নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/ উদয়পুর, ১৩ মার্চ৷৷ রাজ্যের পৃথক স্থানে চারজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে৷ কাকড়াবনে দুই শিশু সন্তানকে বিষ খাইয়ে খুন করে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করলেন মা৷ অন্যদিকে, সিধাই মোহনপুরে এক যুবতীর অগ্ণিদগ্দ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে৷ পৃথক স্থানে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে জনমনে রীতিমতো উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে৷ কি কারণে এই মৃত্যু, এনিয়ে চলছে জোর আলোচনা৷
কাকড়াবন থানার অধীন শামুক ছড়া এডিসি ভিলেজের বাসিন্দা আন্দোলন দেববর্মার স্ত্রী যমুনা দেববর্মা (২৫) তার সাত বছরের মেয়ে জবা দেববর্মা এবং চার বছরের ছেলে অঙ্কুশ দেববর্মাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে৷ তারপর যমুনা বাড়িতেই একটি গাছে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছে৷ গোটা বিষয়টি আবিস্কার করেন আন্দোলন দেববর্মা৷ তিনি পেশায় দিনমজুর৷ অন্যান্যদিনের মতো এদিন সকালেও তিনি কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে যান৷ দুপুর বারোটা নাগাদ তিনি বাড়িতে এসে দেখতে পান ঘরের মধ্যে তার ফুটফুটে দুটি সন্তানের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে৷ মুখ দিয়ে লালা বেড়িয়ে আছে৷ স্ত্রীকে ডাকাডাকি করতে গিয়ে দেখেন গাছের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলে রয়েছে স্ত্রী যমুনার মৃতদেহ৷
এরপর তিনি বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান৷ মুহুর্তের মধ্যেই খবর চলে যায় কাকড়াবন থানায়৷ থানার ওসি খোকন সাহা পুলিশ কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন৷ খবর পেয়ে সেখানে যান গোমতী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব নাগ, এসডিপিও ধ্রুব নাথ৷ পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টেপানিয়স্থিত গোমতী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ এদিন সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ময়নাতদন্ত করা হয়নি৷ শনিবার ময়নাতদন্ত করা হবে৷
এদিকে, এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা শামুক ছড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে৷ পুলিশ প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছে গৃহস্বামী আন্দোলন দেববর্মা পেশায় দিনমজুর৷ প্রায়শই মদ্যপ অবস্থায় থাকে৷ বাড়ি ঘরে অশান্তি লেগেই থাকে৷ আয় রোজগারেরও তেমন কোন রাস্তা নেই৷ অভাব অনটন লেগেই থাকত৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে পারিবারিক অশান্তির জেরেই দুই শিশু সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে আত্মঘাতী হলেন গর্ভধারিনী মা৷
বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে খালি কৃষিজমিতে এক যুবতীর অগ্ণিদগ্দ মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ যুবতীটিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে, নাকি খুন করার পর মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, পুলিশ তার তদন্ত করছে৷ ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন এক যুবককে পুলিশ আটক করেছে৷ এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে৷ কারণ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে৷
পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সিধাই থানাধীন রাঙ্গাছড়া গ্রামে খালি জমিতে শুক্রবার সকালে এক যুবতীর অগ্ণিদগ্দ মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ বছর বাইশের ওই যুবতী গতকাল বিকেলে কেনাকাটার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন৷ তার পর আর বাড়ি ফেরেননি৷ রাঙ্গাছড়া গ্রামের ওই যুবতীর পরিবার গতকাল রাতেই সিধাই থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন৷ কিন্তু পুলিশ তাঁদের কোনও সহযোগিতা করেনি বলে মৃতার মা সীমা দেব অভিযোগ করেছেন৷ তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা গাড়ি চালক সৌরভ পালের কাছে তাদের মেয়ের মোবাইল রয়েছে৷ তাঁদের ধারণা সৌরভ মেয়েকে খুন করেছে৷ যুবতীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গাড়ি চালক সৌরভ পালকে আটক করেছে৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছে পুলিশ৷
তবে ওই যুবতীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে নাকি খুন করার পর মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, তা এখনও পুলিশ জানাতে পারেনি৷ নৃশংস এই খুনের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, তা-ও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ৷ ওই ঘটনা নিয়ে পুলিশের কোনও আধিকারিক মন্তব্য করতে রাজি হননি৷
অন্যদিকে, নারী নির্যাতন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়াই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডিওয়াই এফ আই এবং নারী সমিতি৷ দুটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার আগরতলা শহরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত করা হয়৷ রাজ্যে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন বন্ধ করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেব৷ শুক্রবার আগরতলায় নারী নির্যাতন বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হয়ে তিনি বলেন, নারী নির্যাতন বন্ধে বর্তমান সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে৷ সমাজদ্রোহীদের রুখতে প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ৷ এইসব কাজকর্মে শাসক দল মদত যোগাচ্ছে বলে ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক অভিযোগ করেছেন৷ সে কারণেই সমাজদ্রোহীরা স্বাধীনভাবে এই সব ঘটনা ক্রমাগত সংগঠিত করে চলেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ মোহনপুরে বাইশ বছরের তরুণীকে আগুনে পুড়িয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে৷ রাজ্যে নারী নির্যাতন বন্ধ করতে রাজ্য সরকারকে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করার জন্য দাবি জানানো হয়েছে৷ অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হতে বত্রাধ্য হবেন৷

