আগরতলা, ১১ ফেব্রুয়ারি (হি.স.)৷৷ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস এবং পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকারের অভিযোগে আদালত ধর্ষণ ও প্রতারণার দায়ে এক যুবককে দোষী সাব্যস্ত করেছে৷ আগামীকাল সাজা ঘোষণা করবেন বিচারপতি৷
এপিপি অরবিন্দ দেব এই মামলা সম্পর্কে বলেন, ২০১৩ সালের ঘটনায় এখন অভিযোগকারিণী বিচার পেয়েছে৷ তিনি বলেন, আমতলি থানা এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীব পাল পাড়ার একটি মেয়ের সাথে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন৷ ক্রমে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং ওই মেয়ে গর্ববতী হয়ে যায়৷ অরবিন্দবাবু জানান, গর্ববতী হওয়ার পর সঞ্জীবকে তার প্রেমিকা বিয়ের জন্য চাপ দেয়৷ কিন্তু সঞ্জীব ওই মেয়েকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন৷ তাতে আমতলি থানায় একটি মামলা হয়৷ কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওই মামলা বিচারের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছিল৷
তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ২৬ জুন পুলিশ তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়৷ কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় ত্রিপুরায় সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর৷ অরবিন্দবাবু বলেন, অভিযোগকারিণী এরই মধ্যে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন৷ এদিকে আদালতে ১১ জনের সাক্ষী গ্রহণ করে হয়েছে৷ ওই মামলায় মোট চার জন অভিযুক্ত ছিলেন৷ প্রমাণের অভাবে তিনজন বেকসুর খালাস হয়ে গেছেন৷ তিনি জানান, আজ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ধীমান দেববর্মা অভিযুক্ত সঞ্জীব পালকে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৭৬, ৪১৭ এবং ৫০৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন৷ আগামীকাল সাজা শুনাবেন৷
অরবিন্দবাবু উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ-ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত৷ সন্তানদের আরও শিষ্টাচারের মধ্যে রাখা উচিত অভিভাবকদের৷ কারণ, ভালোবাসা ভীষণ পবিত্র৷ কিন্তু তা যেন কোনও রকম নোংরামির পর্যায়ে না পৌঁছে তা অবশ্যই মনে রাখতে হবে৷ ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই সেই শিক্ষা দিতে হবে৷

