ত্রিপুরায় জন আশীর্বাদ যাত্রায় উষ্ণ অভ্যর্থনায় ভাসলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক

আগরতলা, ১৬ আগস্ট (হি. স.) : ত্রিপুরা থেকে প্রথম ভূমিকন্যা হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন প্রতিমা ভৌমিক। আজ ত্রিপুরায় এসেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে ত্রিপুরায় ফেরার পর বিমান বন্দর থেকেই জনউচ্ছ্বাসে ভাসলেন তিনি। বিজেপি যুব মোর্চার বিশাল বাইক মিছিল তাঁকে বিমান বন্দর পার্টি মুখ্য কার্যালয়ে নিয়ে গেছে। পথে হাজারো মানুষ ফুল দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। বিজেপি কর্মকর্তারা কোথাও ব্যান্ড পার্টি, কোথাও খোল-করতাল সাথে মহিলারা উলু ধ্বনি নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন। দলীয় কর্মকর্তা এবং ত্রিপুরাবাসীর উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়ে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পরেন। পার্টি মুখ্য কার্যালয়েও ছিল একই চিত্র। ভিড়ে ঠাসা মুখ্য কার্যালয়ে প্রতিমা ভৌমিকের সুরক্ষা ব্যবস্থায় নিরাপত্তা কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়েছে। প্রত্যকেই প্রতিমা ভৌমিককে কাছে থেকে শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানাতে চাইছিলেন। মূলত, জন আশীর্বাদ যাত্রায় মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পরেন তিনি। এদিন প্রদেশ কার্যালয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিমার বার্তা, ত্রিপুরাবাসীর সাথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেতুবন্ধনের কাজ করব আমি।


আজ ত্রিপুরায় প্রতিমা ভৌমিকের ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। বিমান বন্দরে নেমেই তিনি হাটু গেড়ে বসে সকলের উদ্দেশ্যে প্রনাম জানান। এরপর তিনি বিমান বন্দরে মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্যের প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। সেখান থেকে তিনি প্রদেশ কার্যালয়ে যান। প্রদেশ কার্যালয়ে দলের প্রদেশ সভাপতি সহ অন্য পদাধিকারী ও বিধায়কদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে তিনি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এবং উপ মুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেব্বর্মার সাথে দেখা করেছেন। তাঁরা প্রতিমা ভৌমিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। মাঝে তিনিমেহের কালীবাড়িতে পূজা দিয়েছেন। এরপর তিনি হেলিকপ্টারে উত্তর ত্রিপুরা জেলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেছেন। উত্তর ত্রিপুরা ও ঊনকোটি জেলায় তাঁর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। ওই দুই জেলায় কর্মসূচি শেষে তিনি ধলাই জেলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন। রাতে ধলাই জেলা সদর আমবাসায় পূর্ত দফতরের ডাকবাংলোতে প্রবীণ কার্যকর্তাদের সাথে বৈঠক ও রাতের আহার সারবেন। চারদিনের জন আশীর্বাদ যাত্রায় তিনি ত্রিপুরায় সমস্ত জেলা পরিদর্শন করবেন।


এদিন তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী সমগ্র দেশকে এক নজরে দেখেন। তাই, তিনি মন্ত্রিসভায় সকল অংশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব রেখেছেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, মহিলা ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ১১ জন মহিলা মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রতিমা ভৌমিকের কথায়, এই প্রথম উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে অত্যাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলকেও উন্নত করার অঙ্গীকার নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই, এখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে ৫ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। তিনি আবেগের সুরে বলেন, ত্রিপুরাকে এভাবে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে অতীতে কোন সরকার ভাবেনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছোট্ট পাহাড়ী রাজ্য ত্রিপুরা থেকেও প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ের সুরে বলেন, ত্রিপুরাবাসীর সাথে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সেতুবন্ধনের কাজ করব।