নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ মার্চ৷৷ দুই সন্তানের মুখে বিষ ঢেলে মা ফাঁসিতে আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় পুলিশ মহিলার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে৷ আজ তাকে আদালতে তোলা হলে আদালত রায়দান স্থগিত রেখে সোমবার পর্যন্ত তাকে জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে৷ তবে ঘটনাটিকে ভীষণ রহস্যজনক বলেও মনে করা হচ্ছে৷
গতকাল শুক্রবার গোমতি জেলার কাঁকড়াবন ব্লকের অধীন শম্বুকছড়া এডিসি ভিলেজের মধ্যপাড়া এলাকায় যমুনা দেববর্মা (২৬), তাঁর দুই সন্তান জবা দেববর্মা (৮) এবং অঙ্কুশ দেববর্মা (৪)-কে বিষ খাইয়ে ফাঁসিতে আত্মঘাতী হয়েছেন৷ ঘটনার সময় মহিলার স্বামী আন্দোলনকিশোর দেববর্মা বাড়িতে ছিলেন না৷ কিন্তু, তার কথাবার্তায় অসংলগ্ণতার জন্য পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে৷ এ বিষয়ে গোমতি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব নাগ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টেপানিয়া জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছিল৷ আজ ওই তিনটি মৃতদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে৷ মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷
তিনি বলেন, গতকাল ঘটনার সময় ওই মহিলার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না৷ তিনি রবার সংগ্রহ করেন৷ ঘটনার সময়ও রবার বাগানে ছিলেন৷ কিন্তু ওই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ, তাদের প্রতিবেশীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কথাবার্তায় অসংলগ্ণতা ধরা পড়েছে৷ তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, পুলিশ আজ তাকে জেলা ও দায়রা আদালতে রিমান্ড চেয়ে সোপর্দ করেছিল৷ কিন্তু আদালত আজ রায়দান স্থগিত রেখে সোমবার পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে৷
এক পরিবারে তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় উদয়পুরের মহকুমাশাসক গোমতির জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন৷ মহকুমাশাসকের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাদের সংসারে আর্থিক অনটন ছিল না৷ কারণ, আন্দোলনকিশোর দেববর্মা রবার বিক্রি করে এবং জমির বর্গা দিয়ে মাসে ১০ হাজার টাকা উপার্জন করেন৷ তাই, বিপিএল হলেও তাদের পরিবারে রেগার জবকার্ড দেওয়া হয়নি৷ মহকুমাশাসকের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান যথেষ্ট মেধাবী ছাত্রী ছিল৷ কুকিবাড়ি ইংরেজি মাধ্যমের আবাসিক সুকলে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে৷ ছুটিতে বাড়ি এসেছিল৷ প্রতিবেশীদের বক্তব্য তুলে ধরে রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের বাড়িতে ঝগড়ার শব্দ পাওয়া শোনা গিয়েছিল৷ তবে মোটের উপর পরিবারে কোনও অশান্তি ছিল না তাদের৷ মুরগির মাংস রান্না করার জন্য মেয়ের আবদারে বাবা রাজি না হওয়ায় তাদের বাড়িতে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল৷ কিন্তু ওই ছোট্ট কারণে এত বড় ঘটনা ঘটবে বলে কোনও যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি মহকুমাশাসক৷
এদিকে, স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃত্যুতে আন্দোলনকিশোর দেববর্মা নিজেও আত্মঘাতী হতে চেয়েছিলেন, প্রতিবেশীরা তাকে বাঁচিয়েছেন বলে মহকুমা শাসক রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন৷ সাথে জানিয়েছেন, যমুনা দেববর্মা সবসময় অতি সক্রিয় এবং অতি সংবেদনশীল ছিলেন৷ তিনি আরও বলেছেন, পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং প্রতিবেশীদের বক্তব্য অনুযায়ী মৃত্যুর কারণ অন্য কিছু হতে পারে৷ ফলে, ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব নয়৷ তবে, মহকুমাশাসকের রিপোর্টে স্পষ্ট, তাদের সংসারে অভাব অনটন ছিল না৷ ফলে, দুই শিশু সন্তান ও মহিলার অস্বাভাবিক মৃত্যু যথেষ্ট রহস্যজনক বলে মনে করা হচ্ছে৷

