আগরতলা, ৭ এপ্রিল (হি. স.)৷৷ সরকারি, আধাসরকারি কিংবা বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থার অফিসগুলিতে কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার৷ আজ মুখ্যসচিব এক আদেশে এই পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন৷
তিনি জানান, ২০ জনের বেশি লোক নিয়ে কোনও সভা অনুষ্ঠিত হতে পারবে না৷ অংশগ্রহণকারীদের চেয়ারের মধ্যে কমপক্ষে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং তাদের সবাইকে মাস্ক কিংবা মুখাবরণ পরিধান করতে হবে৷ বৈঠকের শুরুতে এবং শেষে স্যানিটাইজার ব্যবহারের বন্দোবস্ত বাধ্যতামূলক৷ তিনি বলেন, ভবন, টাউন হল, রবীন্দ্র ভবন ও অন্যান্য পাবলিক প্লেসে বড় আকারের অনুষ্ঠান করা যাবে না৷ সরকারি ও বাসভবনের কার্যালয়ে লোক সমাগম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আগাম সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করে আসতে হবে৷ সমস্ত অফিস প্রতিদিন পরিষ্কার ও স্যানিটাইজ করতে হবে৷ অফিসে এবং পাবলিক প্লেসে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ মাস্ক ব্যবহার না করলে জরিমানা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এবং তা কার্যকর করার দায়িত্বে থাকবেন সচিবালয়ের ক্ষেত্রে এস এ দপ্তরের সচিব এবং অন্যান্য অফিসে সংশ্লিষ্ট অফিসের হেড অব অফিস৷ সরকারি অফিসের নিরাপত্তা রক্ষীরা মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেবেন না৷
তাঁর কথায়, কোনও আধিকারিক যদি কোনও কোভিড-১৯ রোগীর সাথে সরাসরি সংস্পর্শে আসেন তাহলে তিনি প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করবেন৷ যারা কোনও কোভিড রোগীর সংস্পর্শে আসেন তারা যার যার শারীরিক অবস্থার প্রতি নজর দেবেন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টেস্ট করাবেন৷ তিনি বলেন, কোনও কর্মচারীর মধ্যে এ আর আই কিংবা আই এল আই-এর লক্ষণ দেখা গেলেই তার হেড অব অফিসকে তৎক্ষণাৎ জানাতে হবে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে৷ কর্মচারী এবং আধিকারিকদের বিনা প্রয়োজনে জমায়েত না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, পুনরায় নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত বায়োমেট্রিক উপস্থিতি বন্ধ থাকবে৷ ঘন ঘন স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে দরজার হাতল ও লিফট ব্যবহারের পর৷
তিনি জানান, খেলাধুলার আসর, প্রতিযোগিতা, যেখানে জমায়েত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে৷ লক্ষণযুক্ত কর্মচারীদের চিহ্ণিত করতে সম্ভব হলে অফিসের সমস্ত প্রবেশ দ্বারে থার্মাল স্ক্রিনিং করতে বলা হয়েছে৷ একমাত্র রোগের লক্ষণ নেই এমন ব্যক্তিদের অফিস চত্বরে ঢুকতে দেওয়া উচিত৷ ৪৫ বছরের ঊর্ধে সমস্ত আধিকারিক ও কর্মচারীদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভ্যাকসিন নিতে উৎসাহিত করা যেতে পারে৷ তিনি বলেন, যদি কোনও ক্ষেত্রে এক বা দুই রোগীর সন্ধান পাওয়া যায় তাহলে তারা বিগত ৪৮ ঘন্টায় যেসব জায়গায় গেছেন সেসব জায়গা জীবাণুমুক্ত করা দরকার৷ সেজন্য সম্পূর্ণ অফিস বন্ধ রেখে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই৷ নিয়ম অনুসারে জীবাণুমুক্ত করে আবার কাজ শুরু করা যেতে পারে৷
তিনি জানান, সরকারি ভবনের প্রবেশদ্বারের কাছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা যেতে পারে৷ পুনরায় নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ভবনে সমস্ত জিম, বিনোদনমূলক কেন্দ্র , ক্র্যাশ বন্ধ থাকবে৷ পায়খানা ও প্রসাধানাগারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান এবং প্রতিনিয়ত জলের থাকতে হবে৷ যে সমস্ত কর্মচারীর ঝুঁকি বেশি যেমন বয়স্ক, গর্ভবতী মহিলা বা অন্যান্য রোগের সমস্যা রয়েছে তাদের বাড়তি সাবধানতা বজায় রাখতে হবে৷ তিনি বলেন, আজ ত্রিপুরা সরকার এই আদেশটি জারি করেছে৷ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে এবং পুনরায় আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে৷

