পে কমিশন যা সুপারিশ করেছে, মেনে নেব : মমতা

কলকাতা, ১৩ সেপ্টেম্বর (হি.স):  পে কমিশন যা সুপারিশ করেছে, মেনে নেব বলে শুক্রবার ঘোষণা করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি জানান, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করতে বাড়তি ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে । আজ নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের কর্মচারী ফেডারেশনের সাংগঠনিক সমাবেশ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ আজ পে কমিশনের প্রথম পর্যায়ের রিপোর্ট পেয়েছি । পে কমিশন যা যা সুপারিশ করবে আমরা তা মেনে নেব।’

এদিন তৃণমূলের কর্মচারী ফেডারেশনের সাংগঠনিক সমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কেন্দ্রের পেনশন স্কিম নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।
ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে নাম না করে বাম সরকারের সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।   তিনি বলেন, ‘গত আট বছরে সরকারি কর্মচারীদের ৯৩% ডিএ বৃদ্ধি করেছে রাজ্য সরকার।  ‘ওই সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘রাজ্যের কর্মীদের ন্যূনতম বেসিক মাইনে বেড়ে করা হল ১৭ হাজার ৯৯০ । ৬ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে গ্র্যাচুইটি   হল ১০ লক্ষ টাকা । আমি জানি আপনাদের সবার মধ্যে আশা কাজ করে । কেউ কেউ তো লিখেও দেয়। আমি আগে লিখে দিলাম । একটা রিপোর্ট জমা পড়ে, তার পর সেটা স্টাডি করতে হয়, তার পর ক্যাবিনেটে পাশ করাতে হয়, তার প্রসেস করতে হয় । আমি দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন নই । আমি আজকেই বলে দিতে পারতাম । আমি আজকেই যেটা করতে পারতাম । তা আরও কয়েকদিনের জন্য অপেক্ষা করছি। ’

এদিন মমতা বলেন, ‘ষষ্ঠ বেতন কমিশনের রিপোর্টের প্রথম অংশের রিপোর্ট পেয়েছি আজ । আমি নীতিগতভাবে বলছি, ওনারা যে সুপারিশ করেছেন, আমরা মেনে নেব । যা যা সুপারিশ করেছে, নিউ পে ম্যাট্রিক্স সুপারিশ করা হয়েছে । ব্যান্ড পে এবং গ্রেড তুলে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে ।

আমি অর্থনীতিটা কম বুঝি । ডিএ প্লাস বেতন কমিশন, আগে ১০০ টাকা বেসিক পে ছিল, ডিএ যুক্ত হলে আপনি পেলেন ১২৫ । এরপর ডিএ ও পে কমিশন মার্জার হলে তখন এটা হবে ২৫৭ । অর্থাৎ ১২৫ থেকে ২৫৭-য় দাঁড়াবে । ওনারা যেটা করেছেন, নূন্যতম বেসিক পে ৭০০০টাকা ছিল, সেটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৭,৯৯০ । এছাড়াও এইচআরও, হাউস রেন্ট এসব আমার উপরে ছেড়ে দিন । পে কমিশন চলবে । আমি কমাবো না । সুপারিশ মানতে গেলে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হবে।’ তিনি জানান, ‘গ্র্যাচুইটি ৬ লাখ থেকে বাড়িয়ে মিনিমাম আট লাখ টাকা করা হয়েছে।’

সরকারি কর্মচারীদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বস্ত করেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করব । পয়লা জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কাঠামো চালু করার চেষ্টা করব । মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান সরকারি কর্মচারীরা। মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, কী খুশি তো ? জবাব আসে, হ্যাঁ । বলেন, ২৩ তারিখ ক্যাবিনেট মিটিং আছে । তারপর প্রসিডিওর আছে । এরমধ্যে কোর্টের কেসটাও দেখে নেব। যখন বলেছি করব এবং সুপারিশ মানব, আপনারা ভরসা রাখুন । আমি চেষ্টা করব ১ জানুয়ারি থেকে এটা বাস্তবায়নের জন্য । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন, প্রতিবছর কিন্তু আপনাদের মাইনে বাড়ে । সরকারকে যত দেবেন, এই সরকার আপনাদের ঢেলে দেবে । আপনারা সরকারের বড় স্তম্ভ । ভরসা রাখুন ।

২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর গঠন করা হয়েছিল গঠন করা হয়েছিল ষষ্ঠ বেতন কমিশন । কিন্তু সুপারিশ পেশের মেয়াদ কয়েকবার বাড়ায় রাজ্য সরকার । পাঁচ দফায় বাড়ানো হয়েছে মেয়াদ । দীর্ঘদিন ধরে বেতনবৃদ্ধি ঝুলে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছিল সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে । লোকসভা ভোটেও সেই ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে । পোস্টাল ব্যালটে সব জায়গাতেই শাসক দলের চেয়ে এগিয়ে ছিল বিজেপি । সরকারি কর্মীরা অভিযোগ করেছিলেন, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার সময় দ্বিগুণ বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস । বেতন কমিশনের সুপারিশ তো বটেই, বকেয়া রয়েছে মহার্ঘ ভাতাও । কর্মীদের ক্ষোভের কথা বুঝেই এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন, বাম জমানায় মহার্ঘ ভাতা বেড়েছিল ৩৫ শতাংশ । তাঁর ৮ বছরে বেড়েছে ৯২ শতাংশ । একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পেনশন প্রকল্প নিয়েও তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । দাবি করেছেন, কর্মীদের টাকা কেটেই ডিএ পুষিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।  

বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব সিপিএমের ছাতার তলায় থাকা কর্মচারী সংগঠন কোঅর্ডিনেশন কমিটি, কংগ্রেসের কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ বা বিজেপির সরকারি কর্মচারী পরিষদ । গত ২০১৫ সালের নভেম্বরে এই বেতন কমিশন গঠিত হয়েছিল । তার মেয়াদ বাড়াতে বাড়াতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ২০১৯-এর শেষ পর্যন্ত । দেশের ইতিহাসে কোনও বেতন কমিশনের কার্যকাল এত দীর্ঘায়িত হয়নি ।