পৃথক স্থানে পুকুরের জলে ডুবে মৃত্যু নাবালক ও বৃদ্ধের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ আগস্ট৷৷ সাতসকালে রাজধানী আগরতলার এডিনগরে পুকুরে ভাসমান মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় পুকুরে পড়ে যাওয়ায় শম্ভু সরকারের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে৷


শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টা নাগাদ এডিনগর থানাধীন কাঞ্চননগর এলাকায় জল আনতে যাওয়ার সময় স্থানীয় মহিলারা সোনালী পুকুরে এক ব্যক্তির ভাসমান দেহ লক্ষ্য করেন৷ সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে স্থানীয় জনগণ ছুটে আসেন৷ খবর দেওয়া হয় পুলিশে৷ খবর পেয়ে এডিনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে৷


পুলিশ জানিয়েছে, ওই মৃতদেহটি শম্ভু সরকার বলে শনাক্ত করা হয়েছে৷ তিনি ওই এলাকায় ছেলে ও পুত্রবধূর সাথে ভাড়া থাকতেন৷ তবে প্রতিদিন মদ্যপান করতেন তিনি৷ পুলিশের দাবি, আজ সকালেও মদ্যপান করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান শম্ভু৷ ধারণা করা হচ্ছে, মদ্যপান করে পুকুরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় জলে পড়ে গেছেন৷
মৃতের ভাই শঙ্কর সরকার বলেন, এলাকায় তাঁর কোনও শত্রু নেই৷ তাই তাঁকে খুন করা হয়েছে ভাবনা ভুল হবে৷ তিনি মদ্যপ অবস্থায় পুকুরে পড়ে গেছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে, শঙ্করবাবুও এ-কথাই বলেন৷ এদিকে, মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে৷

এদিকে, আমতলী থানা এলাকার রানিখামার এলাকায় পুকুরের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এক নাবালকের৷ মৃত নাবালকের নাম অভয় মজুমদার৷ জানা যায় সে বাড়ির পাশেই পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিল৷ মাছ ধরতে গিয়ে জলে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে অভয় মজুমদার নামে নাবালকের৷ জানা যায় সে নবম শ্রেণীর ছাত্র৷জলে ডুবে না ভালো ছাত্রের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে৷


মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নাবালকের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা পুকুরের জলে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন৷ পুকুরের জল থেকে তার মৃতদেহটি উদ্ধার৷ তার দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে৷হাপানিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ময়নাতদন্তের পর নাবালকের মৃতদেহটি পরিবারের লোকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷


জলে ডুবে মৃত নাবালকের মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে পাড়াপড়শির কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন৷ শোকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা৷নবম শ্রেণির ছাত্রের জলেরে মৃত্যুর ঘটনায় তার মা-বাবা প্রায় অর্ধ উন্মাদ হয়ে গেছে৷কারুর সান্তনার বানী তাদের ভগ্ণ হৃদয় স্পর্শ করছে না৷ এই হৃদয় বিদারক চিত্র এলাকার মানুষজনকেও মারাত্মকভাবে ব্যথিত করেছে৷