নিজস্ব প্রতিনিধি, কল্যাণপুর, ৯ ডিসেম্বর৷৷ রঙ্গিন নেশায় আসক্ত যৌবন পুলিশ শীত ঘুমে৷’ বিপিন বাবুর কারণ সুধা৷ মেটায় জ্বালা মেটায় ক্ষুধা৷ মরা মানুষ বেঁচে উঠে৷ এমনি যে তার জাদু৷ ’ অমানুষ ছবির এই জন প্রিয় গান যেন বিষ হয়ে বাস্তবে অনবরত ছোবল মারছে কল্যাণপুর বাসীকে৷ দেশি ও বিলাতি মদে ভাসছে গোটা কল্যাণপুর৷ নুতন এক ব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়েছে তা হলো হোম ডেলিভারি৷ যারা নিজেদের লাট সাহেব ভাবেন বিত্তের জন্য তারা বাজার থেকে মদ কেনেন না৷ তেনারা একটি ফোন করলেই ঘরে মদ হাজির৷বাজারের অনেক দোকান এবং ঘুপচি তে এই অবৈধ মদ বিক্রি হয়৷ কিন্তু কল্যাণপুর থানার পুলিশ যেন নিধিরাম সর্দার৷
সব অফিসার অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র যেন সেজে বনে বসে আছেন৷ মাঝেমধ্যে পুলিশ মদ বিরোধী অভিযান করেন৷ কিন্তু তা নামকুয়াস্তে৷কল্যাণপুরে সাধারণ অপরাধ এর মাত্রা এমন নয় যে পুলিশ কে সদাই ব্যস্ত থাকতে হয়৷ কিন্তু এর পর ও এই অবৈধ মদ বিক্রি তে কোন লাগাম নেই৷ এতে নতুন প্রজন্ম ধবংস হয়৷ কিন্তু একটু বেশি টাকা খরচ করলেই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে মদ এর রঙিন বোতল৷ সামান্য রাত হলে মদ্যপ দের জন্য রাস্তায় রীতিমতো হাঁটা মুশকিল৷ মহিলারা কোন রকমে সম্ভ্রম বাঁচিয়ে চলেন৷ এই সব মদ বিক্রেতারা কল্যাণপুরে সুন্দর নিরিবিলি শ্যামলী রূপ টাই নষ্ট করে দিচ্ছে৷ দুর্গাপূজার সময় কল্যাণপুর থানার পুলিশ বেশ কয়েকটি মদ বিরোধী অভিযান চালিয়েছিল৷ কল্যাণপুর এর ঘিলাতলী, মোহরছড়া, তোতা বাড়ি’’ পশ্চিম গিলাতলী বাগানবাজার সহ এডিসি এলাকা দেশি মদের কারখানা হয়ে উঠেছে৷
দিন নেই রাত নেই মদ তৈরী ও বিক্রি হচ্ছে৷ এডিসি এলাকা থেকে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী পাইকারি দামে তা কিনে কল্যাণপুর আনছেন৷ সূত্রের খবর কেউ কেউ আবার বাইকে করে উপজাতির জনপদ থেকে কল্যাণপুর শহর এলাকায় মদ সাপ্লাই করছেন৷এর পর তা ছড়িয়ে পড়ছে৷ মদে মানুষ যেমন অসুস্থ হচ্ছে তেমনি আর্থিক ভাবেও শেষ হয়ে যাচ্ছে৷ এক এক করে এই অবৈধ মদের কারণে শেষ হয়ে যাচ্ছে এক একটি দরিদ্র পরিবার৷ কোন উৎসব অনুষ্ঠানে তো মদের ফোয়ারা ছুটে৷ এমন কি কারো শবদেহ সৎকার করতেও এখন মদ লাগে৷ এক এক সময় ভাবনা হয় যে এ কোন সংসৃকতির দিকে যাচ্ছি আমরা৷ কিন্তু নেশার মতো ভয়ঙ্কর ভাইরাস কে নির্মূল করবে কে৷ শুধু পুলিশ কে দোষ দিয়ে কাজ হবে না৷ নিজের মূল্যবোধ নিজের বিবেক যদি জাগ্রত না হয় তাহলে পুলিশ একা কি করবে৷ তাছাড়া এখন শীতের সময়ে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত সন্ধ্যার পর বিভিন্ন দোকানে বেশ জমিয়ে বসে মদের আসর৷ শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের দাবী পুলিশ বা আবগারি দপ্তর কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করলে কমবে রঙিন নেশা৷

