নয়াদিল্লি, ০৮ মে (হি. স.) : কৈলাশ –মানসরোবর যাত্রার সময় কমাতে এবং সীমান্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়িয়ে তুলতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে উত্তরাখন্ডের ধার্চুলা থেকে চিন সীমান্ত লাগোয়া লিপুলেখ পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সূচনা করেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই উপলক্ষে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পিথোরাগড় থেকে গুঞ্জি পর্যন্ত একটি মোটরগাড়ি কনভয়ের যাত্রারও সূচনা করেন। তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের উন্নয়নের ওপর কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার ফলে স্থানীয় মানুষ ও পুণ্যার্থীদের কয়েক দশকের পুরনো স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণ হল। এই সড়কে যাতায়াত শুরু হলে স্থানীয় বাণিজ্য ও আর্থিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কৈলাশ মানসরোবরের পবিত্রতার কথা স্মরণ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, এই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার ফলে এখন থেকে যাত্রার সময় কমে দাঁড়াবে এক সপ্তাহ। আগে কৈলাশ – মানসরোবরে পৌঁছতে সময় লাগতো ২-৩ সপ্তাহ। কৈলাশ – মানসরোবরে যাওয়ার জন্য ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের সূচনা হয়েছে ঘাটিয়াবগড় থেকে এবং শেষ হয়েছে লিপুলেখ সূড়ঙ্গের কাছে গিয়ে। এই সূড়ঙ্গকে কৈলাশ – মানসরোবরের প্রবেশদ্বার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার সড়কের সূচনা হয়েছে যেখান থেকে, সেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ৬ হাজার ফুট। আবার কোথাও এই উচ্চতা বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ০৬০ ফুট। বর্তমানে সিকিম বা নেপাল হয়ে কৈলাশ – মানসরোবর যাত্রায় সময় লাগে ২-৩ সপ্তাহ।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক নির্মাণে সীমান্ত সড়ক সংস্থাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অসামান্য এই সাফল্যের জন্য সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। এই সড়ক নির্মাণে সময় যে সমস্ত কর্মীর দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তাঁদের জন্য শোক প্রকাশ করেন। সীমান্ত সড়ক সংস্থার মহানির্দেশক লেঃজেঃ হরপাল সিং জানিয়েছেন, এই সড়ক নির্মাণের সময় কর্মীদের একাধিক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। লাগাতার তুষারপাত, ভৌগোলিক প্রতিকূলতা, চড়াই-উতরাই ভূমি এবং তাপমাত্রায় ব্যাপক তারতম্যের ফলে কাজে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এজন্য সারা বছরে মাত্র পাঁচ মাস সড়ক নির্মাণে সময় পাওয়া গেছে।অনুষ্ঠানে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়ত, সেনা প্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ, প্রতিরক্ষা সচিব ডঃ অজয় কুমার সহ মন্ত্রক এবং সীমান্ত সড়ক সংস্থার উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

