শিক্ষায় নতুন কর্মসূচীর সুফল পাচ্ছে ছাত্রছাত্রী : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ নভেম্বর ৷৷ জীবনে সফলতার জন্য ছাত্রছাত্রীদের আত্মবিশ্বাসী ও নিষ্ঠাবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ চিফ মিনিস্টার অ্যানুয়েল স্টেট অ্যাওয়ার্ড ফর অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স টু সুকল স্টুডেন্টস-২০২০ প্রদান করার জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে এই আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আজ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই অ্যাওয়ার্ড চালু করার ফলে ছাত্রছাত্রীরা উৎসাহিত হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জীবন যুদ্ধে জয়ী হবই এইরূপ মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে৷ জীবনের অধ্যায় থেকে কঠিন শব্দটিকে সরিয়ে দিতে হবে৷ তবেই জয় নিশ্চিত হবে৷ এ বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাফল্যের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে কঠিন বলে কিছু নেই, মেক ইন ইণ্ডিয়া থেকে শুরু করে নারী ক্ষমতায়ন ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রেই দেশকে তিনি নতুন দিশা দেখিয়েছেন৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও কর্মসূচি চালু করার পর সেই কর্মসূচি কতটা সফল হয়েছে তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন৷ তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা দপ্তরে যে যে কর্মসূচি চালু করেছে সেগুলির ফলাফল ইতিমধ্যেই ছাত্রছাত্রীরা পেতে শুরু করেছে৷ ২০১৮ সালের তুলনায় ২০২০ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের পাশের হার বেড়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী জানান, জনজাতি ছাত্রছাত্রী ও টিটিএএডিসি এলাকায় বসবাসকারী ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রেও এই পাশের হার বেড়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, রাজ্য সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রেও বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে যেগুলি রূপায়ণের মধ্য দিয়ে দ্রত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ত্রিপুরা৷ মানুষের জীবনমান আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে৷ রাজ্যের মানুষের মাথাপিছু আয় আগের তুলনায় বেড়েছে৷ তিনি জানান, ক’ষকদেরও আর্থ-সামাজিক মান উন্নত হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে রাজ্যে দুই লক্ষাধিক কৃষক উপকৃত হয়েছে৷ এফসিআই-এর মাধ্যমে ক’ষকদের থেকে নূ্যনতম সহায়কমূল্যে ধান কেনা হয়েছে৷ এমজিএন রেগা কর্মসূচিতে শ্রমদিবস সৃষ্টিতেও সফলতা এসেছে৷ অ্যাসপিরেশন্যাল ব্লকগুলিতে প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প স্থাপন করার ক্ষেত্রে নিয়মাবলী সরলীকরণ করেছে বর্তমান সরকার৷ সিঙ্গেল উইণ্ডো অ্যাপ্রভাল সিস্টেম বাই অল গভর্নমেন্ট এজেন্সি (স্বাগত) ত্রিপুরায় চালু করা হয়েছে৷ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয় থেকে যে কোনও বিষয়ে পরিষেবা পাওয়ার আবেদন করার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নিশ্চিতভাবে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদান করার জন্য দি ত্রিপুরা গ্যারান্টেড সার্ভিসেস টু সিটিজেন রুলস-২০২০ সম্পতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷

এদিন ছাত্রছাত্রীদের সর্বশ্রেষ্ঠ ও পারদর্শী হওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের দেশকে সর্বশ্রেষ্ঠ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার যে কাজ হাতে নিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরাও ভবিষ্যতে তাতে অংশগ্রহণ করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন৷

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, ছাত্রছাত্রীদের গুণগত শিক্ষায় শিক্ষিত করা রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য৷ এই লক্ষ্যে শিক্ষা দপ্তরে অনেকগুলি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে৷ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ১ বছরের মধ্যেই রাজ্যে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য এনসিইআরটি-র সিলেবাস চালু করা হয়েছে৷ ত’তীয় থেকে অষ্টম শ্রেণীর অপেক্ষাক’ত দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন দিশা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে৷ এতে ছাত্রছাত্রীদের দক্ষতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে৷ রাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷ রাজ্যের সবগুলি সরকারি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একই প্রকার প্রশপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ প্রাক প্রাথমিক স্তরে ৮৮টি বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে৷ ১৩৫টি বিদ্যালয়ে ভোকেশন্যাল কোর্স চালু করা হয়েছে৷ শিক্ষামন্ত্রী জানান, এছাড়াও বছর বাঁচাও কর্মসূচি, সুুপার ৩০, স্পোকেন ইংলিশ, টেলেন্ট সার্চ ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে যার উপর ভিত্তি করে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা এগিয়ে যেতে পারছে৷

এদিনের অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রাজ্য উচ্চশিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. অরুণোদয় সাহা৷ স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা উত্তম কুমার চাকমা৷ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ভবতোষ সাহা৷ অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান সন্তোষ সাহা, শিক্ষা দপ্তরের সচিব সৌম্যা গুপ্তা প্রমুখ৷

এদিনের অনুষ্ঠানে এবছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৯২ জন ছাত্রছাত্রীকে চিফ মিনিস্টার অ্যানুয়েল স্টেট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ও অন্যান্য অতিথিগণ ছাত্রছাত্রীদের হাতে আই প্যাড ও শংসাপত্র তুলে দেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *