করোনা আক্রান্ত যুবক মানসিক অবসাদগ্রস্থ হয়ে আত্মঘাতী

আগরতলা, ২৩ জুন : করোনা আক্রান্ত যুবক মানসিক অবসাদগ্রস্থ হয়ে ফাসিতে আত্মঘাতী হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে খোয়াই জেলায় সোনাতলা গ্রামের ভবতোষ পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুর জন্য স্থানীয় জনগণ পরিবারের সদস্যদের দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, পরিবারের সদস্যদের আচরণেই ওই যুবক মানসিক অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সোনাতলা গ্রামের ভবতোষ পাড়ায় বাসিন্দা গৌতম শুক্ল দাস রাতের অন্ধকারে বাড়ির পাশেই একটি গাছে ফাসিতে আত্মঘাতী হয়েছেন। আজ সকালে পরিবারের লোকজন তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খোয়াই জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তাঁর একমাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

জানা গিয়েছে, আত্মঘাতী যুবক গৌতম গত ২০ জুন খোয়াই জেলা হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষা করেছিলেন। তাতে তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। করোনা আক্রান্তের খবর শুনেই তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে হোম আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্ত তিনি বাড়িতে আইসোলেশনে থাকবেন বলে চলে যান। কিন্ত ২১ জুন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়। একদিন হাসপাতলে ভর্তি থাকার পর বন্ডসই দিয়ে গতকাল বিকেলে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে আসেন। হাসপাতাল থেকে আসার পর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি।

তাদের বক্তব্য, গতকাল আনুমানিক রাত তিনটা নাগাদ বাড়ির পাশেই একটি গাছে ফাঁসিতে আত্মঘাতী হয়েছেন গৌতম। তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, করোনা আক্রান্ত হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করেছিলেন। তার সাথে আচরণ সঠিক হচ্ছিল না। এমনিতেই তিনি মানসিক অবসাদগ্রস্থ ছিলেন। তার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের আচরণ তাকে চরম পরিণতির জন্য বাধ্য করেছে। পুলিশ অবশ্য একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নিয়েছে।