সাব্রুমে উচ্ছেদের নোটিশ ঘিরে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ মে৷৷ করোণা কারফিউ চলাকালে সাব্রুম নগর পঞ্চায়েত এর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খাস জমি থেকে উচ্ছেদের নোটিশ ঘিরে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে৷ একদিকে করোণা মহামারীর কারণে রাজ্যে করোনা কারফিউ জারি রয়েছে, অন্যদিকে ঠিক এই সময়েই সরকারি খাস জায়গাতে বসবাসকারীদের তিনদিনের মধ্যে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করা হয় সাবরুম নগর পঞ্চায়েত এর তরফ থেকে৷ তাতে রীতিমত হতচকিত খাস জায়গাতে বসবাসকারীরা৷


সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ৭নং ওয়ার্ডের স্থানীয় মেলার মাঠ ও বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ণ এলাকায় বসবাসকারী তিনটি পরিবার এ ধরনের নোটিশ পেয়েছেন৷ একটি রেশন শপ ও একটি বেকারীকে গত ২৮শে মে নগর প্রশাসনের তরফ থেকে তিন দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার তুঘলকী ফরমান জারি করা হয়৷ নোটিশ প্রাপকদের মধ্যে একজন প্রসেনজিৎ দাস পেশায় লন্ড্রি দোকানদার৷


অসহায় ওই ব্যক্তি জানান যে নগর প্রশাসনের তরফ থেকে সোমবারের মধ্যেই তাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়৷ কিন্তু অন্য কোথাও তার থাকার জায়গা নেই৷ স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে সে এখানে বসবাস করছে দীর্ঘদিন ধরে৷ কিন্তু যদি সেখান থেকে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যায় কোথায় আশ্রয় নেবে৷ এ ব্যাপারে ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছে না অসহায় লন্ড্রি দোকানের মালিক৷ তিনি আরো জানান ,তার জন্ম এখানেই হয়েছে৷উনার বাবা এখানেই ছিলেন তারা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে৷


এই জায়গাতে বসবাস করে আসছেন৷ কিন্তু হঠাৎ এই করোণা মহামারীর সময় যেখানে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না সেখানে তারা তাদের ঘর ছেড়ে দিয়ে কোথায় গিয়ে উঠবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না৷ এই জায়গায় বসবাসকারী অন্য এক বাসিন্দা জানান যে, তিনি বিয়ের পর থেকে প্রায় ৪০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন৷কিন্তু এই মহামারীর সময় এভাবে প্রশাসনের তরফ থেকে তাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নোটিশের পর তারা এখন কোথায় গিয়ে উঠবেন? এছাড়াও এই জায়গায় একটি রেশন শপও রয়েছে৷
এত কম সময়ের নোটিশে তিনি তার রেশন শপটি কিভাবে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাবেন! এই মহামারীর সময় সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের কার্যনির্বাহী আধিকারিক তথা মহকুমা শাসক তড়িৎ কান্তি চাকমার এরকম তুঘলকী ফরমানে শুধু ওই এলাকায় বসবাসকারীরাই নয়, হতচকিত নগর এলাকার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন জনগণও৷ নগর পঞ্চায়েত এর দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ণ উঠেছে বিভিন্ন মহলে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *