দিল্লিতে ইস্রায়েলি দূতাবাসের সামনেবিস্ফোরণের দায় স্বীকার করল জঙ্গি সংগঠন জইশ-উল-হিন্দ

নয়াদিল্লি, ৩০ জানুয়ারি (হি.স.) : দিল্লিতে ইস্রায়েলি দূতাবাসের সামনের ফুটপাতে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন জইশ-উল-হিন্দ।  তাদের টেলিগ্রাম চ্যাট তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সেখানেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে এই ‘সন্ত্রাসবাদী’ সংগঠন। ওই টেলিগ্রাম চ্যাটে জইশ-উল-হিন্দ সংগঠনের পরবর্তী পরিকল্পনার হদিশ মিলেছে বলেও খবর। তবে সেই চ্যাট এখনও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। তাই এ নিয়ে সরকারিভাবে তদন্তকারীদের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

গতকাল বিস্ফোরণের পর ম্যানুয়াল ট্রাকিংয়ে পাশাপাশি টেকনিক্যাল সার্ভেলেন্স শুরু করা হয়। বিশ্বজুড়ে জঙ্গিয়া যেসব চ্যানেলে কথা বলে সেইসব জায়গায় ঢোকার চেষ্টা করে দেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। দেখা যায় টেলিগ্রামে একটি চ্যানেল খোলা হয়। আজ সকাল ৬টা ০৪ মিনিটে ওই চ্যালেনে একটি পোস্ট করে জইশ উল হিন্দ। সেটি দুনিয়ার বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন শেয়ার করা হয়। সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ  ওই অ্যাকাউন্টটি ডিলিটও করে দেওয়া হয়।

ওই টেলিগ্রাফ বার্তায় লেখা হয়েছে, দিল্লির বুকে একটি একটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। আল্লাহর কৃপায় দিল্লির একটি হাই সিকিউরিটি জোনে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটাতে পেরেছে জইশের সেনারা। ভারতের বিরুদ্ধে এভাবেই একটি সিরিজ হামলার সূচনা করা হল। ভারতে যেভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অত্যাচার করেছে এটা তার বদলা। অপেক্ষা করুন। আমরাও অপেক্ষা করছি।

সূত্রের দাবি, এই সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ছক কষছে। এরপরই মুম্বই-সহ একাধিক শহরে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে একটি মুখবন্ধ খামও উদ্ধার হয়েছিল। যেখানে ইস্রায়েলি দূতাবাসের সামনের বিস্ফোরণকে ‘ট্রেলার’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরণের হুমকি দে্ওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর বিস্ফোরণস্থল থেকে আইইডি ও ব্যাটারি খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। বিস্ফোরণের পরই ওই ব্যাটারি ভেঙে টুকরো হয়ে যায়। সেই ব্যাটারির টুকরো এখন খুঁজে দেখেছেন গোয়েন্দারা।

এদিকে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে বিস্ফোরণের পরই  ঘটনাস্থলে ২ সন্দেহভাজনকে নামিয়ে দিতে দেখা যায় একটি গাড়িকে। তারা গাড়ি থেকে নেমে বিস্ফোরণস্থলের দিকে এগিয়ে যায়। ওই গাড়িটি ও তার চালককে চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গাড়ীর দুই আরোহীর স্কেচ আঁকা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *