নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ অক্টোবর৷৷ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে আজ ত্রিপুরা স্ব-শাসিত এলাকা জেলা পরিষদ সদর খুমুলুঙে ৫ ঘন্টার গণবস্থান করেছে আইএনপিটি৷ দলের সভাপতি বিজয় কুমার রাঙ্খলের সাফ কথা, লোকসভায় ওই সর্বনাশী বিল কোনভাবেই পেশ করতে দেওয়া যাবে না৷ তবে, একান্তই পেশ করতে চাইলে বিলের ভাষা বদলাতে হবে৷ দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি হবে না, এমন বিধান থাকলেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে আপত্তি নেই আইএনপিটির৷

পূর্ব ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আজ খুমুলুঙ-এ আইএনপিটি ও তার শাখা সংগঠন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে ৫ ঘন্টার গন অবস্থান করেছে৷ সাথে, ত্রিপুরায় বলি প্রথা নিষিদ্ধের হাইকোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছে৷ আজ আইএনপিটি সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ দেববর্মা বলেন, দুইটি দাবিকে সামনে রেখে এই গণবস্থানে বসেছে আইএনপিটি৷ তাঁর কথায়, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবিকে মুখ্য হিসেবে রেখে এই গণবস্থানে মিলিত হয়েছি আমরা৷ তিনি বলেন, ২০১৬ সলথেকেই বিজেপি ওই বিল আনতে চাইছে৷ লোকসভায় ওই বিল পেশ করা হলেও বিরোধীদের তীব্র আপত্তিতে সেই বিল সিলেক্ট কমিটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু, এখন ফের ওই বিল লোকসভায় পেশ করার লক্ষ্যে বিজেপি প্রচার শুরু করেছে৷ তাঁর দাবি, লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কোনভাবেই পেশ করতে দেওয়া হবে না৷ সাথে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ রাখেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভূমিপুত্রদের স্বার্থে ওই বিল প্রত্যাহার করা হোক৷
এদিন আইএনপিটি সভাপতি বিজয় কুমার রাঙ্খল বলেন, সর্বনাশা খেলায় নেমেছে বিজেপি৷ কারণ, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কারণে এই অঞ্চলের ভূমিপুত্ররা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন৷ তাঁর মতে, আমাদের জাতি এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে চলেছে৷ ফলে, মাথা গুঁজার ঠাঁই মিলবে কিনা তাই আমরা বুঝতে পারছিনা৷ তাঁর বক্তব্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হলে বহিরাগতদের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ গুনবৃদ্ধি পাবে৷ তাই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানান, ওই বিল প্রত্যাহার করে নিন৷ নয়তো, ওই বিলের ভাষা পরিবর্তন করে আনুন৷ তাঁর সাফ কথা, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হলে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে না, এমন বিধান বিলে রাখা হলে তাতে আইএনপিটির কোন আপত্তি হবে না৷

