শহরের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৩ অক্টোবর৷৷ আগরতলা শহরের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ত্রিপুরা সরকার৷ এর মধ্যে স্মার্ট সিটি প্রকল্পে রাস্তা নির্মাণ, জলাশয় সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যায়নের লক্ষ্যে পার্ক নির্মাণ সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো তৈরীর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছে৷ আজ মেলারমাঠের সাতলাখী পুকুরের উন্নয়নও সৌন্দর্যায়ণে নবনির্মিত পার্কের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেন৷ আমরুত প্রকল্পে এই পার্কটি তৈরী করতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২২ লক্ষ টাকা৷ উদ্বোধকের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বারের জন্য দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে জল সংরক্ষণের উপর প্রাধান্য দেন৷ তিনি যখন ২০১৪ সালে প্রথমবার দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তখন তার মূল আহ্বান ছিল স্বচ্ছ ভারত অভিযান৷ আজ শুধু ভারতে নয়, বিশ্বব্যাপী জল সংরক্ষণের উপর আলোচনা চলছে৷


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির মাধ্যমে আগরতলার কামান চৌমুহনী, ভগৎ সিং যুব আবাসের পাশে এবং নন্দননগরে ১০০০ বহুতল ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে৷ ফ্ল্যাট বুকিং এর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে৷ ফলে আগরতলাবাসী এখন কলকাতা নয় আগরতলাতেই ফ্ল্যাট কিনে খুশী হবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন৷ তিনি বলেন, রাজ্যবাসী তার মাটিকে ভালোবাসলেই রাজ্যের সবকিছু তার কাছে ভালো লাগবে৷ কারণ যেখানেই ভালোবাসা রয়েছে সেখানে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়৷
মুখ্যমন্ত্রী গতকাল গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ স্টেক হোল্ডার মিটের প্রসঙ্গে বলেন, ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি থেকে পোর্ট রেসট্রিকশন তুলে দেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক পরামর্শদাতার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে৷ বন্দর নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি দারুণ উপকৃত হবে৷ তিনি বলেন, ফেনী নদীর উপর সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ত্রিপুরা সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহণে খরচ কমে যাবে৷ পাশাপাশি ত্রিপুরা উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য করিডোর হয়ে উঠবে৷

তাতে সবচেয়ে বেশী লাভবান হবে বাংলাদেশ৷ গুয়াহাটিতে ভারত-বাংলাদেশ স্টেকহোল্ডার মিটে আসামের মুখ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা ত্রিপুরাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন৷ এটা রাজ্যবাসীর জন্য নিশ্চয়ই আনন্দের বিষয়৷ তাছাড়াও সাব্রুমে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সেখানে বিনিয়োগ করবেন বলেও তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী শ্রীদেব জানান৷ তাতে রাজ্যের জনগণের রোজগারের সুুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী আশাব্যক্ত করেন৷


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে বিধায়ক আশীষ কুমার সাহা বলেন, সাতলাখী পুকুরটিকে আবর্জনামুক্ত ও জঞ্জালমুক্ত করে সৌন্দর্যায়ণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে সংস্কার করে পার্কের পরিবেশ গড়ে তোলার দাবি ছিল এলাকাবাসীদের৷ আজ পুর নিগমের এই কর্মসূচি বাস্তবায়ণের মাধ্যমে এলাকার জনগণের মধ্যে পরিবেশ দূষণমুক্ত ও জঞ্জালমুক্ত করার উৎসাহ সঞ্চারিত হয়েছে৷ রাজ্য সরকার জল সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে শহরের পুকুরগুলি সহ রাজ্যের বিভিন্ন জলাশয়গুলি সংস্কার করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে৷ নবনির্মিত পার্কটির যথোপযুক্ত, রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য এলাকাবাসীদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান বিধায়ক শ্রীসাহা৷


অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র ড় প্রফুল্লজিৎ সিনহা বলেন, সাতলাখী পুকুরকে আবর্জনা ও জঞ্জালমুক্ত করে সৌন্দর্যায়ণের মাধ্যমে সংস্কার করা হয়েছে৷ আগরতলা শহরের এরকম ৭টি পুকুরকে সৌন্দর্যায়ণের কাজে হাত দিয়েছে পুর নিগম৷ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগীতায় এই কাজগুলি করা হবে বলে মেয়র জানান৷


অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার ড় শৈলেশ কুমার যাদব৷ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুর পারিষদ বিশ্বনাথ সাহা, নগরোন্নয়ন দপ্তরের বিশেষ সচিব কিরণ গিত্যে, নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা ড় মিলিন্দ রামটেকে প্রমুখ৷