নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ অক্টোবর৷৷ অবশেষে গ্রেপ্তার হচ্ছেন বাদল চৌধুরী৷ দীর্ঘ শুনানীর পর আদালত তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে৷ এদিকে, প্রাক্তন পূর্ত কর্তা সুনীল ভৌমিকেরও জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত৷ তাঁকে চারদিনের পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ আদালতের রায় ঘোষণা হওয়ার সাথেই পুলিশ মেলারমাঠে সিপিএম পার্টি অফিসে তল্লাসীতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে৷ আবারও সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাসী করতে দেওয়া হবে না বলে সিপিএম পার্টি অফিসের দরজায় আটকে দেওয়া হয়েছে পুলিশকে৷ স্বাভাবিকভাবেই মধ্যরাতে মেলারমাঠে আবারও নাটকিয় খেলা শুরু হয়েছে৷

বুধবার দুপুর বারোটা থেকে বাদল চৌধুরীর জামিনের আবেদনের উপর শুনানী শুরু হয়৷ বাদি ও বিবাদি উভয় পক্ষ আদালতে জোর সওয়াল করেন৷ দুপুর তিনটা পর্য্যন্ত আদালতে শুনানী হয়৷ আদালত উভয় পক্ষের সমস্ত বক্তব্য শুনার পর রায়দান স্থগিত রাখেন৷ শুনানী শেষে বাদল চৌধুরীর পক্ষের আইনজীবী পুরুষোত্তম রায়বর্মন বলেন, আদালতে ওই মামলায় বাদল চৌধুরীকে কোনভাবেই গ্রেপ্তার করা যায় না৷ সেই যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে৷ তাছাড়া, তাঁর শারিরীক অবস্থা সম্পর্কেও ডাক্তারী রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে৷ তিনি বলেন, আজ আদালত তাঁর মক্কেলের জামিন মঞ্জুর করবেন৷ এদিকে, প্রাক্তন পূর্তকর্তা সুনীল ভৌমিকের পক্ষের আইনজীবী পিযুষ কান্তি বিশ্বাস বলেন, ওই মামলায় কোনভাবেই প্রাক্তন পূর্ত মন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক বাদল চৌধুরী গ্রেপ্তার করা যায় না৷
কারণ, এফআইআরে ভারতীয় ফৌজদারী দন্ডবিধির ধারা ৪০৯ উল্লেখ করা হলেও ওই মামলার সাথে এই ধারা কোনওভাবেই সম্পৃক্ত নয়৷ তাছাড়া, দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ কারণ কোন কাজ শুরু হওয়ার সময় যে দর নির্ধারিত থাকে তা সমাপ্ত হওয়ার সময় স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে যায়৷ এক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত হবে না বলে যুক্তি দেখিয়েছেন তিনি৷ তাঁর দাবি, বাদল চৌধুরীর জামিনের আবেদন আজ আদালত গ্রহণ করবেই৷
এদিকে, দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধার পর রাত হয়ে গেলেও আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছিল৷ ফলে, বাদল চৌধুরীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকন্ঠা ক্রমেই বাড়ছিল৷ অন্যদিকে, মেলারমাঠে সিপিএম পার্টি অফিসের সামনে রায়দানের আগেই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছিল৷ পুলিশের এই রণসাজকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই অনুমান করা যাচ্ছিল আদালরে রায়দানে বাদল চৌধুরীর জামিনের আবেদন খারিজ হতেই তাকে গ্রেপ্তারে পুরো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আরক্ষা দপ্তর৷
অবশেষে, রাত ১১টা ৪০ মিনিটে দায়রা জজ এস দত্ত পুরকায়স্থ রায় ঘোষণা দেন৷ তিনি পশ্চিম আগরতলা থানায় নথিভুক্ত ২৫১/১৯ নম্বর মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক বাদল চৌধুরীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন৷ একই সাথে তিনি আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছে তাও আদালত মঞ্জুর করেছে৷ এদিকে, ওই মামলায় প্রাক্তন পূর্তকর্তা সুনীল ভৌমিকেরও জামিনের আবেদন খারিজ করেছে আদালত৷ তাকে চারদিনের পুলিশ রিমান্ডে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
এদিন, রায় ঘোষণার পর সিপিএম পার্টি অফিস থেকে বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাশ সহ একের পর এক সিপিএম নেতৃত্ব বেরিয়ে যান৷ কেউই বাদল চৌধুরীর জামিনের আবেদন খারিজ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে চাননি৷ এদিকে, পুলিশের সামনেই এদিন সিপিএম পার্টি অফিসে সদর দরজা লাগিয়ে দেন ভেতরে থাকা দলীয় কর্মীরা৷ তার কিছুক্ষণ বাদে পুলিশ সিপিএম পার্টি অফিসে প্রবেশ করতে গেলে দলীয় কর্মী সমর্থকরা পুলিশকে বাধা দেন৷ তখন আবারও সিপিএম পার্টি অফিসে প্রবেশ করাকে ঘিরে নাটকিয় খেলা শুরু হয়ে যায়৷
এদিকে, বাদল চৌধুরীর পক্ষের আইনজীবী রঘুনাথ মুখার্জী জানিয়েছেন, আগামীকাল উচ্চ আদালতে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জামিনের আবেদন জানানো হবে৷ তবে, উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন মঞ্জুর না হওয়া পর্যন্ত বাদল চৌধুরীর ঘাড়ে গ্রেপ্তারীর খড়গ ঝুলতে থাকবে৷ যেকোনও সময় তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন৷

