জনজাতিদের সর্বনাশ করে এডিসি ভোটের মুখে জিএমপির মায়াকান্না

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ ফেব্রুয়ারী৷৷ কয়েকদিন যাবত রাজ্যের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলি বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে৷ সিপিএমের জনজাতি সংগঠন গনমুক্তি পরিষদের কাছে কোন ইস্যু নেই যে ইস্যুকে হাতিয়ার করে তারা জনগণের কাছে যেতে পারে৷ তাই তারা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রদেশ বিজেপির জনজাতি মোর্চার সভাপতি তথা সাংসদ রেবতী কুমার ত্রিপুরা৷তিনি আরও দাবি করেন বিরোধীদের অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন৷ শুধু তাই নয় পঁচিশ বছরে জনজাতিদের সর্বনাশ করে এডিসি ভোটের মুখে এখন জিএমপি তথা ত্রিপুরা রাজ্য গণমুক্তি পরিষদ মায়াকান্না করছে৷


রবিবার বিজেপি রাজ্য কার্য্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, কিন্তু বাস্তবে বিজেপির কর্মসূচী ত্রিপুরা রাজ্যকে এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা বানানোর জন্য৷ এডিসি-কে অধিক ক্ষমতা প্রদান, ককবরক ভাষাকে অষ্টম তপশিলের অন্তর্ভুক্ত করা বিজেপির লক্ষ্য৷ তাই চলতি লোকসভা অধিবেশনে ককবরক ভাষাকে অষ্টম তপশীলের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দাবি উত্থাপন করা হয়েছে৷ ত্রিপুরাকে এক এবং শ্রেষ্ঠ বানানোর জন্য সকল ধরনের কর্মসূচী বিজেপির রয়েছে৷ সেই দিশাতে কাজ চলছে৷


তিনি আরও বলেন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজনৈতিক সংসৃকতি দেখলে দেখা যায় জনজাতিদের নিয়ে রাজনীতি করা হয়৷ সামনে এডিসির নির্বাচন৷ এই নির্বাচনকে সামনে রেখে জনজাতিদের সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে কিছু কিছু রাজনৈতিক দল মায়া কান্না করছে৷ অথচ ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও তারা কিছু করেনি এডিসির জন্য৷ এমনকি দিল্লিতে গিয়ে একটি স্মারকলিপিও জমা দেয়নি তারা৷ বর্তমান সরকারের বয়স ২৩ মাস৷ এই ২৩ মাসে সরকার রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে সব দিকগুলি নিয়ে কাজ করে চলছে৷ শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন শিক্ষা নীতি চালু করা হয়েছে৷ শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য সরকার চিন্তা ভাবনা করছে৷


সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা বলেন, নতুন কর্মসংস্থানের জন্যও সরকার কাজ করে চলছে৷ আগরতলা বিমান বন্দরে মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যর মূর্তি বসানো, মহারাজার জন্মদিনে সরকারী ছুটি ঘোষণা দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল৷ এই সরকার তা পূরণ করেছে৷ বিজেপির জনজাতি মোর্চার পক্ষ থেকে যে সকল দাবি গুলি রাজ্য সরকারের নিকট জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকার সেই দাবি গুলির অনুমোদন দিয়েছে৷ এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে৷ বামফ্রন্ট সরকারের সময় দেখা গেছে দিল্লি থেকে কোন চিঠি আসলে তারা তাআর উত্তর দেওয়ারও প্রয়োজন মনে করতো না৷ এমনকি রাজ্য থেকে কোন নেতৃত্ব দিল্লিতে গিয়ে সুনির্দিষ্ট কোন দাবি পেশ করেনি৷

দিল্লি থেকে একটি প্রতিনিধি দল এডিসি-র তথ্য সংগ্রহের জন্য এসেছিল৷ কিন্তু বামেদের কোন প্রতিনিধিদল তাদের সাথে দেখা করেনি বলেও দাবি করেন সাংসদ রেবতী কুমার ত্রিপুরা৷ পাশাপাশি তিনি জানান বিজেপি দল একমাত্র জনজাতিদের সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে৷
তিনি বলেন, ২৩ মাসের মধ্যে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতি মতো কাজ করতে শুরু করেছে বলেও দাবি করেন সাংসদ রেবতী কুমার ত্রিপুরা৷ বর্তমান সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল তখন প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি ছিল৷ পরবর্তী সময় মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য মন্ত্রিরা দিল্লি গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ এনে এডিসি সহ রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছে৷