গরিবের ক্ষতি হবে না, আসছে নতুন প্রকল্প আয়ুষ্মান ত্রিপুরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ সেপ্ঢেম্বর৷৷ ভুলে ভরা বিজ্ঞপ্তি৷ তাই, সংশোধনের পর কার্যকর হবে স্বাস্থ্য পরিষেবায় নয়া শুল্ক৷ তবে গরিবদের জন্য ওই শুল্ক দিতে হবে না৷ কারণ, আয়ুষ্মাণ ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে বিনামূল্যেই হবে তাঁদের চিকিৎসা৷ কেবল, এপিএল-দের চিকিৎসায় হাসপাতালে ফি দিতে হবে৷ তবুও, পূর্বের ফি-র তুলনায় ৩১ শতাংশ হ্রাস পাবে নয়া নিয়মে৷ বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে এভাবেই স্বাস্থ্য পরিষেবায় শুল্ক বা ফি বৃদ্ধি নিয়ে সমস্ত সমালোচনার জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ সাথে ঘোষণা করেছেন, আয়ুষ্মান ত্রিপুরা নামে নতুন একটি প্রকল্প শুরু করতে চলেছে রাজ্য সরকার৷ এতে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ২০১১ সালের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জাতিগণনা অনুসারে যে সব গরিব পরিবার বাদ পড়েছে তাদের স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা প্রদান করা৷


গত কয়েকদিনে ত্রিপুরায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় ফি বৃদ্ধি নিয়ে তোলপাড় হয়ে উঠেছিল রাজ্য রাজনীতি৷ বিরোধীরা মানুষের ভাবাবেগে ওই বিষয়টির ভয়াবহ তুলে ধরতেও সমর্থ হয়েছিলেন৷ স্বাভাবিকভাবেই তাতে চাপে পড়ে যায় শাসকদল বিজেপি৷ কিন্তু, আজ বিরোধীদের সমস্ত সমালোচনার মোক্ষম জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ওই ইস্যুতে স্পষ্টীকরণ দেওয়ার পাশাপাশি চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণও করেছেন৷


এদিন তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনটি ক্যাটাগরি চালু করা হচ্ছে৷ এর মাধ্যমে অন্ত্যোদয়ভুক্তগণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন৷ আগে সকল অংশের জনগণকেই হাসপাতালের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিষেবা নেওয়ার জন্য অর্থ দিতে হত বলে জানান তিনি৷ তাঁর দাবি, ফি বৃদ্ধি নিয়ে এখনও সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি৷ ফলে এ-নিয়ে বিরোধী দল অহেতুক অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে৷ তাঁর কথায়, সরকারের প্রকৃত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োগ সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে বিরোধী দলের আন্দোলন ও প্রচার গণতন্ত্রের পক্ষে ঠিক নয়৷ তিনি এ-সব অপপ্রচার সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান৷


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পরিষেবায় শুধুমাত্র এপিএলভুক্তদেরই ফি প্রদানের আওতায় আনা হয়েছে৷ সেক্ষেত্রেও ১২টি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে ফি হ্রাস করা হয়েছে৷ তাঁর কথায়, প্রায়োরিটি হাউস হোল্ড হিসাবে নতুন একটি ক্যাটাগরি চালু করা হয়েছে৷ সেই ক্যাটাগরিতেও ১৪৮টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে ১৩১টি ক্ষেত্রেই ফি কমানো হয়েছে৷ তাঁর দাবি, গড়ে ৩৫ শতাংশ ফি হ্রাস পেয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী এদিন অভিযোগ করেন, পূর্বতন সরকারের সময়কালে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে কোনও নিয়মকানুন বা পদ্ধতি মানা হয়নি৷ ফলে বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই বকেয়া পড়ে রয়েছে৷ বিভিন্ন হাসপাতালে আগের বকেয়া হিসাবের তথ্য তুলে তিনি বলেন, এর ফলে রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মোট ২৮৬টি বিভিন্ন টেস্টের মধ্যে আগে ১৪৮টি টেস্টের জন্য চার্জ বলবৎ ছিল৷ এর মধ্যে অন্ত্যোদয়ভুক্ত পরিবারের কাছ থেকেও চার্জ নেওয়া হত৷ তাঁর আরও অভিযোগ, ২০১১ সালের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জাতি গণনা অনুযায়ী আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কার্ড দেওয়া নিয়েও গরিব জনগণকে বঞ্চিত করেছিল পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার৷


মুখ্যমন্ত্রী জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কার্ড থাকলে একজন গরিব মানুষ চিকিৎসার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সহায়তার মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিমার টাকা পাবেন৷ চিকিৎসা প্যাকেজের পর বাড়তি টাকা স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা যায়৷ তাঁর মতে, হাসপাতালে ন্যূনতম রেজিস্ট্রেশন ফি চালু হলে রোগীর প্রকৃত তথ্য যেমন জানা যাবে তেমনি রোগীর ক্যাটাগরি চিহিণত হলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিও হ্রাস পাবে৷ প্রকৃত কতজন রোগী হাসপাতালের খাবার খেলেন বা খাবারের জন্য কত টাকা ব্যয় হয়েছে তার হিসাবেও স্বচ্ছতা থাকবে৷


এদিন তিনি বলেন, হাসপাতালের ফি বৃদ্ধির বিষয়টি এখনও কার্যকর হয়নি৷ কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলিকে সংশোধন করে চালু করার প্রক্রিয়া চলছে৷ সম্প্রতি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সার্বিক ত্রুটি বিচ্যুতি দূর করে এবং এনএইচএম-এর বিভিন্ন সুবিধাদি যুক্ত করেই নতুনভাবে তা কার্যকর করা হবে যাতে কোনওভাবেই রাজ্যের গরিব অংশের মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, দৃঢ়তার সাথে জানান তিনি৷


মুখ্যমন্ত্রী আজ ঘোষণা করেন, আয়ুষ্মান ত্রিপুরা প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে ত্রিপুরা সরকার৷ রাজ্য সরকারের নতুন এই প্রকল্পে ৮৪ হাজার গরিব পরিবারের ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার লোক সরাসরি উপকৃত হবেন৷ তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, রাজ্য সরকার গরিব জনগণের উন্নতিকল্পে সম্পর্ণভাবে দায়বদ্ধ৷ কোনওভাবেই যাতে রাজ্যের গরিব অংশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হন সরকার সেই দিশা নিয়েই কাজ করছে৷ সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ রাজ্যের গরিব জনগণের জন্য৷ তাঁর দাবি, ওই ৮৪ হাজার পরিবার পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন৷ তাই, তাঁদের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ঠাঁই হয়নি৷
জিবিপি হাসপাতালে জনৈক পরেশ মদকের মৃত্যু সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের যে বিধি এখনও চালু হয়নি আর এর ফলে মদকের মৃত্যু হয়েছে এ-ধরনের প্রচার সঠিক নয়৷ অপারেশন থিয়েটারে যাবার আগে তার উচ্চ রক্তচাপ ছিল৷ ফলে তাঁকে অ্যানেসথেশিয়া করা যায়নি৷