আগরতলা, ৮ আগস্ট (হি. স.) ৷৷ করোনা-র প্রকোপের ভয়াবহতা জেনেও প্রচন্ড গাফিলতির খেসারত দিলেন এক ব্যক্তি৷ টানা দশদিন ধরে সর্দি, কাশি এবং জ্বরে ভুগলেও হাসপাতালে যাননি তেলিয়ামুড়া করইলং এলাকার চল্লিশোর্দ এক ব্যবসায়ী৷ তার পরিণতিতে আজ সকালে ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে৷ মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হলে তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে৷ ওই ঘটনায় করইলং এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও ওই ব্যবসায়ীর পরিবারের অন্য সদস্যদের কোভিড-১৯ রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে৷ তবে, ওই ব্যবসায়ীর পরিচর্যায় নিয়োজিত বয়স্ক পরিচারিকা-র দেহে করোনা-র সংক্রমণ মিলেছে৷ তাকে গৃহে আইসোলেশন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
এ-বিষয়ে তেলিয়ামুড়া মহকুমার জনৈক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ওই ব্যক্তি করোনা-র সমস্ত লক্ষণ থাকা সত্বেও হাসপাতালে আসেননি৷ ফলে, তার মৃত্যু হয়েছে৷ সময়মতো চিকিৎসা পরিষেবা যদি নিতেন, তাহলে বিনা চিকিৎসায় এভাবে প্রাণ দিতে হতো না৷ তিনি বলেন, ওই ব্যবসায়ীর মৃতদেহ হাসপাতালে আনার পর তার এন্টিজেন পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তাতে, তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে৷ ফলে, সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবারের সকল সদস্যদের এন্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ কিন্তু, ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের এন্টিজেন টেস্ট রিপোর্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে৷ শুধু, তাদের বাড়ির পরিচারিকার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে৷ ওই বয়স্ক মহিলা প্রয়াতের পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন, বলেন তিনি৷
ওই আধিকারিকের কথায়, খোয়াই থেকে পিপিই কীট এনে মৃতদেহ সৎকারের জন্য আগরতলায় পাঠানো হয়েছে৷ এদিকে, ওই পরিচারিকা-কে গৃহে আইসোলেশন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ ওই ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, করোনা-র প্রকোপের মাঝেও লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালে না গিয়ে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনা হয়েছিল৷ ওই সংক্রমণ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যবসায়ীর করোনা আক্রান্তের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপরাধে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত৷

