শিলচরের অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি লেবে বিস্ফোরণ, চার আহত শিক্ষার্থী, সংকটজনক দুই

শিলচর (অসম), ১১ মার্চ (হি.স.) : শিলচরের অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন (কেমিস্ট্রি) বিভাগের লেবরেটরিতে সংঘটিত বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন এম.এসসি-র প্ৰথম সেমিস্টারের চার শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা সংকটজনক। অতি সংকটজনককে পাঠানো হয়েছে গুয়াহাটিতে। ঘটনা বুধবার বেলা প্রায় সোয়া ১২টা নাগাদ সংঘটিত হয়েছে।

শিলচরে অবস্থিত অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাশ করছিলেন এমএসসি-র প্ৰথম সেমিস্টারের ছাত্রছাত্রীরা৷ সে সময় রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনা সংঘটিত হয়। বিস্ফোরণের ফলে চোখ, হাত, কপালে এসিড ও কাঁচের টুকরো পড়ে আহত হয়েছেন বিপাশা সেনগুপ্ত, পঞ্চতপা সেন, সৌরভ পাল এবং তন্ময় সাহা। অতি সংকটজনক বিপাশা সেনগুপ্তকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে৷ তাঁর চোখে এসিড ও কাঁচের টুকরো পড়েছে।

অন্যদিকে, হাত ও কপালে রাসায়নিক দ্রব্য ও কাঁচের টুকরো পড়ে গুরুতর আহত পঞ্চতপা সেনকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের সার্জারি বিভাগে ভরতি করা হয়েছে। বিস্ফোরণে সামান্য আহত সৌরভ পাল এবং তন্ময় সাহাকে প্ৰাথমিক চিকিৎসা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্নাকোত্তর বিজ্ঞানের ছাত্ৰী পঞ্চতপা সেন হিন্দুস্থান সমাচার-কে জানিয়েছেন, আজ দুপুর প্রায় সোয়া ১২টা সাড়ে বারোটা নাগাদ ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে। তাঁরা তখন কেমিস্ট্রি লেবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন৷  বার্নারে সালফিউরিক এবং নাইট্ৰিক এসিড ঢুকিয়ে সংমিশ্ৰণ করার সঙ্গে সঙ্গে বিপাশার লেবে বিস্ফোরণ ঘটে৷ বিস্ফোরণে বিপাশার চোখে এসিড এবং গ্লাসের টুকরো ঢুকে পড়েছে। এতে বিপাশা গুরুতর জখম হয়েছেন৷ পঞ্চতপার কপাল ও হাতে আঘাত লেগেছে৷

বিস্ফোরণের সত্যতা স্বীকার করেছেন অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রদোষকিরণ নাথ। তিনি জানান, কী করে এই বিস্কোরণ ঘটেছে তার সঠিক কারণ বলেতে পারছেন না এই মুহূর্তে। আপাতত আহতদের চিকিৎসায় যাতে কোনও খামতি না ঘটে সে ব্যাপারে নজর রাখা হচ্ছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্ৰকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন জ্ঞান পাণ্ডে৷ ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রদোষকিরণ নাথ-সহ অন্যদের সঙ্গে তিনিও সিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহত ছাত্ৰী পঞ্চতপার খোঁজখবর নিয়েছেন।

এদিকে বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। কারো মতে, এই চার পড়ুয়া যখন রসায়ন বিভাগের লেবে কাজ করছিলেন, তখন বিপাশার হাত থেকে রসায়ন দ্রব্য ভরতি কাঁচের পাত্র নীচে পড়ে গেলে বিপত্তি ঘটেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, অসতর্কতার জন্য দুটো রাসায়নিক পদার্থ মিশে এই বিস্ফোরণের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে৷ তবে এর সঠিক কারণ তদন্তের পরই জানা যাবে, বলছেন অনেকে।