বিদ্যুৎ পরিষেবায় রাজ্যেও মোদির মন্ত্র ‘ভোকাল ফর লোক্যাল’

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ জুলাই৷৷ রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পসারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্র ‘ভোকাল ফর লোক্যাল’-কে রাজ্যেও অনুসরণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ এই লক্ষ্যেই ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের ট্রান্সফরমার মেরামতির কাজ সহ নিগমের অন্যান্য কাজে স্থানীয়দের প্রাধান্য দেওয়ার উপর বিদ্যৎ দপ্তরকে নজর দিতে হবে৷


আজ সচিবালয়ের ২নং সভাকক্ষে আয়োজিত ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের পর্যালোচনা সভায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ পর্যালোচনা সভায় রাজ্যে যাতে ট্রান্সফরমারও নির্মাণ করা যায় সেই দিশায় কাজ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন৷ এই কাজেও স্থানীয়দের সুুযোগ দিতে হবে৷ এরফলে রাজ্যের জনগণের রোজগার যেমন স’ষ্টি হবে তেমনি অর্থনৈতিক ভিত্তিও সুুদৃঢ় হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন৷ রাজ্যকে সব দিক দিয়ে স্বনির্ভর করে তুলতে রাজ্য সরকারের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে৷ আজকের সভায় ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম, ত্রিপুরা রিনিওয়েবেল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি এবং ত্রিপুরা পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের কাজকর্মের পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷

মুখ্যমন্ত্রী শ্রীদেব বলেন, ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমকে আগামী ৫ বছরের নিজেদের প্রয়োজনীয় সর’ামের তালিকা তৈরি করতে হবে৷ রাজ্য সরকার রাজ্যের যুবাদের উৎসাহিত করে বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহের কাজের সাথে যুক্তদের ছোট শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে৷ ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন্য লক্ষমাত্রা স্থির করে কাজ করার উপর তিনি জোর দিয়েছেন৷ লাইনম্যানদের দায়িত্ব প্রতিদিন স্থির করে তা কল সেন্টারে কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পরামর্শ দেন৷ বিদ্যুৎ সাবস্টেশনগুলিতে সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আলোর বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন৷ পাশাপাশি বিদ্যুৎ নিগমের অব্যবহৃত সামগ্রী নিলামের ব্যবস্থা করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী শ্রীদেব, রাজ্যে চালু হওয়া সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির কাজ দ্রত রূপায়ণের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন৷ বেশি সংখ্যক সুুবিধাভোগীরা যাতে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্পগুলির সুুবিধা গ্রহণ করতে পারেন তারজন্য প্রকল্পগুলির বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত লিফলেট তৈরি করে প্রচারে নিয়ে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেন৷ তিনি বলেন, পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তর এবং ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমকে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে যেন বিদ্যুৎ অপ্রতুলতার কারণে ডিপটিউবওয়েল চালু করতে যাতে কোনও দেরি না হয়৷ এজন্য প্রয়োজনীয় আগাম ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি৷ সৌভাগ্য প্রকল্পের কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷


সৌভাগ্য যোজনায় যে সমস্ত বিদ্যুৎ সংযোগ সরবরাহ করা হয়েছে সে সকল ভোক্তার বাড়িতে আধিকারিকদের সরেজমিনে পরিদর্শন করার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেছেন৷ পর্যালোচনা সভায় ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. এম এস কেলে জানান, রাজ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ করছে নিগম৷ রাজ্য মার্ট কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস চলতি বছরের ২৭ জলাই থেকে চালু হচ্ছে৷ ১ লক্ষ ৮৪ হাজার প্রি-পেড মিটার বসানোর প্রক্রিয়া চলছে৷ ১০.৩৮ লক্ষ এলইডি বাল প্রতিস্থাপন করা হয়েছে৷ ট্রান্সফরমার মেরামতি করা হয়েছে৷ ফিডার বেকডাউন অনেকটাই কম হচ্ছে বলে তিনি সভায় উল্লেখ করেন৷ এ প্রসঙ্গে তিনি ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ সালের ফিডার বেকডাউনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, রাজ্যে বিল সংগ্রহের দক্ষতাও বেড়েছে৷ পাশাপাশি ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার হারও কমেছে৷ ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে বিকল হওয়ার হার হচ্ছে ১০.৩৬ শতাংশ যা ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে যথাক্রমে ১১.৬৬ এবং ১১.৪৫ শতাংশ ছিলো৷ তিনি জানান, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে অনাদায়ী অর্থ আদায়ের জন্য ১ লক্ষ ১২ হাজার ৬১৮ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করা হয়েছে৷ এছাড়া নতুন ট্রান্সফরমারের বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ এদিনের সভায় তিনি রাজ্যে রূপায়িত দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামীণ জ্যোতি যোজনা, সৌভাগ্য যোজনা, এডিবি প্রকল্পগুলির বর্তমান অবস্থা, কর্মপরিকল্পনা এবং সাফল্য তুলে ধরেন৷ তিনি ট্রান্সমিশন প্রকল্পগুলির বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে সভায় অবহিত করেন৷ তাছাড়া, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি প্রতিরোধেও ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম গ্রাহকদের সুুবিধার্থে বিলম্বিত পেমেন্ট সারচার্জ ৩ মাসের জন্য ৫০ শতাংশ হাস করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়৷


পর্যালোচনা সভায়, ত্রিপুরা রিনিওয়েবেল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ট্রেডা)’র ডিরেক্টর জেনারেল ও সিইও এম দেববর্মা জানান, সোলার স্ট্রিট লাইটিং সিস্টেমে ১,০০০টি সৌরবিদ্যুৎ লাগানো হয়েছে৷ আরও ১,০০০ সৌরবিদ্যুৎ রাস্তায় লাগানোর প্রক্রিয়া চলছে৷ এক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে অ্যাসপিরেশনাল ব্লকগুলিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে সভায় তিনি জানান৷ শ্রীদেববর্মা বলেন, এমএনআরই প্রকল্পে চলতি অর্থবর্ষে ৮৩২টি সৌরল্যাম্প শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে৷ আরও ২১,২৮৭টি বিলি করা হবে৷ পাশাপাশি বর্তমান বিদ্যুৎ চালিত ৪,০০০ ক’ষি পাম্পকে সৌরবিদ্যুৎ-এ রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ পিএম কুসুুম প্রকল্পে ১,৩০০টি নতুন সোলার পাম্প বসানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ এছাড়া ট্রেডার বিভিন্ন নতুন উদ্যোগগুলি সম্পর্কেও সভায় অবহিত করা হয়৷ সভায় ত্রিপুরা পাওয়ার জেনারেল লিমিটেডের মূল কর্মসূচিগুলিরও পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷


পর্যালোচনা সভায় উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা আলোচনায় অংশ নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মত প্রকাশ করেন৷ এছাড়াও মুখ্যসচিব মনোজ কুমার, বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রধান সচিব শশীর’ন কুমার, মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ সচিব প্রশান্ত কুমার গোয়েল, পরিকল্পনা ও সমন্বয় দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায় সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন৷