এলাকাভিত্তিক লকডাউনের বিষয়ে ভাবছে রাজ্য সরকার : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৭ মে (হি. স.)৷৷ এলাকাভিত্তিক লকডাউনের বিষয়ে ভাবছে ত্রিপুরা সরকার৷ তবে, প্রয়োজন হলে সারা ত্রিপুরায় লকডাউনের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে সরকার৷ শুক্রবার একথা সাফ জানালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তাঁর কথায়, এখনই সম্পুর্ন বন্ধ করার মত পরিস্থতি আসেনি৷


এদিন তিনি বলেন, জনবহুল এলাকায় ইতিমধ্যে নৈশকালীন কারফিউ জারি রয়েছে৷ তেমনি, সংক্রমণ বৃদ্ধির গতি প্রকৃতির দিকে ক্রমাগত নজর রাখা হচ্ছে৷ তাঁর কথায়, শহর এবং গ্রামীণ বাজার এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে নাকি কমছে তার দিকে প্রতিনিয়ত নজর রয়েছে৷ এক্ষেত্রে প্রয়োজনে মাইক্রো ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
তাঁর মতে, প্রয়োজনে নির্দিষ্ট এলাকায় কন্টেনমেন্ট জোন বানিয়ে কিংবা এলাকাভিত্তিক লকডাউনের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে৷ কারণ, সম্পুর্ন রূপে বন্ধ করার পরিস্থিতি আসেনি এখনও৷ তাঁর সাফ কথা, প্রয়োজনে সম্পূর্ণ লকডাউন-এ প্রস্তুত রয়েছে ত্রিপুরা সরকার৷


ত্রিপুরায় করোনার সংক্রমণ ফের তিনশোর গন্ডি পার করে ফেলেছে৷ গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৩১৫ জন করোনা আক্রান্তদের সন্ধান মিলেছে৷ অবশ্য, আবারও নমুনা পরীক্ষার সংখ্যায় বৃদ্ধির কারণেই অধিক মাত্রায় করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে৷ তাতে, দেখা যাচ্ছে, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে৷ তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ফের ১ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ কিন্তু, ১১৭ জন করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি-ও পেয়েছেন৷ তবে চিন্তা রীতিমত বাড়িয়ে রেখেছে, নতুন করে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ১৮৯ জন শুধু পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় অবস্থান করছেন৷ শুধু তাই নয়, পুর নিগম এলাকায় ২, ৫, ৪৫, ৪৬ এবং ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড সংক্রমণ-এ শীর্ষে রয়েছে৷ বর্তমানে ত্রিপুরায় সক্রিয় করোনা আক্রান্ত রয়েছেন ২১৭৪ জন৷


স্বাস্থ্য দফতরের মিডিয়া বুলেটিন অনুসারে, গত ২৪ ঘন্টায় আরটি-পিসিআর ৯১৬ এবং র্যাপিড এন্টিজেনের মাধ্যমে ৪২৬৭ জন মোট ৫১৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তাতে, আরটি-পিসিআর ৪৪ জন এবং র্যাপিড এন্টিজেন-এ ২৭১ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ মিলেছে৷ সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় মোট ৩১৫ জন নতুন করোনা সংক্রামিতের খোঁজ পাওয়া গেছে৷
তবে, সামান্য স্বস্তির খবরও রয়েছে৷ গত ২৪ ঘন্টায় ১১৭ জন করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেয়েছে৷ তাতে, বর্তমানে করোনা আক্রান্ত সক্রিয় রোগী রয়েছেন ২১৭৪ জন৷ প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় এখন পর্যন্ত ৩৬৮৪৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে ৩৪২১২ জন করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থ হয়েছেন৷ বর্তমানে ত্রিপুরায় করোনা আক্রান্তের হার ৪.৯৯ শতাংশ৷ তেমনি, সুস্থতার হার ৯২.৯৯ শতাংশ৷ এদিকে মৃতের হার ১.০৯ শতাংশ৷ এখন পর্যন্ত ত্রিপুরায় ৪০২ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন৷

স্বাস্থ্য দফতর সুত্রে খবর, ক্রমাগত পশ্চিম জেলা সংক্রমণে শীর্ষে থাকছে৷ শুধু তাই নয়, পুর নিগম এলাকায় ২, ৫, ৪৫, ৪৬ এবং ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড সংক্রমণ-এ শীর্ষে রয়েছে৷ ফলে, ওই ওয়ার্ড এলাকায় কন্টেনমেন্ট জোন করার চিন্তাভাবনা চলছে৷ পশ্চিম জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় সংক্রমণ আবারও দেড় শতকের গন্ডি পার করে ফেলেছে৷ নতুন করে পশ্চিম জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৮৯ জন, দক্ষিণ জেলায় ৪০ জন, গোমতি জেলায় ৭ জন, ধলাই জেলায় ১০ জন, সিপাহীজলা জেলায় ১২ জন, উত্তর ত্রিপুরা জেলায় ৩০ জন, উনকোটি জেলায় ১২ জন এবং খোয়াই জেলায় ১৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ তাতে, দেখা যাচ্ছে, প্রত্যেক জেলায় করোনার সংক্রমণ অতি দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *