ত্রিপুরায় দুই তৃণমূল কর্মী আক্রান্ত, অভিযুক্ত শাসক দল, বিজেপির মতে দলীয় অন্তর্কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ

আগরতলা, ২৮ আগস্ট (হি. স.) : তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে নিজ বাসভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ সরাসরি শোনার ব্যবস্থা করেছিলেন মুজিবুর ইসলাম মজুমদার। তার আগেই দুষ্কৃতীদের হামলায় রক্তাক্ত হলেন তিনি। সাথে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কলকাতা থেকে আসা এক কর্মীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে সন্ধ্যার বিমানে কলকাতায় নেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় অভিযোগের আঙ্গুল বিজেপির দিকেই উঠেছে। তবে বিজেপির পাল্টা দাবি, ওই হামলা দলীয় অন্তর্কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ।

আজ তৃণমূল ছাত্র পরিষদ প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করেছে। কলকাতায় হয়েছে মূল অনুষ্ঠান। সেখানে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দিয়েছেন। ত্রিপুরায় তৃণমূল কর্মীরা মমতার ভাষণ সরাসরি শোনার ব্যবস্থা করেছিলেন। বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বাহারুল ইসলাম মজুমদারের ভাই মুজিবুর ইসলাম মজুমদার সদ্য তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তিনি মিলন চক্র স্থিত নিজ বাসভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ সরাসরি শোনার ব্যবস্থা করেছিলেন। সে মোতাবেক অন্য কর্মীদের বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু, ভাষণ শুরু হওয়ার আগেই দুষ্কৃতীদের তান্ডবে সব লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে চেয়ার, স্কুটি ভেঙে চুড়মার করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, দুষ্কৃতীদের লাঠির আঘাতে মুজিবুর ইসলামের হাত ভেঙ্গেছে। এছাড়া কলকাতা থেকে আসা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মী শুভঙ্কর দেবনাথের মাথায় ও মুখে প্রচন্ড আঘাত লেগেছে। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা করেছে।

ঘটনা সম্পর্কে মুজিবুর ইসলাম মজুমদার বলেন, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে তান্ডব চালিয়েছে। তাদের লাঠির আঘাতে আমার হাত ভেঙ্গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাতে অস্ত্রোপচার করতে হবে। এদিকে শুভঙ্কর দেবনাথ বলেন, লাঠি হাতে নিয়ে কয়েকজন দুষ্কৃতী আমাকে বেদম মেরেছে। তাতে আমার মাথায় ও মুখে প্রচন্ড আঘাত লেগেছে।

ওই ঘটনার পর মিলন চক্র এলাকায় ভীষণ উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। পুলিশ আসার আগেই দুষ্কৃতিকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেন বলেন, ত্রিপুরায় গণতন্ত্রের নমুনা দেখা যাচ্ছে। বিরোধীরা সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাইরে বের হলে বিজেপি আশ্রিত গুন্ডারা মারছেন। বাড়ির ভেতর কর্মসূচি পালনেও তাঁরা মারমূখী হচ্ছেন। তাতে তৃণমূল দমে যাবেনা, হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন তিনি।

ওই ঘটনায় বিজেপি মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, ত্রিপুরায় অস্থিরতা তৈরী করা তৃণমূলের আসল উদ্দেশ্য। অবশ্য তাঁদের মধ্যে বিভাজন আছে তা প্রমাণিত। আজকের ঘটনা দলীয় অন্তর্কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।