নিজস্ব প্রতিনিধি, চুড়াইবাড়ি, ২৩ সেপ্ঢেম্বর৷৷ চলতি মাসের ১৪ই সেপ্ঢেম্বর উত্তর জেলার চুরাইবাড়ির বহুচর্চিত মাতা বিশ্বেশ্বরী সেবাশ্রমে দূঃসাহসিক চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়৷তাছাড়াও বেশ কিছু দিন ধরে উত্তর জেলায় চুরি কাণ্ডে জনমনে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে৷প্রথমে দোকান,ঘরবাড়ি চুরি হলেও, ইদানীংকালে উত্তর জেলার ঐতিহ্যবাহী মন্দির মাতা বিশ্বেশ্বরী সেবাশ্রমে চুরি সহ ছোট বড় বিভিন্ন মন্দিরে হাত সাফাই করছে চোরের দল৷প্রায় দেড় মাস ধরে উদ্বেগজনকভাবে পরপর এই চুরি কাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে উত্তর জেলার ধর্মনগর মহাকুমা জুড়ে৷উত্তর জেলার পুলিশ এই চুরি রোধ করতে ব্যর্থ ছিল,চুরি কান্ড বন্ধ করতে কিছুই করতে পারছিল না পুলিশ,এদিকে উত্তর জেলার পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তী একমাসের জন্য ছুটিতে ছিলেন,সুতরাং অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল জেলার পুলিশ প্রশাসন৷গত ১৭ই সেপ্ঢেম্বর কাজে যোগদেন পুলিশ সুপার৷

রাতেই উত্তর জেলার থানার সকল ওসি ও আরক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি৷পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে পুলিশ আরো জানতে পারে এই চুরি কাণ্ডের সাথে জড়িত রয়েছে রাজ্যের বেশ কিছু যুবক সহ পার্শবর্তী রাজ্য অসমের একটি চোরের দল,যারা যৌথ ভাবে এই চুরি কাণ্ড সংঘটিত করে যাচ্ছে, যার সুফল মিলল আজ৷গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তীর কাছে খবর আসে চোর চক্রের মূল এক পাণ্ডা উত্তর জেলার পানিসাগর মহকুমার পদ্ম-বিলে রয়েছে যার নাম নাজিম উদ্দিন(২৭), পিতা কোটি চাঁদ মিয়া৷তার বাড়ি চুরাইবাড়ি থানা এলাকার উত্তর ফুলবাড়ি গ্রামের ৫ নং ওয়ার্ডে৷ মাতা বিশ্বেশ্বরী সেবাশ্রমে চুরিসহ চুরাইবাড়ি থানা এলাকায় ইদানীংকালের সংগঠিত সবকয়টি চুরির ঘটনার সাথে জড়িত থাকা সহ পুরো বছরের বুড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে রয়েছে৷উত্তর জেলার পুলিশ সুপার ভানু পদ চক্রবর্তীর তথ্যের উপর ভিত্তি করে অভিযান চালান চুরাইবাড়ি থানার সেকেন্ড ওসি সাধন মজুমদার, গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম ও চুরাইবাড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী৷কয়েকদিন ধরে তাকে পাকড়াও করার জন্য সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ৷কিন্তু সে পালিয়ে থাকার জন্য তা সম্ভব হচ্ছিল না৷ অবশেষে আজ রাত নয়টা নাগাদ তাকে পানিসাগর থেকে পাকড়াও করে চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ সহ গোয়েন্দা পুলিশ৷পানিসাগরের পদ্মবিল এলাকার লম্বাটিলা ২নং ওয়ার্ডে সে আত্মগোপন করেছিল৷ ধৃত চোরের নাম নাজিম উদ্দিন (২৭) পিতা কুটিচান্দ মিয়া৷ পুলিশ তাকে ধরতেই সে নিজের গলায় দা লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে৷ বর্তমানে সে চুরাইবাড়ি থানার হেফাজতে রয়েছে৷
এদিকে,চুরাইবাড়ি থানার সেকেন্ড ওসি সাধন মজুমদার জানান,ধৃত কুখ্যাত চোর নাজিম উদ্দিনের বাড়ি ফুলবাড়ী হলেও সে অনেকদিন ধরে নদীয়াপুর তার শ্বশুর বাড়িতে থাকতো৷সেখান থেকে সে পালিয়ে যায় পানিসাগর পদ্মবিলের লম্বাটিলা এলাকায়৷বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সেখানে বসতি শুরু করে৷ অবশেষে গোপন সূত্রের উপর ভিত্তি করে আজ রাতেই তাকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে চুরাইবাড়ি থানায় নিয়ে আসে পুলিশ৷আগামীকাল তাকে ধর্মনগর আদালতে সোপর্দ করা হবে অবশ্য কালই তাকে পুলিশ রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে বলে জানান মাতা বিশ্বেশ্বরী সেবাশ্রম চুরির ২০ নম্বর মামলার আইও সাধন মজুমদার৷
জিজ্ঞাসাবাদের পর অনেক রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ৷তবে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন এই চুরি কাণ্ডে আসাম ও ত্রিপুরার আরও কিছু বড় মাথা অধরা রয়েছে তাদের খুব শীঘ্রই জালে তুলা হবে৷ কারণ বাকি চোরদের আটক করা না গেলে আরও চুরি কাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ উত্তর জেলার বিভিন্ন মন্দির চুরি কাণ্ডের মূল পাণ্ডা নাজিম উদ্দিনকে আটক করায় উত্তর জেলায় সস্থির নিঃশ্বাস এবং পুলিশের এই সাফল্যে খুশীর আবহ এলাকা জুড়ে৷

