নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/চুড়াইবাড়ি/কল্যাণপুর, ১৪ ডিসেম্বর৷৷ রাজ্যের পৃথক স্থানে তিনজনের ফাঁসিতেচ ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ জানা গিয়েছে, সাতসকালে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বর্ডার গোল চক্কর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে৷ মঙ্গলবার রাজধানী আগরতলা শহরের বর্ডার গোলচক্কর এলাকায় বাজারের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে৷
এদিন মৃতদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন৷ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে৷ মৃত ব্যক্তির নাম নারায়ন দেব বাড়ি চান্দিনামুড়া এলাকায় বলে জানা গেছে এবং পেশায় ওই ব্যক্তি গাড়ি চালক বলে চিহ্ণিত হয়েছে৷
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ নয় দশ বছর ধরে ওই ব্যক্তি বর্ডার গোলচক্কর এলাকায় থাকতেন৷ তিনি ভীষণ মদ্যপান করতেন৷ গতকাল রাতেও তাকে মদের ঠেক থেকে বের হতে দেখেছেন স্থানীয়রা৷ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন বাজারের ওই পরিত্যক্ত ঘরে ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন৷ তিনি ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে৷ সে অনুযায়ী পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু জনিত মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷
তবে এর পেছনে অন্য কোন রহস্য আত্মগোপন করে রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷ সাতসকালে বর্ডার গোলচক্কর বাজারের পরিত্যক্ত ঘরে ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনগণ রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে উঠেন৷ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ক্রমে আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য স্থানীয় জনগণ দাবি জানিয়েছেন৷
এদিকে, উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগর এলাকায় দুই নাবালিকার আত্মহত্যর রেশ কাটতে না-কাটতে ফের ঘটে গেল অনুরূপ এক ঘটনার৷ আজ মঙ্গলবার সকালে পানিসাগর থানাধীন পশ্চিম পানিসাগরের এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জনৈক সুনীলচন্দ্র নাথের বছর ২২-এর ছেলে পেশায় ফলবিক্রেতা সঞ্জয় নাথ (২২)-এর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে তার বাড়ির গোয়ালঘরে৷
ধারণা করা হচ্ছে, মৃত সঞ্জয় গতকাল রাতে পরিবারের লোকজনদের নজর এড়িয়ে নিজের বাড়ির গোয়ালঘরের কড়িকাঠের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন৷ আজ সকালে মৃত সঞ্জয়ের মা গোয়ালঘরে প্রবেশ করলে তাঁর নজরে পড়ে বড় ছেলের ঝুলন্ত দেহ৷ এই দৃশ্য দেখে বুকফাটা আর্তনাদে জড়ো হন আশপাশের মানুষ৷
ঘটনার খবর দেওয়া হয় পানিসাগর থানায়৷ খবর পেয়ে পুলিশ এসে মৃতদেহের প্রাথমিক এনকুয়েস্ট করে ময়না তদন্তের জন্য ধর্মনগরে সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়৷ ময়না তদন্তের পর বিকেলের দিকে সঞ্জয়ের মৃতদেহ তার পরিবারবর্গের হাতে সমঝে দিয়েছে পুলিশ৷
জানা গেছে, আত্মঘাতী সঞ্জয় সবে বিএ পাশ করে বিএড করার স্বপ্ণ নিয়ে পড়াশুনা করার পাশাপাশি প্রাইভেবট টিউশন এবং ফলের ব্য বসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন৷ এমতাবস্থায় কী কারণে তিনি আত্মহত্যা র পথ বেছে নিলেন তা তার পরিবার বা গ্রামের কেউই বুঝতে পারছেন না৷
প্রেমে প্রত্যাখ্যান হয়ে কি যুবক আত্মঘাতী ? এই প্রশ্ণই ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মধ্যে৷ যদিও পরিবারের লোকজন মুখ খুলতে নারাজ৷ প্রায় সময়ই মোবাইল নিয়েই থাকতো যুবক৷ পড়াশুনায় ভাল ছিল৷ বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করেই সংসার প্রতিপালন করতেন৷ একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন৷সোমবার রাতে কল্যাণপুরের দুর্গাপুর গ্রামে নিজ ঘরে ফাঁসিতে আত্মঘাতী হলো এক যুবক৷ তখন যুবকের মা-বাবা কেউ ছিল না বাড়িতে৷ মৃতের নাম রমেশ দাস (১৯)৷ সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ নিজের ঘরেই ফাঁসিতে ঝুলে পরে বিধু দাসের পুত্র রমেশ৷
সে খোয়াই কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলো৷ ফাঁসিতে ঝুলে পরার পর হটাৎ এক আত্মীয়ের তা নজরে আসে৷ পরক্ষনেই তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে কল্যাণপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার বাবুরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা দেন৷ ঠিক কি কারণে ঐ যুবক আত্মঘাতী হলো তা এখনই জানা না গেলেও এর পেছনে প্রেম সংক্রান্ত বিষয় যুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা৷ রমেশ এর অকাল মৃত্যু তে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে৷
ঘটনার তদন্তে নেমেছে কল্যাণপুর থানার পুলিশ৷ কল্যাণপুর থানার এসআই প্রিয় রঞ্জন সাহা জানান আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয় মৃতদেহ৷ যুবকের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে৷ কল্যাণপুর হাসপাতালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে পরিবারের সদস্য৷ সবেমাত্র যৌবনে পা৷ কেনই বা আত্মহত্যার পথ বেছে নিল৷ আসল রহস্য কি উন্মোচন হবে না লুকিয়ে থাকবে৷ পুলিশি তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে৷ যুবকের নাকি প্রায় সময় মোবাইল ব্যবহার করত৷ পুলিশ সঠিক তদন্ত করলে মোবাইলের তথ্য ধরে অনেক কিছু বেরিয়ে আসতে পারে৷ কারন যেকোনো আত্মহত্যার ঘটনার পেছনে কোন না কোন কারণ লুকিয়ে থাকে৷ তিনি পরদিন আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে কেন ?

