হাসপাতালে যাওয়ার পর পজিটিভ চিহ্ণিত মহিলাকে অ্যাম্বুলেন্স না দিয়ে অটোয় পাঠানো হল বাড়িতে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ সেপ্ঢেম্বর৷৷ করোনা-র আতঙ্কে প্রসবের জন্য প্রসূতি মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাহস পাননি পরিবারের সদস্যরা৷ ফলে বাড়িতেই সন্তান প্রসব করেন জনৈক জনজাতি রমণী৷ কিন্তু বুধবার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর স্বামী৷ হাসপাতালে পরীক্ষা করে ধরা পড়েছে মহিলাটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত৷ ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসা করেন৷ তাতে তিনি সুস্থতাও অনুভব করেন৷ তাই হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেন চিকিৎসকরা৷ কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মহিলাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি৷ ফলে বাধ্য হয়ে তাঁর স্বামী একটি অটোয় চেপে তাঁকে বাড়ি নিয়ে যান৷ সমগ্র ঘটনায় প্রশাসনিক উদাসীনতা চরমভাবে প্রকট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷


মুঙ্গিয়াকামী থানাধীন ৩৬ মাইল এলাকার জনৈক জনজাতি রমণী গত ২৬ সেপ্ঢেম্বর সন্তান প্রসব করেছেন৷ তাঁর স্বামী জানিয়েছেন, করোনা-র আতঙ্কে হাসপাতালে যেতে ভয় ছিল৷ তাই বাড়িতেই সন্তান প্রসব হয়েছে৷ কিন্তু আজ তাঁর স্ত্রী পেটে ব্যথ্যা অনুভব করেন৷ তাই তাঁকে তেলিয়ামুড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷ মহিলার স্বামী আরও জানিয়েছেন, হাসপাতালে যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রীর কোভিড-১৯ পরীক্ষা হয়েছে৷ তাতে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে৷


তিনি বলেন, হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসক নমিতা কলই পিপিই কিট পরিধান করে প্রসূতি ওয়ার্ডে তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসা করেন৷ এতে তিনি সুস্থতা অনুভব করেন৷ তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে বাড়িতে আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেন৷ কিন্তু এখানে নতুন করে বিপত্তি দেখা দেয়৷ মহিলার স্বামী জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত তার স্ত্রী-কে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল থেকে কোনও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি৷ দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনও লাভ হয়নি৷ তাই বাধ্য হয়ে একটি অটো ভাড়া নিয়ে স্ত্রী-কে নিয়ে বাড়ি এসেছেন৷
স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনা জনমানসে একাধিক প্রশ্ণের জন্ম দিয়েছে৷ বাড়িতে প্রসবের বদলে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত প্রচার চালানো হচ্ছে৷ আশাকর্মীরা সেই দায়িত্বই প্রতিনিয়ত পালন করে চলেছেন৷ কিন্তু ওই জনজাতি রমণী বাড়িতে সন্তান প্রসব করার ঘটনায় প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচার অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না বলে মনে করা হচ্ছে৷ তাছাড়া, তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতাল থেকে একজন করোনা আক্রান্ত রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স না দিয়ে বাড়ি কেন পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিকের চরম উদাসীনতা প্রমাণিত হয়েছে৷ তাছাড়া, অটোতে করোনা আক্রান্তের বাড়িতে যাওয়ার ঘটনায় ওই অটো চালক সংক্রমণের সংস্পর্শে এসেছেন৷ ফলে, তিনি সংক্রমিত হয়েছেন কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না৷