পারস্পরিক দূরত্ব মেনে গাড়িতে সফর, দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ মে৷৷ ত্রিপুরায় এক স্থান থেকে অন্যত্র যেতে যাত্রীদের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে৷ তবে যান চালকরাও নিরুপায়৷ কারণ, লকডাউন নীতি নির্দেশিকা মোতাবেক পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে গাড়িতে যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রীদের৷ তাতে কম সংখ্যক যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে ভাড়া না বাড়ালে লোকসান হচ্ছে যান গাড়ির মালিকদের৷ তাই, সরকারি স্তরে ভাড়া বৃদ্ধির নির্দেশিকা ছাড়াই মর্জিমাফিক সমস্ত যাত্রীবাহী গাড়িতে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে৷ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ণ উঠেছে, সরকার অধীনস্ত সংস্থা টিআরটিসি এবং আরবান ট্রান্সপোর্ট যাত্রী পরিবহণে এগিয়ে আসছে না কেন?


সোমবার নাগেরজলায় জনৈক যাত্রী বলেন, অনেকদিন পর বিশ্রামগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে যাচ্ছি৷ কিন্তু ভাড়া লাগছে ১০০ টাকাঊ আগে ৫০ টাকায় বিশ্রামগঞ্জ যেতে পারতাম৷ একই কথা বলেন এক মাঝ বয়সি যুবক৷ তিনি নাগেরজলা থেকে বিশালগড় যাচ্ছিলেন৷ ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকাঊ কিন্তু আগে আরও অনেক কম ভাড়ায় বিশালগড় যেতেন তিনি৷ এদিন, গাড়িতে দেখা গেছে, যাত্রী সংখ্যা অনেক কমঊ বাস কিংবা জিপ গাড়িতে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখেই যাত্রীদের বসানো হয়েছে৷
এ-বিষয়ে জনৈক গাড়ি চালক বলেন, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে৷ কারণ, সরকারি নির্দেশ মেনে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে৷ তাঁর দাবি, আগে ন্যূনতম ১৪ জন যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালিয়েছি৷ এখন ৯ জনের বেশি যাত্রী গাড়িতে বসানো সম্ভব হচ্ছে না৷ ফলে, ভাড়া বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা নেই আমাদের৷ তিনি বলেন, ভাড়া বাড়িয়েও আমাদের প্রতিবার লোকসান হচ্ছেঊ তবুও কিছুটা লোকসানের হার কমেছে৷


লকডাউন ৩.০ চলাকালীন ত্রিপুরায় সরকারি অফিস খুলেছে৷ তাছাড়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানায় কাজ শুরু হয়েছে৷ ফলে মানুষের যাতায়াত করতে হচ্ছেঊ কিন্তু রাস্তায় সরকার অধীনস্ত পরিবহণ সংস্থার কোনও গাড়ি না থাকায় বেসরকারি গাড়িতে যাত্রীদের দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হচ্ছে৷ অথচ, টিআরটিসি এবং আরবান ট্রান্সপোর্টের প্রচুর গাড়ি রয়েছে৷ এই সংকটের মুহূর্তে ওই বাসগুলি রাস্তায় চলাচল করলে মানুষের উপকার হতো বলেই মনে করা হচ্ছে৷