আইজল, ২ জুলাই (হি.স.) : দৃষ্টান্ত স্থাপন করল মিজোরাম। করোনা-র প্রকোপে লকডাউনের আবহেও মিজোরামে চাকমা স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। শাসকদল মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ) উন্নয়নমূলক এবং জনকল্যাণে কাজ অতিমারির মধ্যেও জারি রেখেছে। জেলা পরিষদ এলাকার কমলনগরে জল নিকাশি ব্যবস্থা, পিসিসি ফুটপাথ এবং স্কুল বিল্ডিঙের নির্মাণকাজ দুরন্ত গতিতে চলছে।
বুধবার জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য ডিজি দুর্যধন চাকমা এবং শিল্প, ন্যায় ও বিচার দফতরের নির্বাহী সদস্য ডিজি লক্ষণ চাকমা নির্মাণাধীন স্থান পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে নির্মাণকাজ নিয়ে আলোচনাও করে কাজের গুণমান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরে কমলনগর-৩-এ জল নিকাশি ব্যবস্থা নির্মাণে অতিরিক্ত ৬০ লক্ষ টাকা, কমলনগর-৪-এ কৃষ্ণচন্দ্র মেমোরিয়াল স্কুল বিল্ডিং নির্মাণে বিএডিপি ২০১৯-২০-এর অধীনে ৩০ লক্ষ টাকা এবং কমলনগর হেলিপ্যাড রাস্তা থেকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড পর্যন্ত পিসিসি ফুটপাথ নির্মাণে ৪০ লক্ষ টাকা নগরোন্নয়ন এবং দারিদ্র বিমোচন দফতরের অধীন মঞ্জুর করা হয়েছিল। এদিকে, গলাশুরি এবং বড়খালাকে ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আরও দুটি স্কুল বিল্ডিং নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
পিসিসি ফুটপাথ নির্মাণস্থল পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য ডিজি দুর্যধন চাকমা কংগ্রেসের শাসনকালে কাজের গুণমান নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, সিএডিসিতে কংগ্রেসের শাসনামলে ২০১৪ সালে ২৬ মার্চ এসপিএর অধীনে স্থায়ী কাজ সহ বাজাইসোরা সড়ক থেকে বোড়াপানসুরি সড়ক হয়ে এসএমবিটি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে ১৯৯.৪১ লক্ষ টাকা অনুমোদন করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের ৩০ মে আইজলের একটি সংস্থাকে কাজের বরাত দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে তদানীন্তন মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য বুদ্ধলীল চাকমার স্ত্রী সুজাতা চাকমাকে ওই রাস্তা নির্মাণের কাজ সম্পাদনের সম্পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়। কিন্তু ওই রাস্তাটি আগের মতোই দুর্দশাগ্রস্ত রয়ে গেছে। কারণ নির্মাণকাজ কখনও সম্পাদন করাই হয়নি। দুর্যধন চাকমার কটাক্ষ, রাস্তাটি কেবল কাগজপত্রে নির্মাণ হয়েছে, বাস্তবে নয়।

