আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে শুরু হল রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি

দ্য হেগ, ৯ ডিসেম্বর (হি.স.) : নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালত (আইসিজে)-এ শুরু হল রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি | ভারতীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে মায়নামারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা এই বহু চর্চিত মামলার শুনানি শুরু হয় । এই মামলার টানা শুনানি চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত |

গত মাসে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন’র (ওআইসি) পক্ষে আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার ঘটনায় মায়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে গাম্বিয়া। ভারতীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল তিনটে নাগাদ মায়নামারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা এই বহু চর্চিত মামলার শুনানি শুরু হয় । শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন উভয় পক্ষের প্রতিনিধি দল | শুনানিতে অংশ নিয়েছেন মায়নামারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গার আশ্রয়দাতা বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও |এরই মধ্যে গাম্বিয়া যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেছে। সেখানে তারা তুলে ধরছেন রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনে রাষ্ট্রসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্যও ।

খবর বুধবার সু চি নিজেই মায়নামারের পক্ষে এ মামলায় আইনি মোকাবিলার নেতৃত্ব দেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এই প্রথমবারের মত রোহিঙ্গা ইস্যুতে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য মায়নামার কোনও শুনানিতে দাঁড়াতে চলেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ববাসীকে মায়নামারের অবস্থান জানানোর ক্ষেত্রে এটিকে একটি সুযোগ বলে অভিহিত করছে তারা।  

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ১৫ জন নির্দিষ্ট বিচারপতি রয়েছেন। তবে এই শুনানিতে ১৫ জনের সঙ্গে রয়েছেন আরও দুজন এডহক বিচারপতি। গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে নাভি পিল্লাই এবং মায়ানমারের পক্ষ থেকে প্রফেসর ক্লাউস ক্রেস এডহক বিচারপতি হিসেবে যোগ দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী শুনানির শুরুতেই তাদের দুইজন শপথ নেন। তিন দিনের শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

উল্লেখ্য, গত ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে মায়নামার সেনাবাহিনীর অত্যাচারের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে বহু রোহিঙ্গা। মায়নামার সেনাবাহিনীর ২০১৭ সালের ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ ও ‘হত্যাযজ্ঞ’ আখ্যা দেয় রাষ্ট্রসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তবে মায়নামার সরকার ও সেনাবাহিনী বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ।