নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ ফেব্রুয়ারী৷৷ আবারও বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার এক মহিলা৷ প্রকাশ্যে মহিলাকে বিবস্ত্র করে মারধর করা হয়েছে৷ এলাকার প্রায় পঞ্চাশ ষাট জন মহিলা একত্রিত হয়ে ওই মহিলাকে মারধর করা হয়৷ এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বীরগঞ্জ থানার অধীন দেববাড়ি এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে৷
একটা সময় রাজ্যে নারী গঠিত অপরাধ দিনের পর দিন বৃদ্ধি পায়৷ দেশের মধ্যে প্রান্তিক রাজ্য ত্রিপুরা প্রথম স্থান দখল করে৷ রাজ্যের বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠার পর নারীগঠিত অপরাধের লাগাম টানার জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়৷ তাতে সাফল্যও আসে৷ কিন্তু সরকারের এই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিতে একাংশ লোক এখনও সক্রিয় ভুমিকা পালন করছে৷ আইনকে নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে তারা৷ যার জলন্ত উদাহরণ অমরপুর মহকুমার বীরগঞ্জ থানার অধীন দেববাড়ি এলাকায় এক মহিলাকে প্রকাশ্যে বেধড়ক ভাবে মারধর করার ঘটনা৷
ঘটনার বিবরণে জানা যায় এলাকায় শনিবার মহিলা সংক্রান্ত একটি ঘটনা ঘটে৷ এই ঘটনার রেশ ধরেই এলাকার কিছু মহিলা নির্যাতিতাকে নিজ ঘর থেকে চুলের মুঠি ধরে টেনে মারতে মারতে খোলা আকাশের নিচে সুকল মাঠে নিয়ে আসে৷ সেখানে বেধড়ক ভাবে ঐ মহিলাকে মারধর করা হয়৷ সকলের সন্মুখে এক প্রকার অর্ধনগ্ণ করে ঐ মহিলার উপর নির্যাতন চালানো হয়৷ কিল, ঘুষি, লাথি যে যার মতো করে ঐ মহিলার উপর নির্যাতন চালায়৷ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল মহিলা ও পুরুষ মিলে প্রায় ৫০ জন৷ সকলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেও কেউই ঐ মহিলাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি৷ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতিতা শনিবার রাতে বিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বোন৷ বীরগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলাটি হয়েছে আইপিসির ৪৫৭, ৩২৫, ২৩৯, ৫০৬ এবং ৩৪ ধারা মোতাবেক৷ তবে এখনো পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি৷ এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝর বইছে৷
দাবি উঠছে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের৷ অভিজ্ঞ মহলের মতে নির্যাতিতার যদি কোন অপরাধ থেকে থাকে তবে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল৷ কিন্তু তা না করে যারা আইনকে নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে তারা আইনের চোখে বড় অপরাধী৷ আবার যারা দাড়িয়ে দাড়িয়ে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে তারাও আইনের চোখে অপরাধী৷ তাই তাদের সকলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে৷
এদিকে, বর্তমানে ওই মহিলা গোমতী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন৷ আশা করা যাচ্ছে আগামীকাল তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে৷ অন্যদিকে, ত্রিপুরা রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বর্ণালী গোস্বামীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন৷ আগামীকাল তিনি এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন বলে জানিয়েছেন৷
প্রসঙ্গত, এই ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা এরাজ্যে নতুন নয়৷ এর আগেও বহু মহিলাকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়েছে৷ এমনকি খুনও করা হয়েছে৷ ২০১৮ সালের সেপ্ঢেম্বরে অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছিল পূর্ব রাঙ্গামটি এলাকাতে৷ ওই ঘটনায় মহিলাকে গাছে সাথে বেঁধে এলাকার লোকজন বেধরক মারধর করেছিল৷ ২০১৪ সালে আগরতলায় টাটা কালীবাড়িতে এক মহিলাকে প্রকাশ্যে বেধে মারধর করা হয়৷ এছাড়াও বিশালগড়, সোনামুড়া ইত্যাদি স্থানেও মহিলার উপর বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়েছিল৷ রাজ্যে একের পর এক এই ধরনের নির্যাতনের ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে৷

