নিজস্ব প্রতিনিধি, জলেফা, ৩ আগস্ট৷৷ সাব্রুম মহকুমায় রুপাইছড়ি আর, ডি, ব্লকের অন্তর্গত চাতকছড়ি এডিসি ভিলেজে সাব্রুম থানার অন্তর্গত মনু-বনকুল ফাঁড়ীর অধীনে গতকালকে রাএিবেলা ২৫ বছরের এক উপজাতি গৃহ বধূ মৃতদেহ উদ্ধার করেন নিজ বাড়ি বিচ্ছাতে থেকে খুন নাকি আত্মহ্যাতা৷ এই নিয়ে রাত থেকেই পুলিশ তদন্তে নেমেছেন৷
ঘটনার বিবরনে জানা যায় , পূর্ব জলেফার এডিসি ভিলেজের লালচাঁদ পাড়া বাসিন্দার মৃত শান্তি এিপুরার মেয়ে শিবু মালা এিপুরা (২৫) -কে , চাতকছড়ি এডিসি ভিলেজের বাসীন্ধার তুফান এিপুরার ছেলে উপেন্দ্র এিপুরার সাথে আট বছর আগে বিয়েদেন৷ তাদের পরিবারের মধ্যে একছেলে ও দুইমেয়ে আছে৷ দীর্ঘ তিন-চার বছর যাবত তাদের সুখের সংসার চলছিল৷
মৃত গৃহবধূটির পরিবারের অভিযোগ হঠাৎ দুই-তিন বছর যাবত প্রায় সময় স্বামী উপেন্দ্র এিপুরা নাকি মদ ও জুয়া খেলানিয়ে ব্যাস্ত থাকেন৷ এবং টাকা পয়সার জন্য নাকি বিভিন্ন রকম শারীরিক ভাবে নিযাতন করে বাপের বাড়ীতে পাঠিয়ে টাকা – পয়সা জন্য৷ মেয়ের পরিবারও মেয়ের কথা চিন্তা করে মেয়ের হাতে টাকা-পয়সা হাতে তুলে দিন৷ আবার টাকা ফুরিয়ে গেলে নাকি আবারও গৃহবধূ শিবু মালা এিপুরারকে নির্যাতন শুরু করতেন৷
এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, গৃহবধূটি সংসারে কথা চিন্তা করে প্রায়দিনের মতন গতকালকে সকালবেলা দিনমজুরি কাজ করার জন্য বেরিয়ে পরেন৷ বিকালবেলা কাজ করে বাড়িতে ফিরে আসেন৷ সন্ধ্যা হওয়ার ঠিক একটু আগে নাকি আবারও দুইজনের মধ্যে ঝগড়া চুড়ান্ত আকার হয়৷ হঠাৎ নাকি ছেলে-মেয়েদের সামনেই গৃহবধূ শিবু মালা এিপুরাকে স্বামী উপেন্দ্র এিপুরা চুলের মুঠি ধরে বেধড়ক মারধর করেন৷ গতকালই রাতের মেয়ের বাড়িতে খবর যায় তাদের মেয়ে নাকি ফাঁসীতে আত্মহত্যা করেছেন৷
এই খবর শুনতে পরে সাথে সাথে মেয়ের বাড়ির লোকজনরা ছুটে গিয়ে দেখতে পায় শিবু মালা এিপুরার মৃতদেহ বিচ্ছানাতে পরে রয়েছে৷ বিচ্ছানাতে এই অবস্থায় পরে থাকতে দেখে তাদের মূল অভিযোগ মেয়ে ফাঁসীতে আত্মহত্যা করেনি৷ মেয়েকে জামাই নিজের হাতেই হত্যা করেছে৷ রাতে এলাকাবাসী ও মেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সাথে সাথে মনু-বনকুল ফাঁড়ীতে খবর দেওয়া হয়৷ বহুবার ফোন করার পর রাএিবেলা ১-টার পরে মনু-বনকুল ফাঁড়ীর পুলিশ ছুটে যান৷
ছুটে গিয়ে রাতেই স্বামী উপেন্দ্র এিপুরাকে (৩০) -কে পুলিশ আটক করেন৷ ভোর চারটার দিকে সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসেন৷ আজ সকালবেলা মৃত শিবু মালা এিপুরার পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত ক্রমে তাদের মেয়েকে স্বামী উপেন্দ্র এিপুরা হত্যা করেছে বলে অভিযোগ এনে সাব্রুম থানায় লিখিত মামলা করেন৷
এই দিকে মহকুমাশাসকের একটি মেডিকেল টিম নিয়ে সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে৷ এই দিকে মামলা পেয়ে পুলিশ তদন্তে নেমেছেন৷ স্বামী উপেন্দ্র এিপুরাকে পুলিশ এখনও গেপ্তার দেখাই নায়৷ শিবু মালা এিপুরা মৃত্যুর খবর সকাল থেকে এলাকাতেই ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে৷ এখন দেখার বিষয় পুলিশের তদন্তে কি আসে আসলেকি খুন নাকি ফাঁসীতে আত্মহত্যা৷

