুবক  সুধন চাকমা বলেন, রেশন কার্ড আছে বিপিএল। নেই মাথা গোঁজার মত একটি বসত ঘর। এই ভিলেজে প্রধানমন্ত্রী যোজনার ৪৭টা ঘর আসলে তাদের ভাগ্যে জুটেনি একটিও ঘর। তিনি বলেন, নাই বলে ভাগ‍্যকে দোষারুপ করিনি। দারিদ্রতাকে দোষারুপ করছি। তিনি বলেন, যাদের ঘর আছে তারা ঘর পাচ্ছেন। অথচ আমার ঘর নেই; তবুও আমি পাই নি। কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ভগবান যা করেন তা মঙ্গলের জন্যই করেন।