নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ জুলাই৷৷ মুষলধারে বৃষ্টি ত্রিপুরায় চারটি জেলায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে৷ সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে খোয়াই জেলায়৷ সারা রাজ্যে মোট ২১টি ত্রাণ শিবিরে ৫৫৬ পরিবারের ২১৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন৷ তাঁদের প্রশাসনের তরফে ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে৷ এছাড়া, বৃষ্টিপাতে মোট ৯টি বসতবাড়ি সম্পুর্ন, ৭৮টি মারাত্মকভাবে এবং ৫২১টি বসতবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ বহু এলাকা জলমগ্ণ হয়ে পড়েছে৷ ধলাই জেলায় আমবাসা মহকুমায় নাইলাফা পাড়া এলাকায় জাতীয় সড়কে জল জমে যাওয়ায় একটি পেট্রল ট্যাঙ্কার এবং একটি পণ্যবাহী গাড়ি উল্টে গেছে৷
রাজ্য দুযর্োগ মোকাবিলা দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, অবিরাম বর্ষণে খোয়াই নদীর জল বিপদসীমার খুব কাছাকাছি বইছে৷ জেলাজুড়ে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে৷ ফলে, বহু মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে৷ প্রশাসনের তরফে খোয়াই জেলায় ১৩টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে৷ তাতে ৩৫৩ পরিবারের ১৪১২ জন সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন৷ এদিকে, খোয়াই জেলায় ৩৬৩টি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ ভারী বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্থ সিপাহীজলা জেলায় বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ণ হয়ে পড়েছে৷ ফলে, স্থানীয় মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে৷ জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট অনুযায়ী সিপাহিজলা জেলায় ৮টি ত্রাণ শিবিরে ২০৩ পরিবারের ৭২৫ জন সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন৷ তাঁদের প্রশাসনের তরফে ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে৷ এদিকে, সিপাহীজলা জেলায় ১টি বসতঘর সম্পুর্ন, ৬৩টি মারাত্মকভাবে এবং ৬৯টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷
এদিকে, ধলাই জেলায় ত্রাণ শিবির খোলার মতো পরিস্থিতি হয়নি৷ কিন্ত, ১টি বসতঘর মারাত্মকভাবে এবং ৯টি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ এছাড়া, আঠারমুড়া পাহাড়ের ৪৫ মাইল এলাকায় আজ গাছ ভেঙ্গে পরে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ ছিল দীর্ঘক্ষণ৷ অন্যদিকে, আমবাসা মহকুমাধীন নাইলাফা পাড়ার শালবাগান এলাকায় জাতীয় সড়কে জল জমে দুইটি গাড়ি দুর্ঘটনাগ্রস্থ হয়েছে৷ স্থানীয় সুত্রে খবর, ওই স্থানে একটি কালভার্ট রয়েছে৷ তার নিচে দিয়ে জল যায়৷ কিন্ত, গতকাল রাতের ভারী বৃষ্টিপাতে কালভার্টের উভয়দিকে মাটি জমে যায়৷ তাতে, সমস্ত জল জমে জাতীয় সড়ক জলমগ্ণ হয়ে পড়ে৷ গাড়ির চালক মনে করেন, কালভার্টের পাশ দিয়ে চলে যাবেন৷ কিন্ত, মাটি নরম হওয়ায় গাড়ি উল্টে যায়৷ তাতে, দীর্ঘক্ষণ ওই স্থান দিয়ে যান চলাচল বন্ধ ছিল৷
তেমনি, ভারী বৃষ্টিপাতে গোমতি জেলায় ৮টি বসতঘর সম্পুর্ন, ১৪টি মারাত্মকভাবে এবং ৮০টি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের তরফে গোমতি জেলায় উদয়পুরে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ ৭৮টি বাড়ির মালিকের হাতে ২.৪ লক্ষ টাকা এবং সম্পুর্ন ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির মালিককে ৩৫ হাজার টাকা ও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির মালিককে ৫২ হাজার টাকা প্রাথমিক সহায়তা বাবদ প্রদান করা হয়েছে৷ প্রশাসনের দাবি, সারা রাজ্যেই ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ চলছে৷
এদিকে, অনুমান ছাড়িয়ে ৪৮৪ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়েছে ত্রিপুরায়৷ আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সারা ত্রিপুরায় ৯১.২ এমএম বৃষ্টিপাত হয়েছে৷ কিন্তু অনুমান ছিল, ১৫.৬এমএম বৃষ্টিপাত হবে৷ এক্ষেত্রে অনুমানের অনেক বেশি বৃষ্টিপাতের দরুন ত্রিপুরায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে৷ নদীগুলি ফুঁসছে৷ ফলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে৷
ত্রিপুরায় জেলাভিত্তিক বৃষ্টিপাতে দক্ষিণ জেলায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে৷ এর পর পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা, সিপাহিজলা জেলা, ধলাই জেলা, গোমতি জেলা, উত্তর ত্রিপুরা জেলা, খোয়াই জেলা এবং উনকোটি জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে৷
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত এবং দিনভর বৃষ্টিপাতে চলতি বর্ষা মরশুমে ইতিমধ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়ে গেছে৷ আগামী কয়েকদিনে আরো ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে৷ এক্ষেত্রে চলতি মরশুমে বৃষ্টিপাত অন্যান্য বছরকে ছাপিয়ে যাবে, তা সহজেই আন্দাজ করা যাচ্ছে৷

