নিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাসহর/চড়িলাম, ২ ফেব্রুয়ারি৷৷ পৃথক স্থানে যান সন্ত্রাসের বলি হল দুজন৷ একজন ট্রিপার ট্রাকের ধাক্কায় এবং অন্যজন বাসের ধাক্কায়৷ সংবাদে প্রকাশ, বেপরোয়া টাটা ট্রিপার কেড়ে নিল এক তরতাজা যুবকের প্রান৷ ঘটনা চন্ডিপুর ব্লকের অধীন ছনতৈল গ্রাম পঞ্চায়েত হালাই বস্তি এলাকায়৷ এলাকাবাসী বেপরোয়া ট্রিপার ও ড্রজারটিকে আটক করে কৈলাশহর থানার হাতে তুলে দেয়৷ মৃত যুবকের নাম গৌতম বাহাদুর রায়, পেশায় দিনমজুর৷
জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন যাবৎ স্থানীয় আশা ব্রিক কনস্ট্রাকশন এবিসি-এর ইট ভাট্টার জন্য হালাই বস্তি এলাকা থেকে মাটি নিচ্ছিল ইটভটাটার গাড়ি ও ড্রাজার৷ স্থানীয় এলাকাবাসীরা বেশ কয়েকবার বাধা দেওয়া সত্বেও কোন কাজ হয়নি ইটভাট্টার মালিক নিজ ক্ষমতাবলে এই এলাকায় অনুপযুক্ত ও অপ্রশস্ত গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করার ছিল৷ আজ সকাল দশটা নাগাদ বাড়ি থেকে গ্রামের দোকানে আলু কিনতে যায় গৌতম বাহাদুর প্রায়৷ আলু কিনে বাড়ি ফেরার পথে বেপোরোয়া টিআর০২ এইচ১৬৪৬ নাম্বারের টাটা টিপার গাড়িটি গৌতমকে পিষে দেয়৷ স্থানীয় এলাকাবাসী ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে সাথে সাথে ড্রজার ও ট্রিপার গাড়িটি আটক করলেও চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়৷
পরবর্তী সময়ে কৈলাশহর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৌতম বাহাদুর রায়ের দেহ উদ্ধার করে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায় ময়না তদন্ত করার জনৌত্থ্য৷ পুলিশ গাড়ি দুটিকে কৈলাসহর থানা হেফাজতে নিয়ে আসে৷ গৌতম বাহাদুর রায় অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের পেশায় দিনমজুর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি৷ প্রাথমিকভাবে জানা যায় গাড়ি দুটি আশা ব্রিজ কনস্ট্রাকশন এর নিজস্ব৷ এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘাতক গাড়ি চালকের চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অসহায় গৌতমের পরিবারের ক্ষতিপূরণ দাবি করছে৷
এদিকে যান সন্ত্রাসে প্রাণ গেল পাঁচবছরের এক শিশুর৷ ঘটনা শনিবার বিকেলে বিশালগড় থানাধীন দুই নং গেইট এলাকার আগরতলা-সাব্রুম জাতীয় সড়কে৷ শিশুটির বাড়ি সবরপাড়া এলাকায়৷ শিশুটির নাম আমেন সবর৷ জানা গেছে একটি বাস গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়৷ মৃত শিশুটির মা একজন বাগানের শ্রমিক৷ শিশুটির মা হরিশনগর চা-পাতা বাগানের অফিসে গিয়েছিলেন কাজের টাকা আনতে৷ তখন শিশুটির দিকে আর তার মার নজর ছিল না৷ শিশুটি জাতীয় সড়কে চলে আসে৷ সেখানে তাকে একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ৷ প্রথমে তাকে বিশালগড় হাসপাতালে নিয়ে গেলে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রেফার করা হয় হাপানিয়া হাসপাতালে৷ পরে হাপানিয়া হাসপাতালেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে বলে জানা যায়৷ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে৷

