রাজ্যে বহু খুনের বিচার হয়নি, সমস্ত ফাইল খুলবে সরকার : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ সেপ্ঢেম্বর৷৷ খুনের ঘটনায় বিচার হয়নি এমন বহু মামলার ফাইল কবর খুঁড়ে বের করবে রাজ্য সরকার৷ ওই ঘটনাগুলির পূণ: তদন্তের প্রস্তুতির জন্য কমিটিও গঠন করা হয়েছে৷ সোমবার বিধানসভায় এ-কথা দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তাঁর দাবি, অতীতে রাজ্যে এমন অনেক খুনের ঘটনা থানায় নথিভুক্ত হয়নি৷ তাই, বিচার হয়নি ওই সমস্ত খুনের মামলায় পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ত্রিপুরায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তুলনামূলকভাবে অনেক উন্নতি হয়েছে৷ আইন-শৃঙ্খলা ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে চাপে ফেলতে গিয়ে উল্টো বিরোধীদের আজ বিধানসভায় দিশেহারা বলেই মনে হয়েছে৷


গত ৩০ আগস্ট ত্রিপুরা বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল৷ আজ বিধানসভা অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপাস্থাপন করেছেন৷ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তুলনামূলকভাবে অনেক উন্নতি হয়েছে৷ ২০১৭ সালের সঙ্গে তুলনা করলে রাজ্যে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা অনেক হ্রাস পেয়েছে৷
এদিন তিনি জানান, ২০১৭-এর তুলনায় ২০১৮ সালে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে৷ পণের জন্য অত্যাচারের ঘটনা হ্রাস পেয়েছে ১২ শতাংশ৷ ধর্ষণের ঘটনা হ্রাস পেয়েছে ৫ শতাংশ৷ মহিলাদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির ঘটনা হ্রাস পেয়েছে ১৮ শতাংশ৷ তেমনি, পণের জন্য মৃত্যুর ঘটনা হ্রাস পেয়েছে ৪৫ শতাংশ৷ মুখ্যমন্ত্রী তথ্য দিয়ে জানান, ২০১৯ সালে পোক্সো আইনে ৮২টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং এই মামলায় ৮৪ জন গ্রেফতার হয়েছে৷


তিনি বলেন, এ-বছর জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে খুন হয়েছেন ৩১ জন৷ সেই তুলনায় ২০১৭ সালে এই সময়কালে রাজ্যে খুন হয়েছিলেন ৩৫ জন৷ এদিকে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধের তথ্যও বিধানসভায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি জানান, ২০১৭ সালে এই সময়ের মধ্যে পণের জন্য হত্যার ঘটনা ঘটেছিল ২৭টি৷ ২০১৯ সালের এই সময়ের মধ্যে পণের জন্য হত্যার ঘটনা ঘটেছে ২১টি৷ এই সময়ে ২০১৭ সালে গণধর্ষণের ঘটনা হয়েছিল ৯-টি৷ ২০১৯ সালে এমন ঘটনা ঘটেছে ৫-টি৷ তিনি বলেন, যে-সব অপরাধের ঘটনা বিধানসভায় উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে সোমা দেবনাথের ঘটনা খুবই নিন্দনীয় এবং দুঃখজনক৷ এই ঘটনার অভিযুক্ত সমীর দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ রানিরবাজার, খোয়াই, আমতলি, কৈলাসহর প্রভৃতি স্থানে অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে৷ এ-সব অপরাধের ঘটনা বন্ধ করতে সমাজকে শুধরাতে হবে৷ এজন্য সবাই মিলে একসাথে কাজ করতে হবে, বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷


আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী আগরতলার সদর মহকুমাশাসক সুখরাম দেববর্মা খুনের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি৷ এমন-কি পুলিশ চার্জশিটও পেশ করতে পারেনি৷ বিধায়ক মধুসূদন সাহা খুন হন ২০০১ সালে৷ আর আসামী গ্রেফতার হয়েছে ২০০৩ সালে৷ তিনি বিদ্রুপ করে বলেন, প্রাক্তন মন্ত্রী বিমল সিনহা হত্যা মামলা কৈলাসহর আদালতে চলছিল৷ এই মামলা আগরতলায় ট্রান্সফার করতে হয়েছে৷ কেন এটা করা হয়েছিল, বিরোধীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ণ ছুঁড়ে দেন তিনি৷


মুখ্যমন্ত্রী সাব্রুমের মনুবাজারে আয়োজিত জনতার দরবারের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে ৮টি খুনের ঘটনায় ন্যায় চেয়ে মানুষ এসেছিলেন৷ একটি খুনের ঘটনা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যায় ঘটনা ঘটলেও কোন মামলা হয়নি৷ তিনি বলেন, একটি কমিটি ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে৷ সবগুলি মামলাই পুনরায় তদন্ত করা হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখন যে কেউ থানায় গেলে তাঁরা অভিযোগ লিপিবদ্ধ করতে পারেন৷


বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী এদিন দাবি করেন, ত্রিপুরায় সাজার হার অনেক বেড়েছে৷ তা জাতীয় স্তরের উপরে নিয়ে যেতে হবে৷ পাশাপাশি অপরাধের ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে৷ সাথে যোগ করেন, ত্রিপুরা সরকার মহিলাদের উপর অত্যাচার বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর৷