রিমসএ তিনটি আসনে ওবিসি সংরক্ষণ বাতিল করল ত্রিপুরা হাইকোর্ট

আগরতলা, ১৬ ডিসেম্বর (হি.স.)৷৷ ত্রিপুরায় মেডিক্যালে ভরতির ক্ষেত্রে রিমসএ তিনটি আসনে ওবিসি সংরক্ষণ হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছে৷ তবে, আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণির জন্য ১০টি সংরক্ষণের পক্ষে আদালত রায় দিয়েছে৷ সরকারি আইনজীবী দেবালয় ভট্টাচার্যের কথায়, ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আকিল কুরেশি এবং বিচারপতি এসজি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে৷ তিনি বলেন, ওই তিনটি আসনে নতুন করে কাউন্সেলিং হবে৷


প্রসঙ্গত, রিমসএ ওবিসি সংরক্ষণে তিনটি এবং আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণির জন্য ১০টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে৷ ওই আসন সংরক্ষণকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলায় ত্রিপুরা হাইকোর্ট কাউন্সেলিং চালু রাখা গেলেও কোন প্রার্থীকে ভরতি করা যাবে না বলে অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছিল৷
ওই আদেশের বিষয়ে সরকারি আইনজীবী দেবালয় ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য সংরক্ষিত আসন থেকে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণির প্রার্থী কোনও আসনে সংরক্ষণের সুবিধা পাননি৷ মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া এ-বছর আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজকে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণির জন্য অতিরিক্ত ২৫টি আসন বরাদ্দ করেছে৷ সেখান থেকে ১০টি আসন ওই শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে৷ এছাড়া, রিমসবলেছে তারা কেন্দ্রীয় আইন মেনে ভরতি নেবে৷ এক্ষেত্রে ওবিসি সংরক্ষণ কেন্দ্রীয় আইনের অধীনে বৈধ৷
তবে মামলাকারীর আইনজীবী অরিজিৎ ভৌমিক দাবি করেছিলেন, আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণির জন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায় রাজ্য বিধানসভায় আইন সংশোধন হয়নি৷ ফলে, এই মুহূর্তে রাজ্যে তা কার্যকর করা সম্ভব নয়৷ ওইদিন তিনি বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেছিলেন, গত ৭ নভেম্বর মেডিক্যালে ভরতির জন্য মেডিক্যাল এডুকেশন অধিকর্তা বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন৷ তাতে দেখা গেছে, রিমসএ ওবিসি-র জন্য তিনটি এবং আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণির জন্য ১০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে৷ অরিজিৎবাবুর কথায়, ত্রিপুরায় এসটি ৩১ শতাংশ এবং এসসি ১৭ শতাংশ মোট ৪৮ শতাংশ সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে৷ কিন্তু, ওবিসি এবং আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণির জন্য আসন সংরক্ষণের কোনও আইন ত্রিপুরায় এখনও চালু হয়নি৷

তিনি বলেছিলেন, ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে সংরক্ষণ আইন সংশোধন করেছিল৷ তাতে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণির জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ কিন্তু, এক্ষেত্রে রাজ্যগুলির হাতে ক্ষমতা রয়েছে, তারা চাইলে ওই আইন চালু করতে পারে৷ তিনি বলেন, ওই আইন রাজ্যেও চালু করার জন্য ত্রিপুরা বিধানসভায় কোনও সংশোধনী পাস করানো হয়নি৷ তাই, স্বপ্ণনীল চৌধুরী ওই ভরতি প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ত্রিপুরা হাইকোর্টে মামলা করেন৷ কারণ, এরই মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাউন্সেলিঙের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে৷ তিনি বলেন, গত ২৫ নভেম্বর ওই মামলায় প্রথম শুনানি হয়েছিল৷ তখন উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি আকিল কুরেশি ত্রিপুরা সরকারের জবাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছিলেন৷ গত ৪ ডিসেম্বর ওই মামলায় পুনঃশুনানিতে ত্রিপুরা সরকার নোটিশের জবাব দিয়েছে৷


ওইদিন উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে প্রধান বিচারপতি এক অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করেছিলেন৷ তাতে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, মেডিক্যালে ভরতির জন্য কাউন্সেলিং চালু থাকবে৷ কিন্তু, কোনও প্রার্থীকে ওই সংরক্ষিত আসনে ভরতি করা যাবে না৷ আজ ওই মামলায় ত্রিপুরা হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে৷ সরকারি আইনজীবী দেবালয় ভট্টাচার্য বলেন, ত্রিপুরায় মেডিক্যালে ভরতির ক্ষেত্রে রিমসএ তিনটি আসনে ওবিসি সংরক্ষণ হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছে৷ তবে, আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণির জন্য ১০টি সংরক্ষণের পক্ষে আদালত রায় দিয়েছে৷ কারণ, আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল শ্রেণির জন্য সংরক্ষণে ত্রিপুরা সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে৷ তাই, আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করেনি এবং আবেদন খারিজ করে দিয়েছে৷ তিনি বলেন, এখন তিনটি আসনে নতুন করে কাউন্সেলিং হবে৷