কিট ও স্যানিটাইজার ক্রয়ে দুর্নীতি হয়নি, প্রক্রিয়াগত ত্রুটি : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ জুলাই৷৷ ত্রিপুরায় করোনা মোকাবিলায় কিট এবং স্যানিটাইজার ক্রয়ে আর্থিক অনিয়ম হয়নি৷ তবে, প্রক্রিয়াগত ত্রুটি হয়েছে৷ আজ সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে এ-কথা বলেন আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ তাঁর কথায়, করোনা-র প্রকোপে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনেই ত্রিপুরায় কিট এবং স্যানিটাইজার ক্রয় করা হয়েছে৷ তবে স্যানিটাইজারে মূল্য বেশি ধার্য করায় বিক্রয়কারী সংস্থাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হবে৷


প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় করোনা মোকাবিলায় কিট এবং স্যানিটাইজার ক্রয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণ৷ মুখ্যমন্ত্রী ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনের দুই পদস্থ আধিকারিক কিরেন গিত্তে এবং তনুশ্রী দেববর্মাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল৷ শুধু তা-ই নয়, তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে প্রভাবিত না হয়, তার জন্য স্বাস্থ্যসচিব এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের ত্রিপুরার মিশন অধিকর্তাকে সাময়িক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল৷ ওই তদন্ত কমিটি গত ২৮ মে রিপোর্ট জমা দিয়েছে৷


এ-বিষয়ে আজ আইনমন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না৷ তাই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার সাথে সাথেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল৷ তদন্ত কমিটির রিপোর্টে করোনা মোকাবিলায় কিট এবং স্যানিটাইজার ক্রয়ে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ধরা পড়েছে ঠিকই৷ কিন্তু আর্থিক অনিয়মের কোনও প্রমাণ মিলেনি৷ তাঁর কথায়, করোনা-র প্রকোপে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের নির্দেশে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনকে জরুরি ভিত্তিতে সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে৷ কারণ, প্রাণ রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মনে করা হয়েছে৷ তাই, জরুরি ভিত্তিতে সামগ্রী ক্রয়ে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি হয়েছে৷ কিন্তু, নজরে আসার সাথে সাথেই ওই ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে৷

আইনমন্ত্রীর দাবি, দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷ তদন্ত কমিটি রিপোর্টে স্পষ্ট বলেছে, আর্থিক অনিয়মের কোনও প্রমাণ মিলেনি৷ তাতে স্পষ্ট, করোনা মোকাবিলায় কিট এবং স্যানিটাইজার ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে তদানীন্তন স্বাস্থ্য সচিব এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের ত্রিপুরার মিশন অধিকর্তা কার্যত ক্লিনচিট পেয়েছেন৷