বনজ সম্পদ ব্যবহারে জনজাতিদের আর্থ-সামাজিক মান উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ৯ নভেম্বর (হি.স.) ৷৷ বনজ সম্পদকে ব্যবহার করে জনজাতি অংশের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার মান উন্নয়ন এবং বনকে কেন্দ্র করে জনজাতিদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি করার দিশায় বনদফতরকে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে৷ সোমবার সচিবালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণের অগ্রগতি নিয়ে এক পর্যালোচনা সভায় এ কথা বলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তিনি বলেন, বন ও বনজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ওই সব এলাকায় বসবাসরত জনজাতি পরিবারগুলি স্বনির্ভর হতে পারে৷ এজন্য চেকড্যাম তৈরি করে জনজাতি পরিবারগুলিকে মাছচাষের সাথে যুক্ত করতে হবে৷


মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন কর্মসূচি রাপায়ণে যে ঘাটতি হয়েছে, তা পূরণে এখন দফতরগুলিকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে৷ জাতীয় সড়কের দুপাশে ফুলের গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিতে হবে৷ তাঁর দাবি, একবারের জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জন সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অব্যবহৃত প্লাস্টিক স্থানীয় ভাবে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহারযোগ্য করা উচিত৷ সে-ক্ষেত্রে একবার ব্যবহৃত প্লাস্টিক যেন পুনরায় ব্যবহার না করা হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, সুপারি গাছের খোল থেকে থালা তৈরি করা যেতে পারে৷ এটি পরিবেশ বান্ধব ও এর বাজারজাতকরণের সুযোগ রয়েছে৷
আজকের সভায় মুখ্যসচিব মনোজ কুমার বলেন, বনাধিকার আইনে পাট্টাপ্রাপকদের জমিতে বনায়নের মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলার জন্য বনদফতরকে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে৷ এদিনের সভায় প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক ড় ডি কে শর্মা জানান, চলতি বছরে ৪,৬২৯ হেক্টর এলাকায় নার্সারি গড়ে তোলার কাজ চলছে৷ তাঁর কথায়, ২০১৯-২০ বছরে ৩,৯৭৭ হেক্টরে নার্সারি গড়ে তোলা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে ৮,৫০০ হেক্টর এলাকায় নার্সারি গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷


মুখ্য বনসংরক্ষক আরও জানান, চলতি বছরে ১৭০টি চেকড্যাম তৈরি করার কাজ চলছে৷ গত বছর ১৩৫টি চেকড্যাম তৈরি করা হয়েছে৷ আগামী বছর ২০০টি চেকড্যাম তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে৷ তিনি আরও জানান, চলতি বছরে ৪৫০টি চেকড্যামে ২৪ লক্ষ মাছের পোনা বনদফতরের উদ্যোগে ছাড়া হয়েছে৷ চলতি বছরে আগরতলা-সাব্রুম জাতীয় সড়কের ৯২ কিমি এলাকায় রোড-সাইড প্ল্যান্টেশন করা হয়েছে৷ মুখ্য বনসংরক্ষক আরও জানান, বনকে কেন্দ্র করে ৩৮,২০৮ জন সরাসরি আয়ের সুযোগ পাবেন৷ শুধুমাত্র বনদফতরের উদ্যোগে মাছচাষ, কাঠের ব্যবহার, ফুলঝাড়ু, বাঁশ সংগ্রহ, বালি সংগ্রহ, রবার, ইকো-ট্যুরিজম ইত্যাদি ক্ষেত্রে তারা এই সুযোগ পাবেন৷


এদিনের সভায় এনার্জি অ্যাফিশিয়েন্সি মেজার্স সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে টিএসইসিএল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এমএস কেলে রাজ্যে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে যে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন৷ তিনি জানান, এই ব্যবস্থাদি গ্রহণ করার ফলে রাজ্যে ১০.৮৭ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা গেছে৷ আগামীদিনেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই ধারা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কেও তিনি অবহিত করেন৷ তিনি জানান, ১০০টি বিদ্যালয়ে এলইডি লাইট, টিউবলাইট, ফ্যান লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ এর মধ্যে ২৮টি বিদ্যালয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে৷ বাকি বিদ্যালয়গুলিতেও এই কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷


কেলে আরও জানান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য আটটি গ্রামকে মডেল এনার্জি অ্যাফিশিয়েন্ট ভিলেজ হিসেবে নেওয়া হবে৷ এই আটটি গ্রামে ২০ হাজার এলইডি বালব সুলভ মূল্যে গ্রাহকদের দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷ তিনি আরও জানান, আগরতলা পুর নিগম এলাকায় ৩৪,২০০টি এলইডি স্ট্রট লাইট এবং রাজ্যের অন্যান্য পুর এলাকায় মোট ৪১,৬১৫টি এলইডি লাইট লাগানো হয়েছে৷ বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের জন্য সচেতনতা বাড়াতে ১,১০০টি ইকো-ক্লাবকে যুক্ত করে সেমিনার কুইজ ইত্যাদি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা হয়েছে৷
সভায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন সম্পর্কে জানানো হয় যে, রাজ্যে বর্তমানে প্লাস্টিক থেকে বিভিন্ন দ্রব্য উৎপাদনের জন্য ২০টি ইউনিট রয়েছে৷ প্রতিমাসে ৮২৭ মেট্রিকটন প্লাস্টিকের ব্যাগ, ড্রাম, বালতি, খেলনা দড়ি, দরজা, আসবাবপত্র ইত্যাদি দ্রব্য উৎপাদন করা হচ্ছে৷ এ সম্পর্কিত আলোচনায় আরও জানানো হয়, প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের ১৭টি ইউনিট বর্তমানে রাজ্যে রয়েছে৷ বর্তমানে প্রতিমাসে প্রায় ৪৪৫ মেট্রিকটন অব্যবহৃত প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে৷ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, ধর্মীয়স্থান, পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত করার বিষয়ে এদিনের সভায় গুরুত্ব আরোপ করা হয়৷
সভায় নগর উন্নয়ন দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে পুর এলাকায় কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোকপাত করেন৷ তিনি জানান, আগরতলা পুর নিগম সহ রাজ্যের ২০টি পুর ও নগর এলাকায় মোট ৩১০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯৮টি ওয়ার্ডেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে৷ বাকিগুলিতেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *