কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে নব সংযোজন ত্রিপুরা সহ বরাক উপত্যকার বাংলা সাহিত্য

আগরতলা, ১২ ডিসেম্বর (হি.স.)৷৷ এখন সারা বিশ্বজুড়েই বাংলা ভাষার ব্যাপ্তি৷ তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট পার্বত্য রাজ্য ত্রিপুরায় বাংলা সাহিত্য, গল্প ও কবিতার দ্যুতি ক্রমেই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে৷ তাতে, ত্রিপুরার সাহিত্যকার, গল্পকার, প্রাবন্ধিকদের প্রতিভার বিকাশ ঘটেছে৷ অবশ্য, পার্শবর্তী রাজ্য অসমের বরাক উপত্যকা এবং ওই রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের বাংলা সাহিত্যকার, প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও কবি নিজেদের প্রতিভা বিকাশে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই৷ এ-বছর থেকে ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে ত্রিপুরা ও অসমের প্রচুর গল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক, কমিক্স স্থান করে নিয়েছে৷
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান ড় পরমশ্রী দাসগুপ্তের কথায়, কালের বিচারে টিঁকে যাবে এবং যার সামাজিক ও ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে, ওই সমস্ত সাহিত্য পাঠ্যক্রমে নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে৷


তিনি বলেন, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অতীতেও ত্রিপুরার লেখক-সাহিত্যিকদের রচনা স্থান পেয়েছে৷ ত্রিপুরার রাজন্য আমলের ইতিহাস কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে৷ তাঁর কথায়, অতীতে এতটা আধুনিক সাহিত্য ছিল না৷ তখন উত্তরপূর্বের সাহিত্য বলে একটি পেপার ছিল৷ সেখানে বরাক উপত্যকা এবং বাংলাদেশের কিছু গল্প উপন্যাস পড়ানো হতো৷ তাছাড়া, রাজ্যের জনজাতি ভাষা ককবরক-এ রচিত উপন্যাস বাংলায় অনুবাদ করে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করে হয়েছে৷ কিন্তু, এ-বছর সংখ্যায় অনেক বেড়েছে৷ তাঁর বক্তব্য, সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যের মূল্যবান বিষয়গুলি নতুন পাঠ্যক্রমে সংযোজিত হয়েছে৷ কালের বিচারে টিঁকে যাবে এবং যার সামাজিক ও ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে, ওই সমস্ত সাহিত্য পাঠ্যক্রমে নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে৷


তাঁর মতে, সাহিত্যের বিস্তৃতি তো অনেক৷ তার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যসাহিত্য গুরত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে এই পাঠ্যক্রমে রাখা হয়েছে৷ তিনি দাবি করেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে অনেক কবি সাহিত্যিকের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি বা জানানো সম্ভব হয়নি৷ কিন্তু তাঁদের সাহিত্য নিয়মিত আমাদের কাছে পৌঁছে৷ সেগুলিকে দেখেই এই পাঠ্যক্রমটি তৈরি হয়েছে৷
অধ্যাপক ড় পরমশ্রী দাসগুপ্ত বলেন, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এ-বছর পাঠ্যক্রম পুনর্গঠন করা হয়েছে৷ তাতে এই সময়ে ত্রিপুরার আধুনিক কথাকার, কবি, নাট্যকার, প্রাবন্ধিকদের বেশ কিছু সাহিত্য পাঠ্যসূচিতে সংযোজিত করা হয়েছে আরও বেশি করে৷ এর আগে এত পরিমাণে আধুনিক সাহিত্য ছিল না৷ অনান্য অঞ্চলের সাথে ত্রিপুরাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য এই প্রচেষ্টা করা হয়েছে৷ উত্তরপূর্বের যেখানে বাংলা সাহিত্য চর্চা হয়েছে এবং সাহিত্য গুলির গুণমান রয়েছে এমন লেখাগুলি সংযোজিত হয়েছে৷ তাতে, অসমের বরাক উপত্যকা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বাংলা সাহিত্যের সাথে যুক্তদের লেখা পাঠ্যক্রমে যুক্ত হয়েছে, বলেন তিনি৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ইতিমধ্যে ওই পাঠ্যক্রম অনুসারে পড়ানো শুরু হয়ে গেছে৷