টিসিএ সম্পাদক তিমির চন্দের বিরুদ্ধে অনাস্থা

আগরতলা, ১৩ মার্চ (হি.স.)৷৷ ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েসন (টিসিএ)-এর সম্পাদক তিমির চন্দের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন অ্যাপেক্স কমিটির সদস্যরা৷ তাই তাঁকে অপসারণের প্রস্তাব বিসিসিআই-এর কাছে পাঠিয়েছেন সংস্থার সভাপতি ডা. মানিক সাহা৷ এছাড়া নতুন সম্পাদক নিয়োগে অনুমতি চেয়েছেন তিনি৷ নতুন সম্পাদক নিযুক্তি পর্যন্ত যুগ্ম-সম্পাদক কিশোর দাসকে ওই পদের যাবতীয় সমস্ত কাজ দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. মানিক৷ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি, অবহেলা এবং অনধিকার হস্তক্ষেপের অভিযোগে তিমির চন্দের বিরুদ্ধে অ্যাপেক্স কমিটির সদস্যরা অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন বলে তিনি দাবি করেন৷


অ্যাপেক্স কমিটির জনৈক সদস্য অভিযোগ করেন, টিসিএ-র সম্পাদক তিমির চন্দ ত্রিপুরার ক্রিকেটের অনেক সুনাম বাড়াবেন, এমনটাই আশা করা হয়েছিল৷ কিন্তু তিনি একের পর এক দায়িত্ব পালনে অবহেলা, গাফিলতি এবং চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, বিসিসিআই সহ-সভাপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য প্রতিনিধি পাঠানোর চিঠি এসেছিল৷ কিন্তু ১৯ দিন ধরে ওই চিঠি তাঁর টেবিলে পড়ে রয়েছে৷ অথচ, কোনও প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি৷ শুধু তা-ই নয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাম করে খেলোয়াড় বাছাই করেছেন তিনি৷ কিন্তু পরবর্তীতে জানা গেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এমন কোনও সুপারিশ করেননি৷ এমন-কি, সিলেকশন কমিটি থাকা সত্ত্বেও ক্রিকেটার বাছাইয়ে তিনি অনধিকার হস্তক্ষেপ করেছেন৷ এমন আরও অনেক কাজকর্ম টিসিএ-র গরিমা নষ্ট করেছে৷ তাই, আজ তাঁর বিরুদ্ধে আমরা অনাস্থা প্রস্তাব এনেছি, বলেন ওই সদস্য৷ তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠক আহ্বান করে তিমির বাবু সময় মতো আসেন না৷ এমন-কি, আজকের বৈঠক তিনি আহ্বান করেছেন৷ অথচ, তাঁকে অনেকবার ফোন করেও পাওয়া যাচ্ছে না৷


এ-বিষয়ে টিসিএ-র সভাপতি ডা. মানিক সাহা বলেন, অ্যাপেক্স কমিটির সকল সদস্যই তিমির বাবুর কাজকর্মে অসন্তষ্ট৷ তাই আজ সকলে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে৷ তাঁর কথায়, আমরা সকলেই নির্বাচিত প্রতিনিধি৷ ফলে, তিমির চন্দের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এসেছে, তাই তাঁকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে৷ তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাব চেয়ে সময় দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু নির্ধারিত সময়ের অনেক বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনও জবাব দেননি৷ শুধু তা-ই নয়, আজকের বৈঠকেও তিনি আসেননি৷ ডা. সাহা বলেন, তিমিরবাবুকে অপসারণের প্রস্তাব বিসিসিআই-এর কাছে পাঠানো হবে এবং নতুন সম্পাদক নিযুক্তির অনুমতি চাওয়া হবে৷ এক্ষেত্রে নতুন ভাবে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিংবা অ্যাপেক্স কমিটির ভোটে নতুন সম্পাদক নিযুক্তি হবে, সমস্ত কিছুই বিসিসিআই-এর নির্দেশের উপর নির্ভর করছে৷ আপাতত সম্পাদকের সমস্ত কাজ সামলানোর জন্য যুগ্ম সম্পাদক কিশোর দাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, বলেন তিনি৷