আগরতলা, ১৬ এপ্রিল (হি.স.)৷৷ সারা দেশের সাথে ত্রিপুরায়ও ভয়াবহ হচ্ছে করোনা-র প্রকোপ৷ তাই, আগামীকাল ১৭ এপ্রিল থেকে ত্রিপুরায় সমস্ত সুকল ও কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ আজ শুক্রবার এই তথ্য দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা মাথায় রেখে শিক্ষা দফতর আগামীকাল থেকে ত্রিপুরা সরকারের অধীনে সকল সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ তবে ঘোষিত সমস্ত পরীক্ষা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে৷ তিনি জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারীদের উপস্থিতি পরীক্ষার দিন ছাড়া ৫০ শতাংশ থাকবে৷ এছাড়া পুনরায় অনলাইন ক্লাস শুরু হবে৷
তিনি জানান, আজ শিক্ষাদপ্তর, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ স্বাস্থ্য সুুরক্ষার বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হলেও অনলাইন ক্লাস যথারীতি চালু থাকবে৷ শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিদ্যালয়ের, মহাবিদ্যালয়ের, মাদ্রাসার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব ঘোষিত পরীক্ষাসূচি অপরিবর্তিত থাকবে৷ এক্ষেত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সময় সমস্ত ধরণের স্বাস্থ্যবিধি পালন করা হবে৷ কোনও ছাত্র-ছাত্রীকে মাস্ক পরিধান ছাড়া বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবেনা৷ বিদ্যালয়ে শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মচারীদের উপস্থিতি পরীক্ষার দিন ছাড়া ৫০ শতাংশ থাকবে৷ তাছাড়াও বিদ্যালয়ে কোনও ধরণের জমায়েত, খেলাধূলা, সাংসৃকতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা যাবেনা৷
সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে বর্তমানে ৩৩৬ জন সক্রিয় করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন৷ এরমধ্যে ২২ জন জিবি হাসপাতালে এবং ৮ জন শালবাগানস্থিত বি এস এফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন৷ বাকীরা হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন৷ তিনি জানান, রাজ্যের সব জায়গায় করোনা টিকাকরণ চলছে৷
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সিবিএসই দশম এবং দ্বাদশের পরীক্ষা স্থগিত রেখেছে৷ কেন্দ্রীয় বোর্ডের ওই সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন রাজ্য সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করেছে৷ ত্রিপুরায়ও করোনা-র প্রকোপ ক্রমাগত বাড়ছে৷ ফলে, শিক্ষা দফতর আজ এ-বিষয়ে বৈঠক করেছে৷ ওই বৈঠকে সুকল-কলেজে পঠন-পাঠন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে৷
এদিকে, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এখনো অনেকটা সময় রয়েছে৷ তাই, পরিস্থিতি বুঝে সময় মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷ আজ সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এ-কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ৷ তাঁর মতে, এখনই পরীক্ষা বাতিল কিংবা স্থগিত রাখার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ছাত্রছাত্রী-রা পড়াশোনায় ঢিলেমি দেবে৷ তাতে, তাদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি৷ তাই, এই মুহুর্তে ওই বিষয়ে কিছুই বলছি না৷
প্রসঙ্গত, সিবিএসই পরিচালিত মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বোর্ড৷ দ্বাদশের পরীক্ষা-ও স্থগিত রাখা হয়েছে৷ স্বাভাবিকভাবে ত্রিপুরায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ভবিষ্যত নিয়ে উতন্ঠায় রয়েছে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকগণ৷ এ-বিষয়ে আজ শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় মাধ্যমিক ১৯ মে এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ১৮ মে থেকে শুরু হওয়ার সূচী নির্ধারিত হয়েছে৷ ফলে, এখনো আমাদের হাতে ১ মাস সময় রয়েছে৷ তাই, এই মুহুর্তে ওই বিষয়ে কিছু বলছি না৷ তাঁর মতে, পরিস্থিতি এক মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে গেলে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে৷ কিন্ত, করোনা পরিস্থিতি কি অবস্থায় গিয়ে দাড়ায় তা না দেখে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া এই মুহুর্তে উচিত হবে না৷
তিনি বলেন, আগাম কোন ঘোষণা ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতি করবে৷ কারণ, পরীক্ষা বাতিল কিংবা স্থগিত রাখার বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশুনায় ঢিলেমি দেবে৷ কিন্ত, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে সূচী অনুযায়ী পরীক্ষা হলে তাদের ভীষণ সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ তাই, সময় মতো পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, জানান তিনি৷ সাথে তিনি যোগ করেন, তৃতীয় শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা ২৮ এপ্রিল থেকে সূচী নির্ধারিত রয়েছে৷ কিন্ত, করোনা প্রকোপে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷ এছাড়া, কলেজে এই সেমিস্টারেরর পরীক্ষা নিয়ে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সাথে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে, বলেন তিনি৷
তাঁর কথায়, সিবিএসই মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছে৷ ছাত্রছাত্রীদের জন্য কি ব্যবস্থা নিয়েছে তা স্পষ্টভাবে কিছুই জানায়নি৷ ফলে, সিবিএসই মাধ্যমিক-র ছাত্রছাত্রীদের জন্য কি ব্যবস্থা নেয় তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সাফ কথা তাঁর৷ তাতে মনে হচ্ছে, করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিলে তবেই সুকল, কলেজ এবং বোর্ড পরীক্ষা স্থগিত কিংবা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেবে ত্রিপুরা সরকার৷

