অসমে প্রকাশিত এনআরসি-র পূর্ণাঙ্গ তালিকা, বহাল ৩ কোটি, বাদ ১৯ লক্ষ

গুয়াহাটি, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.)৷৷ আজ শনিবার প্রকাশ করা হয়েছে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-র চূড়ান্ত তালিকা৷ এদিন সকালেই এনআরসি কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ওয়েবসাইট খুলে দিয়েছে৷ এআরএন সার্চ করে অসমের নাগরিকরা তাঁদের নাম এনআরসি-র পূর্ণাঙ্গ তালিকায় রয়েছে কিনা তা দেখতে শুরু করেছেন৷

সবর্োচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এনআরসি নবায়ন প্রক্রিয়া শেষে ৩১ আগস্ট (২০১৯) প্রকাশিত পরিপূরক চূড়ান্ত তালিকায় যে ৩,১১,২১,০০৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল তাঁদেরই বহাল রাখা হয়েছে৷ এছাড়া বাদ পড়েছে ১৯,০৬,৬৫৭ জনের নাম৷ বলা হচ্ছে, তাঁদের অনেকে দাবি ও আপত্তি দাখিল করেননি৷ স্বাভাবিকভাবে তাঁদের নাম আজ প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে৷ প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত এনআরসি-র প্রথম খসড়ায় ৩,২৯,৯১,৩৮৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে বিস্তৃত পরীক্ষণের পর ২,৮৯,৮৩,৬৭৭ জনের নাম প্রকৃত ভারতীয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল৷ এ থেকে বাদ পড়েছিল ৪০,০৭,৭০৭ জনের নাম৷ পরবর্তীতে চূড়ান্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে প্রামাণিক ওজর-আপত্তি ফর্মে তথ্য-সহ আবেদন জানিয়েছিলেন ৩৬,২৬,৬৩০ জন৷ এ-থেকে ১৯ লক্ষ ৬,৬৫৭ জনের নাম বাদ পড়েছে সংযোজিত চূড়ান্ত তালিকা থেকে৷ এনআরসি-র প্রথম খসড়া-ছুট ৪০,০৭,৭০৭ জনের মধ্য ৩৬,২৬,৬৩০ জন আবেদন জানালেও বাকি ৩,৮১,০০৭ জন কোথায় গেলেন? কেন এরা পুনরায় আবেদন জানাননি? উঠেছে সে প্রশ্ণ৷

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, রাজ্যে চলমান বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নবায়ন প্রক্রিয়া শেষে এনআরসি থেকে বাদ পড়া এবং অন্তর্ভুক্তদের চূড়ান্ত তালিকা গত ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হলেও এতে সকলের নাম ছিল না৷ কেননা, ৩১ আগস্ট কেবল অতিরিক্ত পরিপূরক বা সংযোজিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল৷ এতে শুনানির জন্য আবেদনকারী এবং পূর্ববর্তী খসড়ায় বাদ পড়েছিলেন যাঁরা তাঁদের নামই কেবল পাওয়া গিয়েছিল৷ তাই আজ পূর্ণাঙ্গ তালিকার মাধ্যমে এনআরসি-ভুক্ত সবার নাম প্রকাশিত হয়েছে৷

উল্লেখ্য, অসমে এনআরসি নবায়নের ক্ষেত্রে রাজ্যে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের মধ্য রাতের পূর্ববর্তী বাসিন্দাদের প্রকৃত নাগরিক বলে গণ্য করা হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, প্রকাশিত এনআরসি-র পূর্ণাঙ্গ তালিকা থেকে অসমের যে ১৯,০৬,৬৫৭ জনের নাম বাদ পড়েছে, পুনরাবেদনের জন্য তাঁদের ১২০ দিন অর্থাৎ চার মাস সময় দেওয়া হয়েছে৷ এই সময়কালে তাঁরা নিকটবর্তী ফরেনার্স ট্রাইবুনালে উপযুক্ত নথিপত্র সহকারে তাঁদের ভারতীয় বলে প্রমাণিত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে৷

এনআরসি-র পূর্ণাঙ্গ তালিকায় কারা, কীভাবে নাম দেখবেন? প্রথমত, ২০১৭-এর ৩১ ডিসেম্বর বা ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই প্রকাশিত এনআরসি-র সম্পূর্ণ খসড়ায় যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি তাঁরা, নতুবা ২০১৯ সালের ২৬ জুনে প্রকাশিত অতিরিক্ত সম্পূর্ণ খসড়া-ছুট, অথবা সম্পূর্ণ এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যে-সব ব্যক্তি ওজর-আপত্তি দাখিল করেছিলেন, এছাড়া যাঁদের কোনও শুনানিতে ডাকা হয়নি তাঁরা তাঁদের নির্ধারিত এনএসকে / সার্কল অফিস / জেলাশাসকের কার্যালয়ে চূড়ান্ত সংযোজনী এনআরসি তালিকায় তাঁদের অবস্থিতি দেখতে পারবেন৷ তাছাড়া এনআরসি-র নিজস্ব ওয়েবসাইটে সার্চ করলেও নাম দেখা যাবে৷

এদিকে, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) বহির্ভূতদের খুব শীঘ্রই শুরু হবে বিচারপ্রক্রিয়া৷ ইতিমধ্যে অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনালে রাজ্য সরকার ২২১ জন সদস্য নিয়োগ করেছে৷ সম্ভবত আগামী মাস থেকে শুরু হয়ে যাবে এই প্রক্রিয়া৷ নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ জনৈক আধিকারিক এ তথ্য দিয়েছেন৷

আধিকারিকটি জানান, বিচারপ্রক্রিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এক বছরের জন্য নিয়োজিত হবেন৷ তাঁদের আগামী ১ অক্টোবর দায়িত্ব নেওয়ার কথা৷ তিনি জানান, আগামী ২৮ এবং ২৯ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর ওইসব আধিকারিকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে৷ নতুন নিয়োগের ফলে অসমে প্রায় ২০০টি ফরেনার্স ট্রাইবুনাল কর্মক্ষম হবে৷ এক জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি জানান, ফরেনার্স ট্রাইবুনালের সদস্যপদের জন্য মোট ২০০০ জন আবেদন জানিয়েছিলেন৷ এঁদের মধ্যে ২২১ জনকে বাছাই করা হয়েছে৷ তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ রয়েছেন কর্মরত আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত আমলা এবং বিচারবিভাগীয় উচ্চ ও পদস্থ আধিকারিক৷

৩১ আগস্ট প্রকাশিত চূড়ান্ত এনআরসি থেকে বাদ পড়া মানুষজনকে ‘নাগরিকত্ব’ সংক্রান্ত দাবি নিষ্পত্তির জন্য ১২০ দিন অর্থাৎ চার মাসের মধ্যে ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে হবে৷ তিনি আরও জানান, অসমে এর আগে ১০০টি ফরেনার্স ট্রাইবুনাল কর্মক্ষম ছিল৷ এনআরসি-র পর রাজ্য সরকারের নতুন করে ৪০০টি ফরেনার্স ট্রাইবুনাল স্থাপন করার কথা৷

প্রসঙ্গত, প্রকাশিত চূড়ান্ত এনআরসি থেকে মোট ৩,১১,২১,০০৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে৷ বাদ পড়েছেন ১৯,০৬,৬৫৭ জন৷