নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ অক্টোবর৷৷ উত্তর পূর্ব ভারতের অন্যতম রাজ্য মিজোরাম৷ এই রাজ্যটির প্রতিবেশী রয়েছে অসম ও ত্রিপুরা৷ এই দুই প্রতিবেশী রাজ্যের সাথেই মিজোরাম সরকার বাড়াবাড়ি করে চলেছে৷ একদিকে ত্রিপুার জম্পুইয়ের কিছু এলাকায় অনধিকার ১৪৪ ধারা জারি করে দিয়েছে মিজোরাম সরকার, অন্যদিকে অসম মিজোরাম সীমান্ত লায়লাপুরে অসমের জমি দখর করার চেষ্টা চালিয়েছে মিজোরা৷ শুক্রবার লায়লাপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ প্রচুর সংখ্যায় মিজো মানুষ ওই এলাকায় সমবেত হয়েছে৷
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে৷ গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করে৷ প্রতিবেশী দুই রাজ্যের সাথে মিজোরাম প্রশাসনের এই ধরনের আচরণ ঘিরে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷
ফুলডুঙশেই জম্পুই ত্রিপুরার অভিন্ন অঙ্গ৷ গতকাল মিজোরামের মামিত জেলা প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি করার জবাবে কড়া ভাষায় মিজোরাম সরকারের কাছে এই দাবি করেছে ত্রিপুরা সরকার৷ সাথে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ওই আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছে রাজ্য৷
প্রসঙ্গত, বিতর্কিত সীমান্তে মন্দির নির্মাণকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করে মিজোরামের মামিত জেলায় ফুলডুঙশেই জম্পুই এবং জামুয়ান্টল্যাং এলাকায় গতকাল ১৪৪ ধারা জারি করেছিল জেলা প্রশাসন৷ আগামী ১৯ এবং ২০ অক্টোবর ত্রিপুরার সংরাঙ্গমা নামের এক সংস্থা থাইদাওর তাঙে একটি শিব মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে৷ তাই ১৬ অক্টোবর থেকেই মামিত জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে দিয়েছে৷
মামিত জেলা প্রশাসনের ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার৷ ত্রিপুরা সরকারের অতিরিক্ত সচিব একে ভট্টাচার্য আজ (শনিবার) মিজোরাম সরকারের গৃহ দফতরের ওএসডি তথা উপসচিব ডেভিড এইচ লালথাংলিয়ানাকে মামিত জেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা অত্যন্ত আপত্তিজনক বলে দাবি করে চিঠি পাঠিয়েছেন৷
চিঠিতে সাফ জানানো হয়েছে, ফুলডুঙশেই জম্পুই উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমার জম্পুই হিলস আরডি ব্লকের সাবুয়াল ভিলেজ কমিটির অধীনে রয়েছে৷ ত্রিপুরা সরকার বহুকাল আগে পর্যটন দফতরের অধীনে বেটলিংচিপে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করেছিল৷ ফলে ওই এলাকায় মামিত জেলা প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি অত্যন্ত আপত্তিজনক৷ তাই, আদেশ সংশোধন করে মামিত জেলা প্রশাসন ত্রিপুরার সীমানায় ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করুক, আবেদন জানিয়েছেন তিনি৷ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ওই পদক্ষেপ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ত্রিপুরা সরকার৷

