হায়দরাবাদ, ৪ ডিসেম্বর (হি.স.): গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের ভোটে ত্রিশঙ্কু ফলাফল। হায়দারাবাদে পদ্ম ফুটিয়ে গতবারের চেয়ে অনেক ভালো ফলাফল করেছে বিজেপি। সকালে ভাল শুরু করে একসময় তিনে নেমে গিয়েছিল তারা। কিন্তু সন্ধ্যায় সর্বশেষ পাওয়া ফলাফল অনুসারে, একক বৃহত্তম দল এখনও টিআরএস-ই। তারা পেয়েছে ৫৬টি আসন। যদিও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরেই। বিজেপি উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। গতবার, ২০১৬-য় তারা পেয়েছিল ৪টি ওয়ার্ড। এবার পাচ্ছে ৪৯টি ওয়ার্ড। ওয়েইসির মিম-কে তিনে পাঠিয়ে দিয়েছে তারা। মিম জিতছে ৪৩টি ওয়ার্ড। তবে সব মিলিয়ে তেলঙ্গানার রাজনীতিতে বড় শক্তি হয়ে ওঠার দৌড়ে নেমে বিজেপি সফল বলাই যায়।
কংগ্রেসের হতাশাজনক ফলের জন্য কটাক্ষ করে টিআরএস বিধান পরিষদ সদস্য কে কবিতা বলেছেন, শতাব্দীপ্রাচীণ দলটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। কংগ্রেসের ভোট বিজেপিতে চলে গিয়েছে, যার বিরাট ফায়দা তুলে গেরুয়া শিবির। কংগ্রেসে সারা দিন ধরে দুটি আসনেই আটকে রয়েছে। দলের বিপুল ব্যর্থতার দায় নিয়ে তেলঙ্গানা প্রদেশ কংগ্রেল সভাপতি পদে ইস্তফা দিয়েছেন এন উত্তম কুমার।
গ্রেটার হায়দরাবাদ পুরসভা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সামিল সব রাজনৈতিক দলের কর্মী ও ভোটকর্মীদের চলতি করোনা অতিমারী আবহে এক সপ্তাহে কোয়ারান্টিনে থাকার পরামর্শ দিলেন তেলঙ্গানার পাবলিক হেলথ ও ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার শাখার ডিরেক্টর ডঃ শ্রীনিবাস রাও।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী বলেন, হায়দরাবাদ থেকে আসা প্রাথমিক গতিপ্রকৃতিতে জনসাধারণের মনোভাব বদলের ইঙ্গিত মিলছে। বদলমুখী উন্নয়নের নীতিকে হারানো কঠিন। ফাঁপা চটকদারি, মিথ্যা ভাষ্যের ওপরে তারই জয় হয় সবসময়।
এবার পদ্ম-শিবিরের হয়ে প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন অমিত শাহ, জেপি নড্ডা, যোগী আদিত্যনাথরা। তাতে যে ফল মিলছে, তা পরিষ্কার। উল্লসিত বিজেপি নেতৃত্ব। বস্তুত, হিন্দুত্বের হাওয়ায় ভর করেই যে বিজেপির এই উত্থান সম্ভব হয়েছে, সে ব্যাপারে যদিও একমত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। রকেটের গতিতে বিজেপির এই উত্থানকে ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছেন দেখা হচ্ছে। এমনকি তাদের এই উত্থানের পিছনে এমআইএম-এর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে।